প্রকাশিত: । সম্পাদিত: রাত ০৮ঃ০৫
নিজস্ব প্রতিবেদক, সিটিজিবার্তা২৪ডটকম
চট্টগ্রাম : নগরীর সিআরবিতে ২০১৩ সালের ২৪ জুন শিশুসহ জোড়া খুনের অভিযোগপত্রভূক্ত আসামি ছাত্রলীগের বহিস্কৃত নেতা সাইফুল আলম লিমনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব।
বুধবার সন্ধ্যায় নগরীর গোয়ালপাড়া এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
র্যাব-৭ এর সহকারি পরিচালক এএসপি সাহেদা সুলতানা সিটিজিবার্তা২৪ডটকমকে বিষয়টি মুঠোফোনে বলেন ‘অভিযান এখনো চলমান রয়েছে। কিছুক্ষণ পর বিস্তারিত বলতে পারব। তাই এখনই বলতে পারছিনা লিমনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে কিনা।’
র্যাব বিয়ষটি নিয়ে লুকোচুরি করলেও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে লিমনের মুক্তি দাবি করে বিবৃতি দেয়া হয়েছে সন্ধ্যায়। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি আলমগীর টিপুৃ লিমনের মুক্তি দাবি করে এক বিবৃতিতে বলেন, ‘বুধবার সন্ধ্যায় মিথ্যা মামলায় চবির সাবেক মেধাবী ছাত্র কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সহ-স¤পাদক সাইফুল আলম লিমন-কে তার বাসা থেকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ এর তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জ্ঞাপন করছি। অবিলম্বে সাইফুল আলম লিমন এর মুক্তি ও সাইফুল আলম লিমন সহ সকলকে এই রাজনৈতিক হয়রানীমূলক ও মিথ্যা মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার আহবান জানিয়েছে চবি ছাত্রলীগ।’
সিআরবিতে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে শিশুসহ দু’জন নিহতের ঘটনায় যুবলীগের কেন্দ্রিয় উপ অর্থ সম্পাদক নেতা হেলাল আকবর চৌধুরী বাবব ও বহিস্কৃত ছাত্রলীগ নেতা সাইফুল আলম লিমনসহ যুবলীগ-ছাত্রলীগের ৬২ জনের বিরুদ্ধে গত সোমবার আদালতে অভিযোগপত্র জমা দিয়েছে ডিবি। অভিযোগপত্রে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি আলমগীর টিপু,নগর যুবলীগ নেতা খোকন চন্দ্র তাতীকেও অভিযুক্ত করা হয়েছে।
আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০১৩ সালের ২৪ জুন সিআরবিতে এক কোটি ১০ লাখ টাকার টেন্ডার নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে বাবর ও লিমনের অনুসারীদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে যুবলীগের কর্মী সাজু পালিত (২৮) ও শিশু আরমান (৮) নিহত হয়। এঘটনায় আদালতে জমা দেয়া মামলার অভিযোগপত্রে বাবর ও লিমনসহ মোট ৬২ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। সাক্ষী রাখা হয়েছে ৪০জনকে। যদিও সংঘর্ষের ঘটনায় কোতোয়ালি থানার উপ পরিদর্শক (এসআই) মহিবুর রহমান বাদী হয়ে বাবর-লিমনসহ ছাত্রলীগ-যুবলীগের ৮৭ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতপরিচয় ৩০ থেকে ৪০ জনকে আসামি করে নগরের কোতোয়ালি থানায় মামলাটি করেন। পরে নিহত সাজু পালিতের মা মিনতি পালিত বাদী হয়ে অজিত বিশ্বাসকে আসামি করে আদালতে অপর একটি হত্যা মামলা করেন।
তবে অভিযোগপত্রে বাবর-লিমনসহ ৬২ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ পত্র দিলেও মোট ২৬ জনকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। আবার এজাহারে না থাকলেও শাহ আলম নামে একজনে অভিযোগপত্রে আসামি করা হয়েছে। এদের মধ্যে সাইফুল আলম লিমনকে এক নম্বর, লিমনের অনুসারি চবি ছাত্রলীগ সভাপতি আলমগীর টিপুকে সাত নম্বর ও অপর অভিযুক্ত হেলাল আকবর চৌধুরী বাবরকে ৩৪ নম্বর আসামি করা হয়েছে। লিমন এই মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে এতদিন জামিনে ছিলেন।
অভিযোগপত্রভুক্ত ৬২ আসামির মধ্যে পলাতক রয়েছেন ১২ জন। গ্রেপ্তার হয়ে জামিনে রয়েছেন ৪৮ জন। বর্তমানে কারাগারে আটক আছেন আসামি অমিত মুহুরী ও শিমুল প্রসাদ। তবে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্রগুলো উদ্ধার করা যায়নি।
ডিবির তদন্তে উঠে এসেছে, রেলের ১ কোটি ১০ লাখ টাকার দরপত্র নিয়ে বাবর ও লিমনের অনুসারীদের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার করা নিয়ে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের ঘটনার পর পৌনে দুই বছর মামলাটির তদন্ত করেন কোতোয়ালি থানার সাবেক উপ পরিদর্শক (এসআই) মো. কামরুজ্জামান। গত এপ্রিল মাসে এটি তদন্তের জন্য নগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের কাছে পাঠানো হয়। প্রথমে নগর ডিবির সাবেক পরিদর্শক জাহিদুল ইসলাম তদন্ত করেন। সর্বশেষ তদন্ত করে অভিযোগপত্র জমা দেন ডিবির পরিদর্শক আতিক চৌধুরী।
হেলাল আকবর চৌধুরী বাবর নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক মেয়র এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর অনুসারী আর সাইফুল আলম লিমন নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিনের অনুসারী হিসেবে পরিচিত । জোড়া খুনের পর বাবর গ্রেপ্তার হলে তাকে যুবলীগের কেন্দ্রিয় কমিটির সদস্য পদ থেকে এবং লিমন গ্রেপ্তার হলে তাকে ছাত্রলীগের কেন্দ্রিয় কমিটির সহ সম্পাদকের পদ থেকে বহিস্কার করে নিজ নিজ সংগঠনের কেন্দ্রিয় কমিটি। লিমন আর স্বপদে ফিরতে না পারলেও কিন্তু বাবর এক বছরের মধ্যে যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে পদোন্নতি পেয়ে উপ-অর্থ বিষয়ক সম্পাদক হন।
সিটিজিবার্তা২৪ডটকম/জেএ/নিঃপ্র/এমকে
সিটিজি বার্তা ২৪ এ প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য লিখুন
