২১ বছর পর ক্ষমতায় এসে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শুরু করেছি, রায়ও কার্যকর করেছি

মঙ্গলবার, ২৪ নভেম্বর ২০১৫  সময় : 12 : 01 AM 

PM_Parliamentসিটিজিবার্তা২৪ডটকম  : বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধী নেই’ বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের জোরেই সদ্য ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত যুদ্ধাপরাধীরা এমন মন্তব্য করেছিল বলে সংসদকে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সোমবার জাতীয় সংসদ ভবনে দশম জাতীয় সংসদের ৮ম অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্য প্রদানকালে এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। শেখ হাসিনা  বলেন, ২১ বছর পর ক্ষমতায় এসে জাতির পিতার হত্যাকারীদের বিচার ও রায় কার্যকর করেছি। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শুরু করেছি, রায়ও কার্যকর করছি। যুদ্ধাপরাধী রাজাকার আলবদররা যে অপরাধ করেছে সেই অপরাধের সীমা নেই। আমরা মনে করি, এই বিচার ও রায় কার্যকরের মধ্য দিয়ে একাত্তরে স্বজনহারা যারা আছেন তারা শান্তি পাবেন। আমরা যদি এ বিচার করতে না পারি দেশ অভিশাপ মুক্ত হবে না। তাই  যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ও রায় কার্যকরের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ অভিশাপ থেকে মুক্তি পাচ্ছে।

তিনি  বলেন, আমরা যুদ্ধাপরাধীর বিচার করতে পেরেছি। দু’জন বলেছিল বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধী নেই, তারা জিয়াউর রহমানের জোরেই বলেছিল। আর তাদের জেনারেল এরশাদের আমলে রাজনৈতিক দল ও রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সুযোগ দেওয়া হয়।   প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা জনগণের ভোটের অধিকার অর্জন করে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত করে আজ দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের পথে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়েছি। বাংলাদেশের স্বাধীনতায় যারা বিশ্বাস করতো না, বাংলাদেশকে যারা পরাধীন করে রাখতে চেয়েছিল, যারা বাংলাদেশের বিজয় মেনে নিতে পারেনি তারাই বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেছিল। যারা হানাদার বাহিনীকে সহায়তা করেছিল তাদের সহায়তায় বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা হয়েছিল। তারপর ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে এক রাতে ১০ জনকে পর্যন্ত ফাঁসি দেওয়া হয়েছিল। সামরিক ক্যু হয়েছে, বিচারের নামে প্রহসন করে সামরিক অফিসারদের হত্যা করা হয়েছে। ২১ বছর পর ক্ষমতায় আসলে সরকার যে জনগনের সেবক মানুষ তা প্রথমবারের মতো উপলব্ধি  করেছিল।   তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্য অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছিল, বিচারও শুরু হয়েছিল। কিন্তু দুর্ভাগ্য, ৭৫ এর পর হত্যাকান্ডের পর রাষ্ট্রীয় পতাকা তাদের হাতে তুলে দেওয়া হয়। বঙ্গবন্ধুর খুনীদের বিভিন্ন দূতাবাসে চাকুরি দিয়ে সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। এরশাদের সময় তাদেরকে প্রতিযোগিতা এমনকি রাষ্ট্রপতি পদে প্রতিযোগিতার সুযোগ দেওয়া হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, যুদ্ধাপরাধের বিচার শেষ করতে না পারলে এই দেশ অভিশাপমুক্ত হতে পারবে না। এই বিচারের রায় কার্যকর হচ্ছে বলে বাংলাদেশ অভিশাপমুক্ত হতে পারছে। অভিশাপমুক্ত হতে পারছে বলেই বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন হচ্ছে।  তিনি বলেন, দূর্ভাগ্য হলো ২০১৩ সালে নির্বাচন ঠেকাতে বিএনপি আন্দোলনের নামে শত শত মানুষকে হত্যা করেছিল। নির্বাচনকে বন্ধ করতে চেয়েছিল। বিএনপি নেত্রী ঘোষণা দিলেন, এই সরকারকে উৎখাত না করে ঘরে ফিরবেন না। উনি থাকলেন অফিসে। প্রায় ৬৫ জন মানুষ নিয়ে উনি ৩ মাস গুলশান অফিসে থাকলেন। উনি এখন পর্যন্ত অবরোধ প্রত্যাহার করেন নাই। অবরোধ এখনও আছে। শেখ হাসিনা বলেন, অবরোধের নামে উনি প্রায় ৫০০ জন মানুষ হত্যা করলেন। সাধারণ জনগণ যারা বাসে চড়ে, ট্রেনে চড়ে, প্রাইভেট কারে চড়ে উনার হাত থেকে কোনোকিছুই বাদ যায়নি। প্রায় ২ হাজার ৫৮৩টি গাড়ি উনি পুড়িয়েছে। ১ হাজার ১৩৮টি প্রাইভেট গাড়ি, ১৮টা রেল, ৮টা লঞ্চ পুড়িয়েছে। এইভাবে ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে বাংলাদেশে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আন্দোলনের নামে সাধারণ মানুষ হত্যা করা, সাধারণ মানুষের সম্পদ ধ্বংস করা রাজনীতি হয় কীভাবে? এরপর উনি বিদেশ গেলেন, তারপর দেখি বাংলাদেশে বিদেশি হত্যা হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যথেষ্ট সক্রিয় এবং তারা কাজ করে যাচ্ছে।  তিনি বলেন, দেশে আইএস আছে, জঙ্গি আছে-এ ধরণের ঘোষণা দেওয়ার একটা পায়তারা চলছিল। যে সব দেশ বাংলাদেশে আইএস আছে বলার চেষ্টা করছে তাদের দেশের অবস্থার তুলনায় ৫৪ হাজার বর্গমাইলের দেশে ১৬ কোটি মানুষের বসবাস। সেখানে আমরা শান্তিপূর্ণ পরিবেশ রাখতে পেরেছি। সেখানে খালেদা জিয়ার আমলে প্রতিদিনই খুন-খারাবী লেগেই থাকতো। সেখান থেকে আমরা ধীরে ধীরে শান্তিপূর্ণ অবস্থার দিকে যাচ্ছি। পৃথিবীর অনেক মুসলিম অধ্যুষিত দেশেই কোন না কোনো অস্থিরতা সৃষ্টি করা হচ্ছে।

একমাত্র বাংলাদেশেই এখন অনেকটা নিরাপদ আছে।  বাংলাদেশে আইএস বা জঙ্গিরা যেন আশ্রয় না পায় সে জন্য সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যে যত ষড়যন্ত্র করুক বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা রোধ করতে পারবে না। আমরা নিম্নমধ্যম আয়ের দেশ নয়, উচ্চ আয়ের দেশেই পরিণত হব।  তিনি বলেন, হরতাল-অবরোধ সত্তেও আমরা ৬ দশমিক ২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে সক্ষম হয়েছি। প্রায় দেড় কোটি বেকারকে আমরা কর্মসংস্থান দিতে সক্ষম হয়েছি। ৩৮ লাখের মতো শ্রমিককে বিদেশে পাঠিয়েছি। ১০০ অর্থনৈতিক অঞ্চল সারা বাংলাদেশে করবো। সমগ্র বাংলাদেশব্যাপী এই শিল্প গড়ে তুলতে চাই। তাহলেই কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। যে এলাকায় যে পণ্য উৎপাদন হয়, সেগুলোকে সংরক্ষণ করার বিষয়ে কাজ করবে।

দারিদ্র্যের হার ১৪ ভাগে নামিয়ে আনবো। এখন আর কেউ বাংলাদেশকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করতে পারে না।  প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশকে আমরা জঙ্গিদের আস্থানা হতে দেবনা। তিনি বিদেশি কূটনীতিকদের প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন,  কিছু দেশ একসাথে বসে এমনকি আমাদের মন্ত্রীদের সাথে বসে বলে- বাংলাদেশে আইএস আছে। তাদেরকে বলতে চাই, অল্প ভুখন্ডে যে বিশাল মানুষ বসবাস করছে সেখানে আমরা শাস্তিপুর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে পেরেছি। তিনি ২১ আগষ্টের গ্রেনেড হামলাসহ বিভিন্ন ঘটনা উল্লেখ করে বলেন, খালেদা জিয়ার সময় খুন খারাবি লেগেই থাকতো। সেই অবস্থা থেকে দেশকে মুক্ত রাখতে সক্ষম হচ্ছি। আইন শৃংখলা বাহিনী নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

সিটিজি বার্তা ২৪ এ প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য লিখুন

জন মন্তব্যকারী




Leave a Reply

Inline