ভালোবাসার ফুল দিও শহীদেরও চরণে

আবু সাঈদ সুমন ।  সিটিজিবার্তা২৪ডটকম

ভালোবাসার ফুল দিও শহীদেরও চরণে

ভালোবাসার ফুল দিও শহীদেরও চরণে

চট্টগ্রাম : সময়ের সহসী তরুন তরুনীদের কাছে অনুরোধ থাকবে; ভালোবাসার ফুল দিও শহীদেরও চরণে।।

গ্রেগরী ক্যালেন্ডার অনুযায়ী দিনটি ছিল ৮৩’র মধ্য ফেব্রুয়ারী, আর বাংলা দিনপুঞ্জির হিসাবে সেদিন ছিল পহেলা ফালগুন। জাফর, জয়নাল, আইয়ুব আর কাঞ্চনরা সেদিন বসন্ত বরনের জন্য প্রেমিকার হাত ধরে চারুকলার বকুল তলায় যায়নি। সে দিনের তরুনীরাও হলুদ শাড়ী পরে, খোপায় ফুলের মালা জড়িয়ে বসন্ত উৎসবে যায়নি। তার সবাই জমায়েত হয়েছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলাভবনের বটতলায়। সেখান থেকে প্রতিবাদী মিছিল নিয়ে তারা যাবে সচিবালয়ে, সামরিক স্বৈরশাসক এরশাদ কর্তৃক মজিদ খানকে দিয়ে প্রনীত গনবিরোধী শিক্ষানীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে ।

পলাশ-শিমুলের চাদরে মোড়া ফাগুনের স্নিগ্ধ প্রকৃতির মাঝে সেই মিছিলে লাঠিচার্জ, কাঁদানে গ্যাস, রাবার বুলেট আর রায়ট ভ্যানের গরম জলে উত্তপ্ত হয় আকাশ বাতাস। সামরিক স্বৈরশাসকের ঘাতক পুলিশের তপ্ত বুলেটের আঘাতে ৫২’র পর আবারও বসন্তের ‘রক্ত-পলাশ শিমুল’ রক্তাক্ত হলো শহীদের তাজা খুনে।

মৃত্যুর হিম-শীতল ছায়ায় হারিয়ে গেল কতগুলি নিস্পাপ প্রান। বাদ পড়লো না বাবা-মায়ের সাথে শিশু একাডেমীতে বেড়াতে আসা দীপালি সাহাও।

তারপর থেকে প্রতি বছর এদেশের সংগ্রামী ছাত্র-জনতা দিনটিকে স্বৈরাচার প্রতিরোধ দিবস হিসাবে পালন করতো।

ভালোবাসার ফুল দিও শহীদেরও চরণে

ভালোবাসার ফুল দিও শহীদেরও চরণে

৯০’র গনভুথ্যানের মাধ্যমে সামরিক স্বৈরাচারকে বিদায় করার কয়েক বছরের মধ্যেই আচমকা স্যাঁতস্যাঁতে রসে ভরা এক বুড় শালিক, ফাগুনের এই দিনে পাশ্চাত্য থেকে আমদানী করলো এই তথাকথিত ভ্যালেন্টাই দিবস! সেই সাথে কর্পোরেট বানিজ্য পেয়ে গেল ভালবাসাকে পণ্য বানিয়ে রমরমা ব্যবসা করার এক মওকা!

‘আমি আর তুমি’-র মত চরম স্বার্থপর, সমাজ বিচ্ছিন্ন চেতনা যুব সমাজের মধ্যে চাপিয়ে দিয়ে প্রেম-ভালবাসার মত স্বাভাবিক সম্পর্ককে অতিপ্রাকৃত বিষয়ে পরিণত করে আফিম নেশার মত বুঁদ করে ফেলেছে। এই কৃত্রিম ভালবাসা দিবস আমদানীর মধ্যদিয়ে ওরা ব্যবসা ও রাজনীতি দুটোই ভালোভাবে গুছাচ্ছে।

ভালোবাসার ফুল দিও শহীদেরও চরণে

ভালোবাসার ফুল দিও শহীদেরও চরণে

একদিকে সমাজের সবচেয়ে প্রাণবন্ত লড়াকু অংশ যুব সমাজকে মুক্তির লড়াই থেকে বিচ্ছিন্ন রেখে নির্জীব করে ফেলার চেষ্টা করছে অন্যদিকে স্বৈরাচার প্রতিরোধের দিনটিকে বাণিজ্যের মহোৎসবে পরিণত করছে।

১৪ ফেব্রুয়ারী। এই দিনে সময়ের তরুন-তরুনীদের কাছে অনুরোধ থাকবে, তোমাদের ভালবাসার ফুল দিও জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ও শহীদের চরনেও। যারা আমাদের বাংলাদেশ কে ভালোবাসতে শিখিয়েছে।।




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


CAPTCHA Image
Reload Image