সিটিজিবার্তা২৪ডটকম, চট্টগ্রাম : বিশ্বের শীর্ষ ১০০ কনটেইনার হ্যান্ডলিংকারী বন্দরের মধ্যে পাকিস্তানের করাচি বন্দরকে চার ধাপ পেছনে ফেলে ৭৬ তম স্থানে উঠে এসেছে চট্টগ্রাম বন্দর। ২০০৮-০৯ সালে চট্টগ্রামের অবস্থান ছিল ৯৮, ২০১৩ সালে ৯০, ২০১৫ সালে ৮৭।
আজ শুক্রবার (৭ অক্টোবর) দুপুরে চট্টগ্রাম বন্দরের শহীদ মো. ফজলুর রহমান মুন্সী অডিটোরিয়ামে সনদ হস্তান্তর ও মতবিনিময় অনুষ্ঠানে এ তথ্য জানান লয়েড’স লিস্টের বাংলাদেশ সমন্বয়ক ক্যাপ্টেন জিল্লুর রহমান।
এসময় তিনি লয়েড’স লিস্টের পক্ষে স্বীকৃতির সনদ বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এম খালেদ ইকবালের হাতে তুলে দেন।
লয়েড’স লিস্ট প্রসঙ্গে ক্যাপ্টেন জিল্লুর রহমান বলেন, লয়েড’স লিস্ট ১৭৩৪ সাল থেকে জাহাজ ও বন্দর বিষয়ক খবরাখবর নিয়ে সাপ্তাহিক কাগজ হিসেবে প্রকাশিত হয়ে আসছে। যা এখনো বন্ধ হয়নি। পরে সাপ্তাহিক থেকে দৈনিক হয়। ২০১৩ সালে হার্ড কপি ছাপানো বন্ধ করে অনলাইন ভার্সন প্রকাশ করা হচ্ছে। প্রতিবছর জরিপ করে শীর্ষ ১০০ কনটেইনার পোর্টের তালিকা তৈরি করে আসছে। ২০১৫ সালের কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের ওপর ভিত্তি করে তৈরি তালিকায় চট্টগ্রাম বন্দর ৭৬তম অবস্থানে রয়েছে। করাচি ৮০তম অবস্থানে রয়েছে।
তিনি আশা করেন, চট্টগ্রাম বন্দর যদি এবার ২ দশমিক ২ মিলিয়ন টিইইউএস হ্যান্ডলিং হলে আগামী বছর ৭০ থেকে ৭২তম অবস্থানে চলে আসবে আশাকরি।
নৌপরিবহন মন্ত্রী বলেন, ৩০ লাখ শহীদ ও ৩ লাখ মা-বোনের ইজ্জতের বিনিময় অর্জিত এ দেশ পিছিয়ে থাকতে পারে না। চার দলীয় জোট সরকারের সময় সম্পদ গড়ে বিদেশে অর্থ তহবিল গঠন করা হয়েছে। জঙ্গি রাষ্ট্র কায়েম করতে চেয়েছে। তখন জিডিপি প্রবৃদ্ধি ছিল ৫ দশমিক ৭, এখন ৭ দশমিক ১। তখন ছিল নিম্ন আয়ের গরিব দেশ। এখন নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশ। তখন বিদ্যুৎ ছিল ৩ হাজার ৭০০ মেগাওয়াট। এখন ১৪ হাজার মেগাওয়াট। তখন ছিল খাদ্য ঘাটতির দেশ। এখন খাদ্যে উদ্বৃত্ত, রপ্তানিকারক দেশ। এখন আমাদের রিজার্ভ ৩১ বিলিয়ন ডলার, গড় আয়ু ৭১ বছর, মূল্যস্ফীতি ৫ দশমিক ১১ ভাগ। স্বাস্থ্যসেবা এখন জনগণের দোরগোড়ায়।
মন্ত্রী বলেন, ২০০৮ সালে চট্টগ্রাম বন্দরের রিজার্ভ ছিল ৩ হাজার কোটি টাকা। যা এখন ৯ হাজার কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দর হবে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় একটি বন্দর। খালেদা জিয়ার আমলে মংলা বন্দরকে গলা টিপে হত্যা করা হয়েছিল। সাড়ে ১১ কোটি টাকা লোকসান দিয়েছিল বন্দরটি। আজ ক্যাপ্টেন জিল্লুর রহমান বললেন, লয়েড’স লিস্টে করাচির অবস্থান ৮০তম। আমাদের চেয়ে চার ধাপ নিচে।
সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন নৌমন্ত্রীর উদ্দেশে বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরের যে সাফল্য ও অর্জনের ধারাবাহিকতা তা ধরে রাখতে হবে। এখানে বে টার্মিনালসহ যেসব উন্নয়ন পরিকল্পনা রয়েছে সেগুলো দ্রুত বাস্তবায়নে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। একই সঙ্গে দেশের অর্থনীতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার জন্য বন্দরকে সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা নিতে হবে। প্রধানমন্ত্রীর ভিশন ২০২১ বাস্তবায়ন করতে হলে চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে হবে। এর কোনো বিকল্প নেই।
তিনি রাজনীতিবিদসহ বন্দর সংশ্লিষ্ট সবাইকে সংকীর্ণতা পরিহার করে দেশের স্বার্থে নিজ নিজ অবস্থান থেকে এগিয়ে এসে প্রধানমন্ত্রীর হাতকে শক্তিশালী করার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, ‘বন্দরের কাজে কোনো রাজনীতি থাকতে পারবে না। এক মিনিটের জন্যেও চট্টগ্রাম বন্দর বন্ধ থাক তা চাই না। আলোচনার মাধ্যমে সব সমস্যার সমাধান করতে হবে।’
বন্দর চেয়ারম্যান বলেন, ‘দেশের অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র চট্টগ্রাম বন্দর। ১৯৭৭ সালে মাত্র ছয়টি কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের মধ্য দিয়ে এ বন্দর কনটেইনার পোর্ট হিসেবে আবির্ভূত হয়েছিল। ২০০৮ সালে ১০ লাখ টিইইউস কনটেইনার হ্যান্ডলিং করেছে বন্দর। সাত বছর পর তা দাঁড়িয়েছে ২ মিলিয়ন (২০ লাখ) টিইইউস।’
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী আমাদের বড় স্বপ্ন দেখা শিখিয়েছেন। উনার নির্দেশনা ও নৌমন্ত্রীর নেতৃত্বে বন্দরের বে টার্মিনালসহ সব প্রকল্প বাস্তবায়িত হবে। মিরসরাইয়ে নতুন একটি বন্দর তৈরি করতে চাই আমরা।
তিনি বন্দরের সাবেক চেয়ারম্যান ও নৌপ্রধান নিজাম উদ্দিন আহমেদ লয়েড’স লিস্টে ১১ ধাপ এগিয়ে ৭৬তম হওয়ায় কৃতিত্বের দাবিদার বলে উল্লেখ করেন।
লয়েড’সর স্বীকৃতিকে উদযাপনের লক্ষ্যে আয়োজিত বর্ণাঢ্য এ অনুষ্ঠানে এক মঞ্চে ছিলেন প্রধান অতিথি নৌপরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান, বিশেষ অতিথি সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন, ছয় সংসদ সদস্য এমএ লতিফ, এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী, শামসুল হক চৌধুরী, নজরুল ইসলাম চৌধুরী, মোস্তাফিজুর রহমান ও আবু রেজা মোহাম্মদ নেজামুদ্দিন নদভী। তারা এক সঙ্গে কেক কাটেন।
এসময় অন্যান্যদের মধ্যে আরো উপস্থিত ছিলেন, বিভাগীয় কমিশনার রুহল আমিন, পুলিশের ডিআইজি শফিকুল ইসলাম, বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল এম খালেদ ইকবাল, জেলা প্রশাসক সামসুল আরেফিন, পুলিশ সুপার নুরে আলম মিনা, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (অপরাধ ও অভিযান) দেবদাস ভট্টাচার্যসহ বিভিন্ন পর্ষদের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা।





