বৃহস্পতিবার, ৭ জানুয়ারি, ২০১৬
সিটিজিবার্তা২৪ডটকম
ডেস্ক সংবাদঃ মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জাসদ সভাপতি কাজী আরেফ আহমেদসহ কুষ্টিয়া জেলা জাসদের পাঁচ নেতা হত্যা মামলার তিন আসামিকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদন্ড কার্যকরের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে থাকা মৃত্যুদ-প্রাপ্ত আসামি রাশেদুল ইসলাম ওরফে ঝন্টু, আনোয়ার হোসেন এবং সাফায়াত হোসেন ওরফে হাবিবের মৃত্যুদন্ডকার্যকর করা হবে আজ বৃহস্পতিবার রাতে।
যশোরের পুলিশ সুপার মো. আনিছুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, তিনি ও জেলা প্রশাসক এ ব্যাপারে কারা কর্তৃপক্ষের চিঠি পেয়েছেন। মৃত্যুদ- কার্যকর উপলক্ষে কারাগারের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার শাহজাহান আহম্মেদ বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আদেশ পেয়ে তিন আসামির ফাঁসির রায় কার্যকর করতে ইতোমধ্যে সব প্রস্তূতি সম্পন্ন করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, ফাঁসির রায় কার্যকরে জল্লাদের কাজ করার জন্য যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের অনেক কয়েদি রয়েছে। তবুও এ রায় কার্যকরকে কেন্দ্র করে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে দুজন জল্লাদকে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
১৯৯৯ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার কালিদাসপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে এক জনসভায় সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হন জাসদ সভাপতি কাজী আরেফ আহমেদ, কুষ্টিয়া জেলা জাসদের তৎকালীন সভাপতি লোকমান হোসেন, সাধারণ সম্পাদক ইয়াকুব আলী, স্থানীয় জাসদ নেতা ইসরাইল হোসেন ও সমশের মল। এ ঘটনায় পুলিশের দায়ের করা মামলায় ২০০৪ সালের ৩০ অগাস্ট কুষ্টিয়ার জেলা জজ আদালত ১০ জনের ফাঁসি ও ১২ জনকে যাবজ্জীবন কারাদ-াদেশ দেন।
তবে ওই সময় ফাঁসির ্দন্ডাদেশ পাওয়া ৬ আসামি পলাতক ছিলেন। ২০০৮ সালে এক আপিলে এক ফাঁসির আসামি ও যাবজ্জীবন সাজা পাওয়া ১২ জনকে খালাস দেন হাইকোর্ট। এর বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল করে রাষ্ট্রপক্ষ। আর খালাসের আবেদন করেন মৃত্যুদন্ডাদেশ পাওয়া তিন আসামি রাশেদুল ইসলাম, আনোয়ার হোসেন ও ইলিয়াস হোসেন। হাইকোর্টের রায়ই বহাল রাখেন আপিল বিভাগ। পরে রিভিউ আবেদন করেন রাশেদুল ও আনোয়ার। তবে সেখানেও তাদের ফাঁসির দ- বহাল থাকে। আর কারাগারেই মারা যান ইলিয়াস।
রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণ ভিক্ষা চান রাশেদুল ও আনোয়ার। তবে তা নাকচ করে দেন রাষ্ট্রপতি। ফলে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ফাঁসির রায় কার্যকরের উদ্যোগ গ্রহণ করে।










