সিটিজিবার্তা২৪ডটকম, চট্টগ্রাম : সিইপিজেডে সি-টেক্স গার্মেন্টস’র স্টোর সহকারী জাহাঙ্গীর আলম। বাসায় যাওয়ার জন্য নিমতলা থেকে সিএনজি টেক্সি যোগে অলংকার মোড়ের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিয়েছিলেন গত ১৩ অক্টোবর। পথে ছিনতাইকারী চক্রের চার সদস্য জাহাঙ্গীরের টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়। এসময় চিৎকারের চেষ্টা করলে তাকে স্বাস রোধ করে হত্যা করে নগরীর খুলশী থানার আমবাগান ভাঙ্গারপুল এলাকায় ফেলে যায়।
ওইদিন রাত ৮টায় জাহাঙ্গীরের মরদেহ উদ্ধার করে খুলশী থানা পুলিশ। পরদিন জাহাঙ্গীরের স্ত্রী লায়লা বেগম বাদী হয়ে খুলশী থানায় মামলা দায়ের করেন।
মামলা দায়েরের পর গত বৃহস্পতিবার (২০ অক্টোবর) পাঁচলাইশ জোনের সিনিয়র সহকারী পুলিশ কমিশনারের নেতৃত্বে একদল পুলিশ অভিযান চালিয়ে খুলশী থানার লোহাগাড়া হাউজিং সোসাইটির মহরম আলীর বাসা থেকে হত্যা মামলার প্রধান আসামী মো. নূর হোসেনকে (৩৫) এবং বায়েজিদ বোস্তামী থানা এলাকা থেকে নূর হোসেনের অন্যতম সহযোগী মো. নাছিরকে (২৪) গ্রেফতার করে। এসময় নুর হোসেনের বাসা থেকে জাহাঙ্গীরের ব্যবহৃত কিং স্টার মোবাইল ও বাচ্চার জন্য কেনা গুঁড়ো দুধের প্যাকেট ও খেলনা উদ্ধার করা হয়।
শুক্রবার (২১ অক্টোবর) নুর হোসেন ও নাছিরের স্বীকারোক্তি মতে হত্যাকাণ্ডে অংশ নেওয়া অপর দুই আসামী মো.মহিন উদ্দিনকে (২২) ওয়ার্লেস গেইট থেকে এবং সিএনজি চালক মো.সোহেলকে (৩০) ঝাউতলা এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানান পাঁচলাইশ জোনের সিনিয়র সহকারী কমিশনার জাহাঙ্গীর আলম। পরে সোহেলের স্বীকারোক্তি মতে ঝাউতলা গ্যারেজ থেকে সিএনজি চালিত অটো রিকসা (চট্ট মেট্রো-থ-১২-৩০৪৯) উদ্ধার করে পুলিশ।
জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আসামীরা পেশাদার অপরাধী এবং সক্রিয় ছিনতাই চক্রের সদস্য। তারা পরস্পর যোগসাজসে সিএনজি অটোরিক্সা ব্যবহার করে যাত্রীদের কাছ থেকে নগদ টাকা ও মোবাইল হাতিয়ে নেয়।
তিনি বলেন, গত ১৩ অক্টোবর নিমতলা বিশ্বরোড থেকে জাহাঙ্গীর আলমকে অলংকার মোড়ে পৌঁছে দেওয়ার জন্য সিএনজিতে উঠায়। পথে জাহাঙ্গীরের কাছ থেকে নগদ টাকা এবং মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়। চিৎকার করতে চাইলে আসামীরা তাকে গলা টিপে হত্যা করে এবং খুলশী থানাধীন আমবাগান ভাঙ্গার পুল এলাকায় লাশ ফেলে রেখে সিএনজি যোগে দ্রুত পালিয়ে যায়।
আসামী নুর হোসেন ও নাছির আজ শুক্রবার (২১ অক্টোবর) আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধি আইনের ১৬৪ ধরায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে বলে জানান এসি জাহাঙ্গীর আলম।





