সোমবার, ২৮ ডিসেম্বর ২০১৫
সিটিজিবার্তা২৪ডটকম
ডেস্ক সংবাদ : রবিবার দুপুরে গাজিপুরের কাশিমপুর কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পাওয়া মিনহাজুল ও মাহবুব নামে দুই জেএমবি সদস্যকে কারাফটক থেকে র্যাব ধরে নিয়ে যায়। কয়েক ঘণ্টা পর রাতে একই জেলার যোগীতলায় একটি নির্মাণাধীন বাড়িতে র্যাবের অভিযানের পর তাদের গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।
গাজীপুরের পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদ জানান, গাজীপুরের কাশিমপুর হাইসিকিউরিটি কারাগারে বন্দী ছিলেন জঙ্গি মিনহাজুল ও মাহবুব। রবিবার দুপুরে তাদের দুজনের জামিন হয়। তারা কারাগার থেকে জামিনে বের হলে র্যাব-১-এর সদস্যরা ওই দুই জঙ্গিকে হেফাজতে নেন।
এরপর রবিবার রাত ১১টার দিকে জঙ্গিরা অবস্থান করছে- এমন তথ্য জানিয়ে গাজীপুরের বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের (ব্রি) পেছনে যোগীতলা নতুন বাজার এলাকার একটি নির্মাণাধীন একতলা বাড়িতে অভিযান শুরু করে র্যাব।
পরে সোমবার রাত ২টার দিকে কয়েকটি বেসরকারি টেলিভিশনে দেখা যায়, গাজীপুরের ভোগড়া বাইপাস সড়কের পাশে মাঠের ওপর বিশেষ লাইটিং ইউনিট দিয়ে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। যাতে গভীর রাতেও দেখা যাচ্ছে নির্মাণাধীন আস্তরহীন লাল ইটের তৈরি একটি একতলা ভবন বোমা বিস্ফোরণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভবনটির জানালাহীন একটি ঘরের দরজা খোলা। ঘরের ভেতরে দুটি লাশ পড়ে আছে।
পরে রাত সোয়া ২টার দিকে র্যাব-১ এর গণমাধ্যম শাখার পরিচালক মুফতি মাহমুদ খান আনুষ্ঠানিকভাবে ব্রিফিং করে জানান, গোপন সূত্রে র্যাব খবর পায় যে গাজীপুরের যোগীতলার নতুন বাজার এলাকায় জঙ্গিদের একটি আস্তানা রয়েছে। নাশকতা সৃষ্টির জন্য জঙ্গিরা ওই এলাকায় অবস্থান করছে।
তিনি আরো জানান, এমন খবরের ভিত্তিতে র্যাব-১ এর একটি দল রাত ১২টার দিকে অভিযান শুরু করে। জঙ্গিরা টের পেয়ে ওই বাড়ির ভেতর থেকে র্যাবকে লক্ষ করে বোমা হামলা চালানো হয়। এরপর র্যাব সদস্যরা পাল্টা গুলি করে।
ঘটনাস্থলে সাংবাদিকদের মুফতি মাহমুদ খান বলেন, “এখানে দুজন মারা গেছেন। তবে তাদের পরিচয় এখনও আমরা জানি না। স্প্লিন্টারে আমাদের একজন (র্যাবের সদস্য) আহত হয়েছেন। তাকে চিকিৎসার জন্য আগেই পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।”
তিনি জানান, ঘটনাস্থল থেকে চারটি অবিস্ফোরিত হাতে তৈরি গ্রেনেড (ইমপ্রোভাইসড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস-আইইডি) উদ্ধার করে নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। ঘরের ভেতরে তিনটি বোমা এবং একটি পিস্তল ও পাঁচ রাউন্ড গুলি পাওয়া যায়। ঘরের বাইরের জমিতে পাওয়া একটি ব্যাগ থেকে বোমা তৈরির বিপুল সরঞ্জাম ও জেএমবির কাগজপত্র পাওয়া গেছে।
গাজীপুরে এই অভিযানের ২৪ ঘণ্টা আগে শনিবার গভীর রাতে চট্টগ্রামের হাটহাজারির একটি বাসায় অভিযান শুরু করে গোয়েন্দা পুলিশ। সেখান থেকে রাইফেল, বিস্ফোরক, গুলি ও সেনাবাহিনীর পোশাক উদ্ধার করা হয়।
তার আগে গত বৃহস্পতিবার প্রায় ১৪ ঘণ্টা মিরপুরের শাহ আলী থানার একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তিন জেএমবি সদস্যকে গ্রেপ্তারের পাশাপাশি ১৬টি ‘হাতে তৈরি গ্রেনেড’ ও বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক উদ্ধার করে গোয়েন্দা পুলিশ ।









