বৃহস্পতিবার, ২৪ ডিসেম্বর, ২০১৫
জেনিফার আলম, সিটিজিবার্তা২৪ডটকম
নিজস্ব প্রতিবেদক ঃ রাজধানীর শাহ আলী থানা এলাকার জেএমবি’র একটি আস্তানায় অভিযান চালিয়েছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। অভিযানে এ পর্যন্ত জেএমবি’র সাতজনকে আটক করা হয়েছে। এসময় বিপুল পরিমাণে গ্রেনেড ও বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয়। তবে আটকের আগে ছয়তলা ওই ভবনটি বোমা মেরে উড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেয় জঙ্গিরা। এমনকি দু’টি গ্রেনেডের বিস্ফোরণও ঘটান তারা।
বৃহস্পতিবার ২৪ ডিসেম্বর ভোররাত থেকে মিরপুর-১ সেকশনে ব্লক এ’র নয় নম্বর বাসায় এ অভিযান চালিয়েছে। র্যাব, পুলিশ ও গোয়েন্দা বিভাগের ৫টি দলের কয়েকশো সদস্য এ অভিযান চালিয়েছেন। অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটের প্রধান এডিসি সরোয়ার হোসেন বলেন, হোসনি দালানের ঘটনায় সম্পৃক্ত সন্দেহে বুধবার (২৩ ডিসেম্বর) একজনকে আটক করা হয়। তার কাছ থেকে তথ্য পেয়ে ভোররাত থেকে আমরা ওই বাসায় অভিযান চালাই।
আমরা জানতে পারি, ওই বাসায় গ্রেনেড তৈরি করা হয়। ভোর থেকে অভিযান চললেও প্রথমে আমরা বাসায় ঢুকতে পারিনি। এরপর সকাল ৭টার দিকে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সম্মিলিত চেষ্টায় আমরা প্রথমে তিনজনকে আটক করি। এরপর আটক করা হয় আরও চারজনকে।
তিনি বলেন, ওই বাসার ছয় তলায় পাশাপাশি দু’টি ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে থাকতেন তারা। চার মাস আগে ছাত্র পরিচয়ে তারা ফ্ল্যাট দু’টি ভাড়া নেন। একটি ফ্ল্যাটে তিনজন ও অন্য ফ্ল্যাটে চারজন থাকতেন। এখানেই বোমা বানানোর কার্যক্রম চলতো। অভিযানে দুই ফ্ল্যাটের বাথরুম, রান্নাঘর, ট্রাঙ্কসহ বিভিন্ন স্থান থেকে বিপুল পরিমাণ গ্রেনেড ও বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া ১৬টি গ্রেনেডভর্তি একটি বস্তা পাওয়া গেছে। গ্রেনেডগুলো নিষ্ক্রিয় করা হচ্ছে। অভিযানে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে ১০ রাউন্ড রাবার বুলেট ও ২টি টিয়ার শেল ব্যবহার করা হয়েছে বলে তিনি জানান।
ডিবি’র যুগ্ম কমিশনার মনিরুল ইসলাম বলেন বলেন, আটকদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। বর্তমানে জেএমবি’র দু’টি গ্রুপ কাজ করছে। আটকরা শিবিরের সাবেক ক্যাডার ও সায়েদুর রহমানের দলটি ছাড়া অন্য যেটি কাজ করছে এর সদস্য। তিনি আরও বলেন, ওই বাসার অন্য ফ্ল্যাটেও কোনো জঙ্গি সম্পৃক্ততা রয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। নাশকতার আশঙ্কায় ইতোমধ্যে বাসাটির আশেপাশের স্থানীয়দের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
অভিযানের শুরুতে বাসায় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ঢোকার চেষ্টা করলে বোমা মেরে বাসা উড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেয় জঙ্গিরা। এক পর্যায়ে দু’টি গ্রেনেডের বিস্ফোরণও ঘটান তারা। তবে এতে হতাহতের কোনো ঘটনা ঘটেনি। তিনজন নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জামাআতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশের (জেএমবি) সদস্য বলে পুলিশের দাবি। অন্যরা সন্দেহভাজন। সেখানে প্রচুর গ্রেনেড পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। অভিযানে নেতৃত্ব দেন ডিবির অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) ছানোয়ার হোসেন।
তিনি বলেন, গতকাল সন্ধ্যায় এক জেএমবি সদস্যকে গ্রেপ্তার করে ডিবি। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মিরপুর-১ নম্বর শাহআলী থানাধীন এ ব্লকের ৯ নম্বর সড়কের ৩ নম্বর বাড়িতে অভিযান শুরু করে পুলিশ। দিবাগত রাত তিনটার দিকে পুলিশ ওই ফ্ল্যাটে গেলে ভেতর থেকে দরজা খোলা হচ্ছিল না। এ সময় পুলিশ ভবনের ভেতর ও বাইরে অবস্থান নেয়। ফজরের আজানের পর পুলিশ এ বাড়ির সব লোকজনকে সরিয়ে দেয়। সকাল সাতটার দিকে ওই ফ্ল্যাটের দরজা ভেঙে পুলিশ ভেতরে ঢোকে। সেখান থেকে জেএমবির তিন সদস্যকে ও পাশের ফ্ল্যাট থেকে সন্দেহভাজন হিসেবে চারজনকে আটক করা হয়। ওই ফ্ল্যাটে প্রচুর গ্রেনেড ও বিস্ফোরক দ্রব্য পাওয়া গেছে। সেগুলো নিষ্ক্রিয় করা হয়।
ছয়তলা ভবনের কয়েকজন বাসিন্দা জানান, রাত একটার দিকে ডিবির সদস্যরা এ বাড়িতে আসে। অভিযানের সময় তাঁরা রাত থেকে কয়েক দফায় বিস্ফোরণের শব্দ শুনতে পায়। রাতেই পুলিশ তিন যুবককে ধরে নিয়ে যায়। আর আজ সকাল ১০টার দিক চারজনকে নিয়ে যায়। ওই বাড়ির একজন বাসিন্দা জানান, তিন মাস আগে ওই বাসায় মেস ভাড়া শুরু হয়। বেশ কয়েকজন যুবককে তাঁরা আসা-যাওয়া করতে দেখেছেন। তবে তাঁরা কী করতেন, তা জানেন না।
একজন প্রত্যক্ষদর্শী দাবি করেন, পুলিশ ফ্ল্যাটে ঢুকতে তাঁদের সঙ্গে গেলে ধ্বস্তাধ্বস্তির ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে পুলিশ ভেতরে ঢুকতে সক্ষম হলেও ওই যুবকেরা বিস্ফোরণ ঘটায়। এ সময় পুলিশ তিনজনকে ধরে ফেললে অন্যরা পাশের কক্ষে ঢুকে দরজা লাগিয়ে দেয়।
এ ঘটনায় উৎসুক জনতা ওই বাড়ির সামনে ভিড় করে। এতে ওই সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে পড়লে এর প্রভাব অন্যান্য সড়কে ছড়িয়ে পড়ে। বেলা একটার দিকে পুলিশ ওই বাড়ির সামনে থেকে সবাইকে সরিয়ে দেয়।এক এক করে গ্রেনেড গুলো দেশীয় প্রযুক্তিতে নিষ্ক্রিয় করা হয়|











