রাশেদুল করিম, সিটিজিবার্তা২৪ডটকম
সোমবার, ১৩ জুন ২০১৬ ২০:১০ ঘন্টা
চট্টগ্রাম: সাহসী পুলিশ সুপার বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু হত্যাকান্ডের মামলা তদন্ত মনিটরিংয়ের দায়িত্ব থেকে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) উপ কমিশনার মোকতার আহমেদকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে।
নগর পুলিশের বিশেষ শাখার উপ কমিশনার মোয়াজ্জেম হোসেন ভূঁইয়াকে নগর গোয়েন্দা পুলিশের একই পদে অতিরিক্ত দায়িত্ব দিয়ে চাঞ্চল্যকর মামলাটি মনিটরিংয়ের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। সেই সাথে সিএমপি গোয়েন্দা পুলিশের উপ কমিশনার মোকতার আহমেদের দায়িত্বও কমিয়ে দিয়েছেন সিএমপি কমিশনার মো.ইকবাল বাহার।
সোমবার (১৩ জুন) দুপুরে সিএমপি কমিশনারের সঙ্গে তিন অতিরিক্ত কমিশনারের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) কমিশনার মো. ইকবাল বাহার বলেন, মোকতার আহমেদ আগে ডিবিতে চারটি জোনের দায়িত্ব একাই পালন করতেন। তাকে দুটি জোনের দায়িত্বে পুর্নবহাল করে আরেকজন উপ কমিশনারকে দুটি জোনের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।
গত মার্চে পদোন্নতি পেয়ে বদলি হন নগর গোয়েন্দা পুলিশের উপ-কমিশনার (উত্তর ও দক্ষিণ) কুসুম দেওয়ান। তখন থেকেই পশ্চিম ও বন্দর জোনের পাশাপাশি উত্তর-দক্ষিণেরও দায়িত্ব পান মোকতার আহমেদ।
কিন্তু সোমবার (১৩ জুন) সিএমপি কমিশনার এক আদেশে মোকতার আহমেদকে বন্দর ও পশ্চিম জোনে পুর্নবহাল করে উত্তর ও দক্ষিণ জোনের দায়িত্ব দিয়েছেন মোয়াজ্জেম হোসেন ভূঁইয়াকে।
গত ৫ জুন (রবিবার) নগরীর পাঁচলাইশ থানার জিইসির মোড়ের ও আর নিজাম রোডে মিতুকে খুনের পর দায়ের হওয়া বাবুল আক্তারের মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয় নগর গোয়েন্দা পুলিশকে। মামলার তদন্ত কার্যক্রম মনিটরিংয়ের দায়িত্ব পান মোকতার আহমেদ।
তবে উত্তর-দক্ষিণ জোন হাতছাড়া হওয়ায় মিত্যু হত্যা মামলা মনিটরিংয়ের দায়িত্বও মোকতার আহমেদ হারিয়েছেন বলে সিটিজিবার্তা২৪ডটকম কে জানিয়েছেন সিএমপির নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক কর্মকর্তা।
সিএমপি কমিশনার মো.ইকবাল বাহার সিটিজিবার্তা কে জানিয়েছেন, হত্যাকাণ্ডস্থল ডিবির সীমানা অনুযায়ী উত্তর জোন হওয়ায় মামলাটির তদন্ত কার্যক্রম মনিটরিং করবেন উপ কমিশনার মোয়াজ্জেম হোসেন ভূঁইয়া।
বাবুল আক্তারের স্ত্রী মিতু হত্যাকান্ডের ঘটনায় এ পর্যন্ত দুজন সন্দেহভাজনকে আটক করেছে ডিবি। এরা হলেন, হাটহাজারী উপজেলার মূসাবিয়া দরবার শরীফ পরিচালনা কমিটির একাংশের সাধারণ সম্পাদক আবু নছর গুন্নু এবং সন্দেহভাজন যুবক শাহ জামান রবিন।
আবু নছর গুন্নুকে ৩০ লাখ টাকার বিনিময়ে মিতু আক্তার হত্যা মামলায় ফাঁসিয়ে দেয়া হয়েছে বলে দরবারের লোকজন ইতোমধ্যে সাংবাদিক সম্মেলনে অভিযোগ তুলেছেন।

