11
11
11
11
11
রবিবার, ৫ জুন ২০১৬
চট্টগ্রাম : পুলিশ সুপার হিসেবে পদোন্নতিপ্রাপ্ত আলোচিত (এসপি) বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা আক্তার মিতুকে (৩২) গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় ইতোমধ্যে সারাদেশে ব্যাপক সমালোচনার ঝড় উঠেছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল এ ঘটনায় জঙ্গিকে দায়ী করে দ্রুত ব্যবস্থা নিবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন।
এর আগেও আলোচিত সব হত্যাকাণ্ডে কোনোটিকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা, আবার কোনোটিকে তদন্তের আগে কোনো কিছু বলা যাচ্ছে না বলে মন্তব্য করে দায়ভার নিতে অপারগ ছিলেন মন্ত্রী। কিন্তু এবার পুলিশের একজন ঊধ্বর্তন কর্মকর্তার পরিবারে হত্যাকাণ্ডে ক্ষেপেছেন সংসদ সদস্যসহ সাধারণ জনগণ।
দেশে আজ কোনো আইন নেই মন্তব্য করে কোতোয়ালি আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় পার্টির সাবেক মহাসচিব জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু বলেছেন, ‘যেখানে পুলিশের ঊধ্বর্তন কর্মকর্তাদের পরিবার নিরাপদ নয়, সেখানে পাবলিক কীভাবে নিরাপদ থাকবে? এটি একটি সেন্স অফ সিকিউরিটির বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশে যেন কোনো আইন নাই।’
রবিবার (৫ জুন) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে নগরীর দামপাড়া পুলিশ লাইন মাঠে পুলিশের এসপি বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতুর জানাজার আগে ব্যক্তিগত আলাপচারিতায় এ দাবি করেন তিনি। এসময় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রামের বিভিন্ন গণমাধ্যমের কর্মীরা। এছাড়া চট্টগ্রাম জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রেজাউল মাসুদসহ সিএমপির ঊধ্বর্তন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।
পুলিশ কর্মকর্তাদের জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু বলেন, ‘এ হত্যাকাণ্ড অবশ্যই আপনাদের খতিয়ে দেখতে হবে। এটি নিয়ে সংসদের চলতি অধিবেশনে আলোচনা করবো। এভাবে দেশ চলতে পারে না। আমরা যতোই বলি দেশ নিরাপদ, আসলে দেশ নিরাপদ না। দেশে যে আইন নাই, সেটি আজকের এ ঘটনায় বোঝা যায়।’
হাইকোর্টের ৫৪ ধারার রায়ের উপর ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘হাইকোর্টের ৫৪ ধারার এ কেমন রায়? যেখানে চাইলেই যে কাউকে গোয়েন্দারা জিজ্ঞাসা করতে ও রিমান্ডে নিতে পারবে না। এটিতো ব্রিটিশ আমল থেকে ছিল। বিষয়টি নিয়ে আগেও আমি আপত্তি জানিয়েছি এবারও সংসদে তুলবো।’
এর আগে সকাল ৭টার দিকে নগরীর জিইসি মোড়ে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হয় বাবুল আক্তারের স্ত্রী মিতুকে। দুই ছেলে-মেয়েকে নিয়ে ক্যান্টনমেন্ট স্কুলে যাওয়ার সময় এ ঘটনা ঘটে। সম্প্রতি পদোন্নতি পান বাবুল আক্তার। তিনি ঢাকায় অবস্থান করলেও ছেলে-মেয়েকে নিয়ে নগরীর জিইসি এলাকার একটি ফ্ল্যাটে থাকতেন স্ত্রী।
পিবিআই’র চট্টগ্রাম প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বশির আহমেদ খান জানান, সকাল ৬টা ৩৫ মিনিটের দিকে বাসা থেকে ১০০ গজ দূরে ছেলেকে নিয়ে ক্যান্টনমেন্ট স্কুলে যাওয়ার পথে তিন মোটরসাইকেল আরোহী তাকে ধাক্কা দেয়। এরপর তারা ছুরিকাঘাত করে পরপর তিন রাউন্ড গুলি ছুড়ে পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থল থেকে তিনটি গুলির খোসা উদ্ধার করা হয়েছে। ছুরিকাঘাতের পাশাপাশি মাহমুদা আক্তারের মাথার বাম পাশে গুলিবিদ্ধ হওয়ায় তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান।
তিনি আরো জানান, এই হত্যাকাণ্ডের ধরন জঙ্গিদের দ্বারা সংঘটিত আগের হত্যাকাণ্ডগুলোর সঙ্গে মিল আছে। এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। ঘটনাস্থলের আশপাশের সিসিটিভির ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। খুনিদের ধরতে অভিযান চলছে।
উল্লেখ্য, এসপি বাবুল আক্তার গত বৃহস্পতিবার দীর্ঘদিনের কর্মস্থল সিএমপি ছেড়ে পুলিশ সদর দপ্তরে যোগদানের জন্য বর্তমানে ঢাকায় অবস্থান করছেন। তিনি চট্টগ্রামে জেএমবির সামরিক প্রধান জাবেদসহ বেশ কয়েকজন জঙ্গিকে গ্রেপ্তারের পাশাপাশি দেশে নতুন করে জঙ্গিবাদের উত্থানটি আবিষ্কার করেছিলেন।

