নিজস্ব প্রতিবেদক, সিটিজিবার্তা২৪ডটকম
মঙ্গলবার, ৩১ মে ২০১৬
চট্টগ্রাম : বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতি ২০১৬-১৭ অর্থবছরের জন্যে ৮ লাখ ৮ হাজার ১৪২ কোটি টাকার বিকল্প বাজেট প্রস্তাব করেছে। যা অর্থমন্ত্রীর সম্ভাব্য বাজেটের দ্বিগুণেরও বেশি। ২০১৫-১৬ অর্থবছরের তুলনায় ৩ দশমিক ৮৭ গুণ বড়।
চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে মঙ্গলবার (৩১ মে) সংবাদ সম্মেলন করে বিকল্প বাজেট তুলে ধরেন অর্থনীতি সমিতির চট্টগ্রাম চ্যাপ্টারের সাবেক সভাপতি অধ্যাপক ড. জ্যোতিপ্রকাশ দত্ত।
তিনি বলেন, ‘মৌলবাদের অর্থনীতি রাষ্ট্রকে চ্যালেঞ্জ করছে। জামায়াত তার শতাধিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান ব্যবহার করছে মৌলবাদ বিস্তারে। এরা বিদেশ থেকে অর্থ আনছে এবং সেই অর্থ ব্যবহার করছে সরকারের বিরুদ্ধেই। সরকার এত চেষ্টা করার পরও জঙ্গিবাদ নির্মূল করতে পারছে না মৌলবাদের অর্থনীতির শক্তিশালী আর্থিক কাঠামোর জন্যেই। জামায়াত সংশ্লিষ্ট আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো নিষিদ্ধ না করলে সরকারের পক্ষে জামায়াত ও জঙ্গিবাদ নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হবে না।’
বাজেট ঘোষণার কয়েক দিন আগে এত বড় প্রস্তাব উত্থাপনের যৌক্তিকতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘জুনের প্রথম সপ্তাহে বাজেট ঘোষণা করা হবে সংসদে। এরপর সরকারি দল, বিরোধী দল আলোচনা করবেন। কাটছাঁট করবেন। তাই অর্থনীতি সমিতির বিকল্প বাজেট সরকারের উপকারে আসবে।’
সমিতি প্রস্তাবিত বাজেটে নতুন অর্থবছরে সরকারের মোট রাজস্ব আয় ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৩৮ হাজার ১৪২ কোটি টাকা। যাতে ২০১৫-১৬ অর্থবছরের তুলনায় ৩ দশমিক ০৬ গুণ বেশি। আয়কর ফাঁকির বিষয়টি উল্লেখ করে বলা হয়, উচ্চ আয়ের ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান আসলে নির্ধারিত আয়কর দেন না। দেশে মাত্র ৪৬ জন বছরে এক কোটি টাকা বা তার বেশি কর দেন। সংখ্যাটি হবার কথা কম পক্ষে ৫০ হাজার জন।
সমিতির চট্টগ্রাম চ্যাপ্টারের সাধারণ সম্পাদক একেএম ইছমাইল লিখিত বক্তব্যে বলেন, ‘অর্থনীতি সমিতি দেশের চার হাজারের পেশাজীবী অর্থনীতিবিদের সংগঠন। মুক্তিযুদ্ধের গণতান্ত্রিক, মানবতাবাদী ও অসাম্প্রদায়িক দর্শনের পক্ষের সংগঠন হিসেবে সমিতি ইতিমধ্যে দেশে ব্যাপক সমর্থন ও জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। সামাজিক দায়বদ্ধতা ও ৭২-এর সংবিধানের আরোকে সরকারি বাজেট প্রণয়ন বর্তমানে প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।’
তিনি বলেন, ‘নয়া-উদারবাদী অর্থনৈতিক নীতিমালার আলোকেই প্রণীত হচ্ছে সরকারি বাজেট। এ প্রক্রিয়া জনস্বার্থবিরোধী ও বৈষম্য সৃষ্টিকারী। সমিতি এ ধরনের বাজেট সমর্থন করে না। এ আদর্শিক দায়বদ্ধতা থেকে গতবার ২০১৫-১৬ ও এবার সমিতি সরকার ঘোষিত বাজেটের বিকল্প বাজেট উপস্থাপন করছে। অনেকেই এর বাস্তবায়নযোগ্যতা নিয়ে সন্দিহান হতে পারেন। তবে সমিতি মনে করে, সরকারের রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা গেলে এ বাজেট অবশ্যই বাস্তবায়নযোগ্য।’
তিনি দাবি করেন, সমিতি প্রস্তাবিত বাজেটের অর্থায়ন কিভাবে হবে তার বিস্তারিত বিবরণ দেওয়া হয়েছে। বর্তমান প্রচলিত উৎস ছাড়াও অনেক নতুন উৎসের সন্ধান দিয়েছে সমিতি।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সহসভাপতি খোরশেদ আলম, এটিএম কামরুদ্দিন চৌধুরী, কোষাধ্যক্ষ সুজিত কুমার দত্ত, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মনছুর এমওয়াই চৌধুরী, সদস্য সৈয়দা সেলিমা আখতার ও বিদ্যুৎ কান্তি নাথ।

