বিগত পাঁচ বছরের ১২ পাবলিক (জেএসসি, এসএসসি ও এইচএসসি) পরীক্ষার ফলাফল অনুমোদন হচ্ছে আজ!
বুধবার, ১ জুন ২০১৬
চট্টগ্রাম : ২০১২ সালের ৩০ জুলাইয়ের সর্বশেষ বোর্ড সভার পর আর কোনো সভা না হওয়ায় এসব ফলাফল এখনো বোর্ড কমিটির অনুমোদন হয়নি। শুধু বোর্ড কমিটি নয়, বোর্ডের প্রবিধানমালা অনুযায়ী বাৎসরিক বাজেট অনুমোদন, পরীক্ষা কমিটি, বয়স সংশোধন কমিটিসহ প্রায় ১৮ ধরনের কমিটির অনুমোদন দিয়ে থাকে এই বোর্ড। কিন্তু গত পাঁচ বছরে এসব কমিটির একটিরও অনুমোদন হয়নি এবং তাদের কাজেরও কোনো অনুমোদন নেই। অর্থাৎ যথেচ্ছভাবে চলেছে বোর্ড।
গত ২০ এপ্রিল স্থানীয় বিভিন্ন মিডিয়াতে ‘জবাবদিহিতা ছাড়াই চলছে শিক্ষাবোর্ড’ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশের পর কমিটি গঠনের দুই বছর পর আজ প্রথমবারের মতো বৈঠকে বসছে বোর্ড কমিটি।
বোর্ডসভার চিঠি পাওয়ার কথা স্বীকার করে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের প্রতিনিধি হিসেবে মনোনীত বোর্ড সদস্য প্রফেসর ড. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘বোর্ড সভার একটি চিঠি পেয়েছি, কিন্তু সেই চিঠিতে কোনো এজেন্ডা উল্লেখ নেই। বোর্ড কমিটি হিসেবে মনোনীত হওয়ার দুই বছর পর প্রথম সভার ডাক পেলাম, আবার সেই সভার কোনো এজেন্ডা নেই। এটা কেমন বোর্ডসভা হবে তা নিয়ে আমি চিন্তিত।’
এদিকে বোর্ড কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, বোর্ডের এতো বেশি এজেন্ডা যে তা লিখে শেষ করা যাবে না। গত পাঁচ বছর ধরে বোর্ড কমিটির সভা না হওয়ায় অনেক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ঝুলে রয়েছে। এই বোর্ড সভায় সবকিছু থামরোল হিসেবে (গণহারে) তা অনুমোদন নেয়া হতে পারে।
কি কি অনুমোদন নেয়া হতে পারে জানতে চাইলে বোর্ড কর্মকর্তারা জানান, ২০১২ সালের জেএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল অনুমোদন, ২০১৩, ২০১৪ ও ২০১৫ সালের জেএসসি, এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল অনুমোদন এবং সর্বশেষ চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল অনুমোদন হতে পারে। এ জন্য সর্বশেষ বোর্ড সভার পর বোর্ডের একটি বাজেটও বোর্ড কমিটির অনুমোদন হয়নি। আর বোর্ড কমিটির অনুমোদন না থাকলে তা আইনগতভাবে সিদ্ধ নয়। তাই বিধিসম্মত করতে বিগত বছরের বাজেটগুলো অনুমোদন নেয়া হতে পারে আজকের বোর্ডসভায় এবং চলতি বছরের প্রস্তাবিত বাজেটের অনুমোদন নেয়া হতে পারে।
জানা যায়, বর্তমান বোর্ড কমিটি ২০১৪ সালের ২৫ মার্চের প্রজ্ঞাপনে প্রকাশ করা হলেও এতোদিন এই কমিটির কোনো সভা হয়নি। এর আগের বোর্ড কমিটির সর্বশেষ সভা হয়েছিল ২০১২ সালের ৩০ জুলাই। সেই হিসেবে গত পাঁচ বছর ধরে বোর্ড কমিটির কোনো সভা হয়নি। বোর্ডে নির্ধারিত সময় পরপর সভা আহবান করতে হয়, আর্থিক বিষয়গুলো অনুমোদন নিতে হয় বোর্ডসভার মাধ্যমে। বোর্ড অধ্যাদেশের ১৯(১) ধারা অনুযায়ী, অর্থ কমিটি, নিয়োগ কমিটি, প্রবিধান প্রণয়ন কমিটি, আপিল ও মধ্যস্থতাকারী কমিটি, শিক্ষা সংক্রান্ত একাডেমিক কমিটি, পাঠ্য বিষয় ও পাঠ্যসূচি প্রণয়ন কমিটি, বিজ্ঞান শাখা কমিটি, কারিগরি শিক্ষা কমিটি, শিল্প বিষয়ক শিক্ষা কমিটি, কৃষি শিক্ষা কমিটি, বাণিজ্য শিক্ষা কমিটি, শারীরিক শিক্ষা কমিটি, বালিকা শিক্ষা কমিটি, গাইস্থ্য শিক্ষা কমিটি, পরীক্ষা কমিটি, বয়স সংশোধন কমিটি, স্বীকৃতি প্রদান সংক্রান্ত কমিটি, অধ্যাদেশের শর্তাবলী বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রয়োজনে যে কোনো কমিটি গঠন করবে বোর্ড। এছাড়া ২০(১) ধারায় উল্লেখ রয়েছে প্রতি বৎসর ৩১ মার্চের পূর্বে বোর্ডের বাজেট মিটিং অনুষ্ঠিত হবে।
সর্বশেষ বোর্ডসভা হয়েছিল কবে :
চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের সর্বশেষ বোর্ডসভা হয়েছিল ২০১২ সালের ৩০ জুলাই। ২০১১ সালের অক্টোবরে বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে যোগ দেয়া প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আলী ২৩ জুলাই ২০১৪ পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। এই সময়ের মধ্যে তিনি শুধুমাত্র ২০১২ সালের ৩০ এপ্রিল ও ৩০ জুলাই দুটি সভা ডেকেছিলেন। পরবর্তীতে ২০১৩ সালের ৪ এপ্রিল শেষ হয়ে যায় বোর্ডের পরিচালনা কমিটির তিন বছরের মেয়াদ। এক বছর কোনো কমিটি গঠন করেননি তৎকালীন বোর্ড চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আলী। ২০১৪ সালের ২৫ মার্চ তিনি নতুন বোর্ড কমিটি গঠন করেন। ড. মোহাম্মদ আলী ২০১৪ সালের ২৩ জুলাই চাকরি থেকে অবসরে যাওয়ার পর একই বছরের সেপ্টেম্বরে চেয়ারম্যান হিসেবে যোগ দেন প্রফেসর মোহাম্মদ শাহজাহান। তিনি চেয়ারম্যান হিসেবে যোগদানের পর কোনো বোর্ড সভা ডাকেননি।
বোর্ড কমিটিতে আছেন কারা কারা :
২০১৪ সালের ২৫ মার্চ প্রজ্ঞাপিত বোর্ড কমিটিতে ১১ সদস্য রয়েছেন। এর মধ্যে পদাধিকার বলে রয়েছেন বোর্ড চেয়ারম্যান, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রতিনিধি হিসেবে প্রফেসর ড. জাহাঙ্গীর আলম, রাষ্ট্রপতি কর্তৃক মনোনীত দুইজন হলেন চট্টগ্রাম ও নৌবাহিনী কলেজের অধ্যক্ষ, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের প্রতিনিধি শফিকুল ইসলাম সিদ্দিকী ও কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের প্রতিনিধি মোহাম্মদ রেজাউল করিম, সরকারের মনোনীত পাঁচ সদস্যের মধ্যে রয়েছে আগ্রাবাদ মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ, ডা. ফজলুল হাজেরা কলেজের অধ্যক্ষ, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর চট্টগ্রামের উপ-পরিচালক, কলেজিয়েট ও খাস্তগীর স্কুলের প্রধান শিক্ষক।
উল্লেখ্য, ১৯৯৫ সালে চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ড প্রতিষ্ঠিত হয়। আর প্রতিষ্ঠার পর থেকেই মন্ত্রণালয়ের নীতিমালা অনুযায়ী তা বোর্ড কমিটির মাধ্যমে পরিচালিত হয়ে আসছে। আর বোর্ড চেয়ারম্যান বোর্ড সভার আহবান করে থাকেন।

