বুধবার, ১৭ জুন, ২০১৫
খেলাধুলা, সিটিজিবার্তা২৪ডটকম
মোস্তফা আরিফ ঃ গতিক বাংলাদেশ এবং সফরকারী ভারতের মধ্যে অনুষ্ঠিত একমাত্র টেস্ট নিষ্প্রাণ ড্র হয়েছে। প্রথম দুই দিনের বৃষ্টিতেই টেস্টের ভাগ্য নির্ধারণ হয়েছিল। ফলে ভারতের বিপক্ষে টাইগাররা এ পর্যন্ত ৮টি টেস্ট খেলে কোনো জয়ের মুখ দেখেনি। এটা ছিল ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশের দ্বিতীয় ড্র। এর আগে ২০০৭ সালে বৃষ্টির কারণে আরো একটি ম্যাচ ড্র হয়েছিল।
তবে বাংলাদেশ-ভারত টেস্ট ম্যাচ নিয়ে আলোচনা করার কোনো ইচ্ছা নেই। আজকের এই লেখার উদ্দেশ্য টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ কী? সত্যিকার অর্থে টাইগাররা লংগার ভার্সনের ম্যাচে কত দূর এগুতে পারবে, সে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে?
টেস্ট ক্রিকেটের কূলীন পরিবারের সদস্য হয়ে বাংলাদেশ প্রথম টেস্ট খেলেছিল ২০০০ সালের ১০ নভেম্বর, বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে। তারপর থেকে আজ পর্যন্ত এই দেড় দশকে ৯২টি টেস্ট খেলে ফেলল বাংলাদেশ। পরিসংখ্যান বিচারে জয়ের পাল্লাটা ভারী নয়। মাত্র ৭ জয়। ড্র ১৩টিতে। আর পরাজয় ৭১ ম্যাচে। পরিসংখ্যানের দিকে নজর দিলেই বোঝা যায়, সাফল্যের হার কত নিম্নমুখী। সাফল্যের মাত্র ৭ দশমিক ৭০ ভাগ।
ক্রিকেটবোদ্ধারা হয়ত বলবেন, ১৫ বছরে এর থেকে বেশি সাফল্য আশা করা বাতুলতা মাত্র। তারা হয়ত আরো বলবেন, বাংলাদেশের ক্রিকেট আগের থেকে অনেক বেশি অগ্রসর হয়েছে, অনেক উন্নতি করেছে।
এ ব্যাপারে কোনো দ্বিমত নেই, কোনো তর্ক নেই। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, ১৫ বছর আগে টেস্ট র্যাংকিংয়ে নিচের সারিতে ছিল, আজও তাই রয়েছে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) সর্বশেষ র্যাংকিংয়ে টেস্টে ক্রিকেটে নবম স্থানে রয়েছে বাংলাদেশ।
টেস্ট ক্রিকেটের শীর্ষস্থানীয় কোনো দলের বিপক্ষে এখন পর্যন্ত বিজয়ের হাসি হাসেনি টাইগাররা। ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলংকা, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা, ইংল্যান্ড- এ সাত দেশের বিপক্ষে জয় এখনো অধরা রয়ে গেছে।
ক্রিকেটের এক সময়ের পরাশক্তি ক্যালিপসো খ্যাত ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে জয়ের মালা গলায় ঝুলিয়েছে বাংলাদেশ, এ কথা সত্য। কিন্তু টেস্টে ক্যারিবীয়রা এখন আর পরাশক্তি নয়। দুর্বল ক্যারিবীয়দের বিরুদ্ধে জিততে তাই বেশি বেগ পেতে হয়নি। তারপরেও জয়কে খাটো করে দেখার সুযোগ নেই, সে ধৃষ্টতা প্রদর্শন করছি না।
“টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের উন্নতি না হওয়ার পেছনে কী কারণ থাকতে পারে? ভৌত অবকাঠামোর দুর্বলতা, নাকি খেলোয়াড়দের মধ্যে প্রতিশ্রুতির অভাব? সমষ্টিগত যে প্রচেষ্টা থাকা উচিত, তার অভাব রয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের।”
টেস্ট ক্রিকেটে উন্নতি করতে হলে ঘরোয়া ক্রিকেটের উন্নতি প্রয়োজন। জাতীয় ক্রিকেট লিগ শক্তিশালী করা জরুরি। কারণ, এখান থেকেই আগামী প্রজন্মের তারকা ক্রিকেটার বেরিয়ে আসবে। চারটি অঞ্চলে ভাগ করে বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগ (বিসিএল) অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। মানের দিক থেকে এটাকে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট বলা হচ্ছে।
ক্রিকেট মানেই আভিজাত্যের খেলা। আর আভিজাত্যের প্রতীক হচ্ছে টেস্ট ম্যাচ। টেস্ট ক্রিকেটের ভৌত অবকাঠামোয় অনেক পরিবর্তন হয়েছে। উন্নত মানের ক্রিকেটার তৈরিতে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
বিসিবির আশা করে, ক্রিকেটে বাংলাদেশ একদিন অবশ্যই উন্নতি করবে। এর জন্য প্রয়োজন সঠিক পরিকল্পনা এবং এর বাস্তবায়ন। ক্রিকেটকে অস্ট্রেলিয়ার আদর্শে গড়ে তোলার স্বপ্ন বোর্ডের।
ক্রিকেটের উন্নতির জন্য সবার আগে প্রয়োজন উন্নত ও সেরা খেলোয়াড় তৈরি করা। এ দায়িত্ব বিসিবির এবং সেটা তারা করে যাচ্ছে নিষ্ঠার সঙ্গে। উন্নত মানের ক্রিকেটার পেতে হলে ১০ বা ১৫ বছরের পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।
সারা দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে যেন ক্রিকেট ম্যাচ হয় এবং সেখান থেকে প্রতিভা তুলে আনা যায়, সে চেষ্টা করতে হবে। জাতীয় ক্রিকেট লিগকে আরো আকর্ষণীয় করতে হবে। প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক ম্যাচের আয়োজন করতে হবে।
বাংলাদেশের ক্রিকেটে সাকিব আল হাসান, মাশরাফি বিন মর্তুজাসহ আরো অনেকে বিশ্বখ্যাত হয়েছেন। এ ধরনের ক্রিকেটার তৈরি করতে হবে। এ কথা ঠিক, প্রতিভাবান ক্রিকেটার তৈরি করা সহজ নয়। অনেকেই জন্ম থেকেই প্রতিভাবান হয়। তাদের কথা আলাদা। বিভিন্ন ক্লাব এবং বিসিবি প্ররিশ্রমী ও উজ্জ্বল তারকাকে ছাঁচে গড়তে সহায়তা করতে পারে।
বিসিবি যেটা করতে পারে তা হচ্ছে, অস্ট্রেলিয়ার আদর্শে ক্রিকেটকে গড়ে তুলতে পারে। সেজন্য স্থানীয় ক্রিকেট ম্যাচ শক্তিশালী করা আরো জরুরি। কারণ, মনে রাখতে হবে স্থানীয় পর্যায়ে থেকেই মেধাবী ক্রিকেটার তৈরি হয়।
বাংলাদেশের অধিকাংশ ক্রিকেটার এসেছে বিভিন্ন জেলা থেকে। ক্রিকেটের উন্নতির জন্য জেলা পর্যায়ের তরুণ ক্রিকেটারদের উৎসাহিত করতে বোর্ড থেকে সব ধরনের সহযোগিতা করা জরুরি। বিসিবি চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। ক্রিকেট বোর্ডকে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার আদলে গড়ে তুলতে পারলেই পরিশ্রম সার্থক হবে।
ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) যেমন ভারত তথা এ উপমহাদেশে আকর্ষণ সৃষ্টি করেছে, তেমনি প্রতিভাবান খেলোয়াড়ের জন্ম দিয়েছে। ক্রিকেটের উন্নতি চাইলে বিসিবিকে বিপিএল আরো উন্নত করতে হবে। সত্যিকার অর্থে দর্শকের মাঝে আবেদন সৃষ্টি করতে ব্যর্থ হয়েছে বিপিএল।
ক্রিকেটের মাঝেই আমরা সারা বিশ্বের কাছে নতুন করে পরিচিত হব। লাল সবুজের পতাকা তুলে ধরবে এ জাতির আশা, আকাক্সক্ষা ও ভালোবাসা।
বাংলাদেশকে এর পরেই লড়তে হবে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে। টেস্ট র্যাংকিংয়ে প্রোটিয়ারা এখন শীর্ষে রয়েছে। শীর্ষ এ দলটির বিপক্ষে ইতিপূর্বে ১০ বার লড়েছে বাংলাদেশ। তবে কোনো সাফল্য নেই।
টাইগাররা প্রোটিয়াদের কাছে হেরেছে ৯ বার। একবার ড্র। তার মানে, টাইগাররা শতকরা ৯০ ভাগ ব্যর্থ হয়েছে। টেস্ট ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ নিয়ে সত্যি চিন্তিত এ দেশের দর্শক। সূত্র-রাইজিং বিডি
Ctgbarta24.com 24 hours Online News Paper




