বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০১৫
সিটিজিবার্তা২৪ডটকম ।।
ঢাকা ঃ চলো সবাই আজ পিকনিকে যাই। কারণ, পিকনিক বা বনভোজন যে কারোর জন্যই মজার দিন। পারমিতা নামে এক নারী তার কিশোরী অভিজ্ঞতার এই মজার দিনটির বর্ণনা করেন এভাবে- পাড়ার গলিতে গলিতে নোটিশ ঝুলানো হত প্রতি শীতে। সবাই পিকনিকে যেত। হয় কাপ্তাই, নয় রাঙামাটি, নয় খাগড়াছড়ি, নয় কক্সবাজার। কিন্তু ছোটদের যাওয়া হতোনা।
এমন এক শীতের ঘটনা। আমরা মিটিং করি। চল আমরা পিকনিক করি! কিন্তু পিকনিক কোথায় হবে? টাকা নাই আমাদের কারো কাছে। সিদ্ধান্ত হলো বাড়ির পাশে ওই যে টিনশেড বিল্ডিং উঠতেছে, মাঠের এইপাশে, ওইখানে পিকনিক হবে। ওইখানে চুলা ধরাব। আমাদের রান্নার হাঁড়ি-পাতিল দিয়ে রান্না করব।
রান্নার জিনিসপত্র সবাই যার যার বাসা থেকে চুরি করে আনবো। নাম দিলাম চোরা পিকনিক। রান্না শেষ হল। লবণ কম, মসলা কম শুধুই চালে-ডালে-আলুতে খিচুড়ি। তবু কী মজা! আহাহা তাও কী যে তৃপ্তি এখনো মনে পড়ে। যদিও পারমিতার উপলব্ধির সে পিকনিক হারিয়ে গেছে এখন। তারপরও বলি, আসলে পিকনিকের মজা এমনই। একদম নিজের মতো করে স্বাধীনতা ভোগের একটি অন্যরকম মজার দিন।
আন্তর্জাতিক বনভোজন দিবস আজ। প্রতি বছর ১৮ জুন দিবসটি পালন করা হয়। এবারের আন্তর্জাতিক বনভোজন দিবসের থিম হচ্ছে- ‘হার্ট অব আওয়ার কম্যুনিটি’। দিবসটি কবে থেকে শুরু হলো, কারা শুরু করল- সেটা জানা যায়নি। তবে কেউ কেউ মনে করেন, ফরাসিরাই এর উদ্যোক্তা। ফরাসি বিপ্লবের আগে বড় পার্কগুলোয় সাধারণ মানুষ ঢুকতে পারত না। ফরাসি বিপ্লবের পর সাধারণ মানুষের জন্য প্রথমবারের মতো পার্কগুলো খুলে দেওয়া হয়। আর মানুষজন তখন পার্কে গিয়ে খানাপিনা করত, মজা করত। ‘পিকনিক’ শব্দের উৎপত্তিও কিন্তু ফরাসি ভাষা থেকে।
কেউ কেউ মনে করেন পিকনিকের প্রচলনটি ভিক্টোরিয়ান যুগেরও হতে পারে। ভিক্টোরিয়ান যুগে পিকনিক খুব গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক অনুষ্ঠান ছিল। তারা গৃহের বাইরে একসঙ্গে সময় কাটাতো। ভালো খাওয়া-দাওয়া করতো। তবে বিশ্বের সবচেয়ে বড় পিকনিকটি হয়েছিল ২০০৯ সালে পর্তুগালের লিসবেনে। এতে ২২ হাজার মানুষের অংশগ্রহণ ছিল।
বনভোজনের সময় কিন্তু দুনিয়ার সব দেশে এক রকম নয়। শীতপ্রধান দেশে বনভোজন হয় গরমকালে। আর আমাদের দেশসহ নাতিশীতোষ্ণ দেশে শীতকালে। শীতপ্রধান দেশে জুন মাসটাই হচ্ছে বনভোজনের সবচেয়ে সুন্দর সময়। শীতের সময় তো ওদের দেশের বনজঙ্গল সব বরফে ঢাকা থাকে। তখন বনভোজন কোথায় হবে? সে কারণে ওরা গ্রীষ্মেই বনভোজনে যায়। বিশেষ করে জুন-জুলাই মাসে। সে কারণে ১৮ জুন ওরা বনভোজন দিবস হিসেবে পালন করে। ওদের সব দিবসই যে আমাদেরও পালন করতে হবে, এমন তো কোনো কথা নেই।
সেখানে তাদের কাছে এটা মজার হলিডে। একই ধরনের ছুটি হিসাবে প্রতি বছর আগস্ট মাসের প্রথম সোমবার ‘অস্ট্রেলিয়ার নর্দার্ন টেরিটরি’ পালিত হয়। এ অঞ্চলের পিকনিকের দিন সরকারি ছুটি হয়।
আসলে বনভোজন মানে আনন্দ-উৎসব সহযোগে বনে কিংবা বাড়ির বাইরে ভোজন। সাধারণতঃ মনোরম ও সুন্দরতম স্থানকেই বনভোজনের জন্য নির্বাচিত করা হয়। পার্ক বা উদ্যান, হ্রদ কিংবা নদীর কিনারের মতো চিত্তাকর্ষক স্থানকেই প্রাধান্য দেয়া হয়।
বনভোজন সাধারনত পরিবারের সদস্যদেরকে ঘিরে হয়ে থাকে। অন্যান্য ক্ষেত্রে দুই জন ব্যক্তি থেকে শুরু করে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অংশগ্রহণের মাধ্যমে এটি বড় ধরণের মিলন স্থলে রূপান্তরিত হয়। সাধারণতঃ বনভোজনে যাত্রাকালীন কিংবা ফিরে আসার সময় আনন্দ, হাসি-তামাসা ইত্যাদি বিষয়াবলী থাকে। নির্দিষ্ট স্থানে রান্না আয়োজনের মধ্যবর্তী সময়কালে অথবা ভোজন পরবর্তী সময়ে খেলাধূলার আয়োজন করা হয়। এছাড়াও অংশগ্রহণকারীদেরকে নির্মল আনন্দ দেয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়।
Ctgbarta24.com 24 hours Online News Paper
