শনিবার , ২০ জুন ২০১৫ , সিটিজি বার্তা ২৪ ডটকম প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম ঃ
চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে ব্রিজ ভেঙ্গে তেলবাহী ওয়াগন খালে পড়ে যাওয়ার পর কার্যকর কোনো ব্যবস্থা না নেয়ায় প্রায় ২০ কিলোমিটার পর্যন্ত খাল এবং কর্ণফুলী নদীর পানি দূষিত হয়ে পড়েছে। ২টি ওয়াগনের ৫৫ হাজার লিটার তেল ছড়িয়ে পড়ছে পানিতে।
ফলে মৎস্য সম্পদের ক্ষতিসহ মারাত্মক পরিবেশ বিপর্যয়ের আশঙ্কা দেখা দিলেও, প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি না থাকায় পরিবেশ অধিদপ্তরও কিছু করতে পারছে না। আর এখন পর্যন্ত দুর্ঘটনা কবলিত ওয়াগন উদ্ধারের কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে, একটি মাত্র পাম্পের মাধ্যমে তেল অপসারণের কাজ শুরু করেছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।
শুক্রবার দুপুরের এ দুর্ঘটনার পর দু’টি ওয়াগনে থাকা অন্তত ৫৫ হাজার লিটার ফার্নেস অয়েল বিভিন্ন খাল হয়ে মিশছে কর্ণফুলী নদীতে। শনিবার সকাল থেকে স্থানীয় লোকজন বিক্রির জন্য কিছু তেল সংগ্রহ করলেও তা ছিলো যৎ সামান্য।
পরিবেশ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত বিভিন্ন খাল হয়ে কর্ণফুলী নদীর বিস্তীর্ণ এলাকায় পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর ফার্নেস অয়েল ছড়িয়ে পড়ছে। কিন্তু যন্ত্রপাতির অভাবে তারাও তেমন কোনো ব্যবস্থা নিতে পারছে না।
চট্টগ্রাম বিভাগের পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক মকবুল হোসেন বলেন, ‘প্রায় ২০ কি:মি এলাকা জুড়ে খাল এবং তার আশপাশ এলাকায় তেল ছড়িয়ে পড়ার কারণে পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হয়েছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘পরিবেশ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে আইনের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
গত দশ বছর আগে থেকেই ঝুঁকির মধ্যে ছিলো চট্টগ্রাম-দোহাজারী রেল রুটের বোয়ালখালী অংশের এ ২৪ নম্বর সেতুটি। কিন্তু তারপরেও এ সেতুর উপর দিয়ে চলতো যাত্রীবাহী এবং তেলবাহী ট্রেন। দুর্ঘটনার কিছুটা টনক নড়েছে রেলওয়ের।
শুক্রবার দুপুরে দোহাজারী পিকিং বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য চট্টগ্রাম থেকে ফার্নেস অয়েল নিয়ে যাওয়ার পথে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে ট্রেনটি। সেতু ভেঙে ট্রেনের ইঞ্জিনসহ তিনটি ওয়াগান খালে পড়ে যায়।
এর আগে গত দেড় বছর আগেও এ রুটের বোয়ালখালী অংশে তেলবাহী ট্রেনের ওয়াগন লাইনচ্যুত হয়ে কর্ণফুলী নদীতে ব্যাপক ফার্নেস অয়েল ছড়িয়ে পড়েছিলো।
Ctgbarta24.com 24 hours Online News Paper