চট্রগ্রাম, ২৭ ফেব্রুয়ারি (সিটিজিবার্তা২৪) চট্টগ্রামের দোহাজারী থেকে মিয়ানমারের সীমান্ত পর্যন্ত রেলপথ নির্মাণ বর্তমান সরকারের একটি বিশেষ আগ্রহের প্রকল্প।
পাঁচ বছর আগে প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তরও স্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর দীর্ঘ সময়ে শেষ হয়েছে শুধু সম্ভাবতা যাচাই আর মাঠপর্যায়ের কাজ।
সাধারণ মানুষ ও পর্যটকদের কক্সবাজার যাতায়াতে বিমান ও সড়কপথে যোগাযোগ ব্যবস্থা থাকলেও রেলপথ নেই। এ ছাড়া ট্রান্স-এশিয়ান রেলপথ চালু করতে মিয়ানমারের সীমান্ত গুনধুম পর্যন্ত ট্রেন সংযোগ দরকার। তাই ১২৮ কিলোমিটার রেলপথ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
এবার ভিত্তিপ্রস্তরের পাঁচ বছর পরে বাস্তবায়ন হতে যাচ্ছে চট্টগ্রাম-দোহাজারী-কক্সবাজার-ঘুমধুম রেল যোগাযোগ প্রকল্প। এ রেলপথ বাস্তবায়ন হলে বদলে যাবে পর্যটন নগরী চট্টগ্রাম-কক্সবাজারে চিত্র। বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবে দেশের অর্থনীতিতে। সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে বলে আশাবাদ এলাকাবাসীর। তবে এবার আর মিটার গেজ সিঙ্গেল লাইন নয়, ব্রডগেজসহ ডুয়েল লাইনের মাধ্যমে দু’হাজার কোটি টাকার এ প্রকল্প বাস্তবায়ন হতে যাচ্ছে। ভূমি অধিগ্রহণের পাশাপাশি শুরু হয়েছে টেন্ডার প্রক্রিয়া। তবে বার বার পেছানোর কারণে প্রকল্প ব্যয় বেড়ে হয়েছে দ্বিগুণ।
প্রায় দু’যুগ আগে শুরু হয়েছিলে চট্টগ্রামের দোহাজারী পর্যন্ত থাকা রেললাইনকে কক্সবাজারের ঘুমধুম পর্যন্ত বিস্তৃত করার কাজ। কিন্তু নানা জটিলতার কারণে বারবার হোঁচট খেয়েছে এ প্রকল্প। শেষ পর্যন্ত বর্তমান সরকার অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শুরু করেছে এ প্রকল্পের কাজ। তবে আগের নকশা অনুযায়ী মিটার গেজের রেল লাইন হওয়ার কথা থাকলেও এবার হচ্ছে ব্রডগেজসহ ডুয়েল লাইন।
রেলওয়ে (পূর্বাঞ্চল) সূত্রে জানা গেছে, দোহাজারী হতে রামু হয়ে কক্সবাজার এবং রামু হতে মিয়ানমারের নিকট ঘুমধুম পর্যন্ত ডুয়েলগেজ সিঙ্গেল রেলওয়ে লাইন নির্মাণ প্রকল্পের মিটার গেজ রেলপথ নির্মাণের সংস্থান রেখে প্রকল্পের ডিপিপি গত ২০১০ সালের ৬ জুলাই একনেকে অনুমোদন পায়।
তবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে ২০১৪ সালে প্রকল্পটিতে মিটারগেজ রেললাইনের পরিবর্তে ডুয়েলগেজ রেললাইন নির্মাণের গৃহীত হয়। এর প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয় ১৩হাজার ২৯ দশমিক ৬৭কোটি টাকা। বাস্তবায়নকাল ধরা হয় ২০১০ সালের ১ জুলাই থেকে ৩০জুন ২০২০সাল। এই সিদ্ধান্ত বান্তবায়নে এশিয়া উন্নয়ন ব্যাংক এডিবি’র অর্থায়নে আরসিআই সম্ভাব্যতা কার্যক্রম শেষ হয়। সেই প্রেক্ষিতে প্রকল্প বাস্তবায়নে ১হাজার ৭শত ২৯ দশমিক ৪৩একর ভূমি অধিগ্রহণ শুরু হয়। যা এখনো চলমান রয়েছে।
এছাড়া ২৩১টি সেতু নির্মাণ, কম্পিউটার ভিত্তিক ইন্টারলকিং সিগন্যালিংসহ ৯টি ও নন ইন্টারলকিং কালারলাইট সিগন্যালিংসহ ২টি স্টেশন ও ১৭৩ দশমিক ৩৬ কিলোমিটার রেলপথ নির্মাণ। তৎমধ্যে ১শত ২৮ দশমিক ২৬ কিলোমিটার মেইন লাইন ও ৪৫ দশমিক ১০ কিলোমিটার লুপ লাইন।
রেলওয়ে পূর্বাঞ্চল মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ মকবুল আহমেদ জানান, এ প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য জমি অধিগ্রহণ করতে ৩শ’ ১২ কোটি টাকা পরিশোধ করার পর আবার নতুন করে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ৬শ’ ৫ কোটি টাকা। আগামী বছর টেন্ডার প্রক্রিয়া শুরু হয়ে ২০২০ সালের মধ্যে শেষ হবে পুরো কাজ।
দোহাজারী-ঘুমধুম রেল লাইন প্রকল্প পরিচালক ঈশা-ই-খলিল বলেন, রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ এ প্রকল্পের কাজ বার বার বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বেড়ে যাচ্ছে প্রকল্প ব্যয়। শুরু’র দিকে এর প্রকল্প ব্যয় ১ হাজার কোটি টাকা থাকলে এখন তা দু’হাজার কোটি টাকার বেশি। মূলত ট্রান্স এশিয়ান রেলওয়ের অংশ হিসেবে এ রেল লাইন ঘুমধুম পর্যন্ত বিস্তৃত করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

