ঢাকা মহানগর আঃলীগের নতুন কমিটি
নিউজ ডেস্ক, সিটিজিবার্তা টোয়েন্টিফোর ডটকম
চট্টগ্রাম : ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের কমিটি গঠন নিয়ে জল্পনা-কল্পনা চলছে। নেতা-কর্মীদের নানা হিসেব নিকেশও চলছে। ক্ষমতাসীন দলের মহানগর কমিটির দায়িত্ব নিয়ে দল এবং দলনেত্রীর আরো বিশ্বাসভাজন হওয়ার দৌড়ে সামিল সর্বস্তরের নেতা-কর্মীরা। কিন্তু দলে গুরুত্বপূর্ণ হলেও কমিটির দায়িত্ব পেতে বিবেচনায় না আসারও আশঙ্কা রয়েছে প্রথম সারির কোনো কোনো নেতার। আবার দলের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে খুব বেশি বলিষ্ঠ চেহারা না হলেও কমিটিতে স্থান পেতে পারেন কোনো কোনো নেতা।
আওয়ামী লীগের সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য এবং মহানগর আওয়ামী লীগের কমিটি গঠনের দায়িত্বে থাকা নেতাদের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য জানা গেছে।
ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের শেষ সম্মেলন হয়েছিল ২০১২ সালের ২৭ ডিসেম্বর। ওই দিন প্রথম অধিবেশন শেষে দ্বিতীয় অধিবেশনে বলা হয়েছিল আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সঙ্গে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের নতুন কমিটি ঘোষণা করা হবে এবং নতুন কমিটি গঠনের জন্য সম্ভাব্য নেতাদের নাম ঠিক করতে এর আগে আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক কর্নেল (অব.) ফারুক খান ও কৃষি বিষয়ক সম্পাদক ড. আব্দুর রাজ্জাককে দায়িত্ব দেয়া হয়েছিলো। কিন্তু সম্মেলনের প্রায় তিন বছর তিন মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো ঘোষণা করা হয়নি মহানগর কমিটি।
আগামী ২৮ মার্চ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সম্মেলন। তাই মহানগরের কমিটি নিয়ে আওয়ামী লীগের তৃণমূল থেকে শুরু করে প্রায় সকল স্তরেই শুরু হয়েছে আলোচনার ঝড়। কারা হচ্ছেন ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের কর্ণধার। কারা নেত্রীর বেশি আস্থাভাজন হিসেবে পরিচিত হবে এবং নেবেন ঢাকার দায়িত্ব।
এছাড়া মহানগর কমিটি দুটি (উত্তর-দক্ষিণ) করা হবে, নাকি আগের মত একটিই থাকবে, এ নিয়েও চলছে নেতাকর্মীদের মধ্যে জল্পনা কল্পনা। এদিকে আওয়ামী লীগের ঢাকা মহানগর শাখার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এম এ আজিজের মৃত্যুর পর মহানগর কমিটিতে পদ প্রত্যাশীরা আরও বেশি সক্রিয় হয়ে উঠেছেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
মহানগর আওয়ামী লীগের কমিটি গঠনের দায়িত্বে থাকা এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘ঢাকা সিটি কর্পোরেশন দুটি ভাগে ভাগ হওয়ার কারণে এর পরিধি অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে এবং মহানগর কমিটি নিয়ে কোন্দল এড়াতে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের কমিটি ভেঙে দুভাগে ভাগ করা হচ্ছে।
কাউন্সিলরদের মতামত নেওয়া হয়েছে। এখন দলের সভাপতি শেখ হাসিনা ঢাকা মহানগর ও কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবেন এবং এর পরই মহানগরের সব থানা ও ওয়ার্ড কমিটি গঠন করা হবে বলে জানান তিনি।
তবে এতে কোন্দল কমবে, না বাড়বে, তা নিয়ে সংশয়ে রয়েছে বলে জানান তিনি।
মহানগর আওয়ামী লীগ দুই ভাগে ভাগ হলে উত্তর-দক্ষিণ মিলিয়ে দুই জন সভাপতি ও দুই জন সাধারণ সম্পাদকের পদ পাবেন। আর এ পদের জন্য যারা আশা বেঁধে রয়েছেন তাদের মধ্যে রয়েছে, মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোফাজ্জেল হোসেন চৌধুরী মায়া, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কামরুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাজী সেলিম ও কামাল আহমেদ মজুমদার।
কিন্তু এদের নিয়েই এবার শুরু হয়েছে বড় দ্বিধা। মহানগর কমিটি একটি হোক বা দুটি হোক এরা সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ পদ (সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক) থেকে বঞ্চিত হতে যাচ্ছেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের পদ প্রত্যাশী এক নেতা জানান, মোফাজ্জেল হোসেন চৌধুরী মায়ার অবস্থান ভালো থাকলেও তাকে এবার মহানগর আওয়ামী লীগের দায়িত্ব দেয়া নাও হতে পারে।
এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের সম্পাদক মণ্ডলীর এক সদস্য নাম প্রকাশ না করে বলেন, মায়া সাহেব মহানগর আওয়ামী লীগের কমিটিতে আবারও থাকতে চাচ্ছেন। এ নিয়ে তিনি উচ্চ পর্যায়ে তদবিরও চালাচ্ছেন।
এছাড়া হাজী সেলিমের বিরুদ্ধে দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে অংশ নেওয়ার চেষ্টার পর থেকে তিনি দলের সিনিয়র নেতা ও প্রধানমন্ত্রীর আস্থা হারিয়ে ফেলেছেন। কামাল আহমেদ মজুমদার ও অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলামকেও ঢাকা মহানগরের তৃণমূল নেতারা চাচ্ছেন না বলেও জানা গেছে।
তিনি আরও বলেন, মহানগর আওয়ামী লীগের একটি কমিটি দেওয়া বা দুই ভাগে ভাগ করা হলেও এটা নিয়ে বিশৃঙ্খলা ও গ্রুপিং হবার সম্ভাবনা থাকায় কমিটিতে নেতৃত্ব বাছাইয়ের দায়িত্ব সম্পূর্ণ নেত্রী (শেখ হাসিনা) নিজে নিয়েছেন। তিনিই ঠিক করবেন কারা যোগ্য এবং তার সিদ্ধান্তই দলের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত। আমরা এর বাইরে যাব না।
ঢাকা উত্তরে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য এ কে এম রহমত উল্লাহ, আসাদুজ্জামান খান কামাল, আসলামুল হক আসলাম, মোহাম্মদপুর থানা শাখার সভাপতি সাদেক খানের নাম সব থেকে বেশি আলোচনায় রয়েছে এবং ঢাকা মহানগর দক্ষিণে সাংগঠনিক সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আওলাদ হোসেন, মুকুল চৌধুরীর নাম শোনা যাচ্ছে।
ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা জানান, সম্মেলনের পর নতুন কমিটি ঘোষিত না হওয়ায় নেতৃত্বপ্রত্যাশীরা হতাশ হয়ে পড়ছেন। তাঁদের অনেকেই দলের কার্যক্রম থেকে নিজেদের গুটিয়ে নিচ্ছেন। এতে দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ার আশঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে। এ কারণে একের পর এক সময় বেঁধে দেওয়ার পরও ওয়ার্ড, ইউনিয়ন ও থানা কমিটির সম্মেলন করা সম্ভব হচ্ছে না।
জানা গেছে, বিভিন্ন সময়ে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের নেতাদের সামনেই প্রকাশ্যে ক্ষোভ প্রকাশ করেন বিভিন্ন ওয়ার্ড ও থানার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকেরা।
ঢাকা মহানগর কমিটি গঠনের বিষয়ে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ বলেন, ‘ঢাকা মহানগর কমিটি নিয়ে এই মুহূর্তে আমি কোন কথা বলতে চাচ্ছি না। তবে আশা করছি অতি শিগগিরই এ কমিটি গঠন করা হবে।’
আওয়ামী লীগের জাতীয় সম্মেলনের আগে না পরে মহানগর কমিটি ঘোষণা করা হবে সে বিষয়ে সঠিক কোন তথ্য জানা যায়নি।
প্রসঙ্গত, ২০০৩ সালের ১৮ জুন ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। ওই সম্মেলনে ঢাকার সাবেক মেয়র প্রয়াত মোহাম্মদ হানিফকে সভাপতি ও মায়াকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়। মোহাম্মদ হানিফের মৃত্যুর পর এমএ আজিজ ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। কিন্তু এম এ আজিজের মৃত্যুর পরে সভাপতির পদটিও বর্তমানে খালি রয়েছে। সূত্র-রাইজিংবিডি

