খেলাডেস্ক, সিটিজিবার্তা২৪ডটকম
রোববার, ১৮ এপ্রিল ২০১৬
ঘরোয়া ক্রিকেটে ঘুরেফিরে প্রতিবছরই হয় আলোচনাটা। অমুকের বোলিং অ্যাকশন ঠিক নেই, তমুক তো ‘চাক’ করে! কিন্তু আলোচনা পর্যন্তই। কারও অ্যাকশনে আসলেই ত্রুটি আছে কি না বা ত্রুটি থাকলে সেটা কীভাবে শোধরানো যায়, সেসব নিয়ে গত আট-নয় বছরে মাথাই ঘামায়নি বিসিবি।
তবে এবার আর বিষয়টা উপেক্ষা করা যাচ্ছে না। বিসিবিকে নড়েচড়ে বসতে বাধ্য করেছেন তাসকিন আহমেদ ও আরাফাত সানি!
সদ্য সমাপ্ত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দলের এই দুই বোলারই অবৈধ বোলিং অ্যাকশনের দায়ে বোলিং-নিষেধাজ্ঞায় পড়েছেন। এরপরই নতুন করে আলোচনাটা উঠল বোলিং অ্যাকশন শোধরানোটা কি ঘরোয়া ক্রিকেটেই হয়ে যাওয়া উচিত নয়! কিন্তু কীভাবে? প্রায় এক দশক ধরে যে বিসিবিতে বোলিং অ্যাকশন রিভিউ কমিটিই নেই! আম্পায়াররা কদাচ কোনো বোলারের অ্যাকশনকে সন্দেহজনক বলে রিপোর্ট করলেও রিভিউ কমিটি বা পুনর্বাসনের ব্যবস্থা না থাকায় বোলাররা সন্দেহজনক অ্যাকশন নিয়েই বোলিং করে গেছেন দিনের পর দিন।
তাসকিন-সানির ঘটনা চোখ খুলে দেওয়ায় অবশেষে নড়েচড়ে বসেছে বিসিবি। ঘরোয়া ক্রিকেটে ‘চাকার’ ধরতে বোলিং অ্যাকশন পর্যালোচনা ও পুনর্বাসনপ্রক্রিয়ার একটি খসড়া এর মধ্যেই তৈরি হয়ে গেছে বলে জানিয়েছে সূত্র।
আম্পায়াররা কোনো বোলারের অ্যাকশন নিয়ে সন্দেহ প্রকাশের পর তিনটি ধাপে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে খসড়ায়।
ঘরোয়া ক্রিকেটে আম্পায়াররা এমনিতেও যথেষ্ট চাপে থাকেন। বিশেষ করে ক্লাব ক্রিকেটে তো আম্পায়ারদের মাধ্যমে পেশিশক্তি দেখানোটা খুবই সহজ। অন্য দলকে বিপদে ফেলতে কোনো বোলারের অ্যাকশন নিয়ে ষড়যন্ত্রমূলক প্রশ্ন তোলাও তাই অস্বাভাবিক কিছু নয়। বোলিং অ্যাকশন নিয়ে আম্পায়ারদের সন্দেহকে তাই চূড়ান্ত ভাবতে রাজি নয় বিসিবি।
সন্দেহভাজন বোলারের অ্যাকশনে আসলেই ত্রুটি থাকতে পারে কি না, প্রথম ধাপে সেটি পরীক্ষা করে দেখবেন স্বাধীন বোলিং রিভিউ কমিটির সদস্যরা। আম্পায়ারদের সন্দেহ সঠিক মনে হলে তাঁরা তা জানাবেন পর্যালোচনা কমিটিকে। এই কমিটি সমস্যা চিহ্নিত করে পুনর্বাসন কমিটিকে নির্দেশনা দেবে এবং পুনর্বাসন কমিটি অ্যাকশন শোধরানোর কাজ করবে।
বিসিবির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নিজাম উদ্দিন চৌধুরী অবশ্য জানিয়েছেন, সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে আলোচনা করেই চূড়ান্ত করা হবে বোলিং অ্যাকশন পর্যালোচনা প্রক্রিয়া। তবে বিসিবি চায় এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা যেন নিজেদের কাজটা স্বাধীনভাবে করতে পারেন, ‘আমরা একটি খসড়া কাঠামো দাঁড় করিয়েছি। এর প্রতিটি ধাপে কোচ, সাবেক খেলোয়াড়, আম্পায়ার এবং প্রয়োজনে বিসিবি পরিচালনা পরিষদেরও প্রতিনিধিত্ব থাকতে পারে। আমরা চাই যাঁরা কাজটা করবেন, তাঁরা যেন পূর্ণ স্বাধীনতা এবং কর্তৃত্ব নিয়ে তা করতে পারেন।’
আসন্ন প্রিমিয়ার লিগের আগেই কাঠামো চূড়ান্ত হয়ে যাবে বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাহী। তবে খেলোয়াড় দলবদল ‘প্লেয়ার্স বাই চয়েস’ পদ্ধতিতে হওয়ায় এবারই এই প্রক্রিয়ার পূর্ণ বাস্তবায়নে দেখা দিতে পারে কৌশলগত সমস্যা। ‘প্লেয়ার্স বাই চয়েস’-এর খেলোয়াড় তালিকা বিসিবির করা বলে তারা চাইলেই কোনো বোলারকে হঠাৎ করে ‘চাকার’ বলতে পারে না।
ত্রুটিপূর্ণ অ্যাকশনের বোলারদের বোলিংয়ে নিষেধাজ্ঞাটা তাই আসতে পারে পরের আসরের দলবদলের সময়। তার আগে অবশ্য বোলাররা অ্যাকশন শোধরানোর সুযোগ পাবেন এবং সেটা বিসিবির তত্ত্বাবধানেই।
শুধু প্রিমিয়ার লিগ নয়; জাতীয় লিগ, বিসিএল, বিপিএল, প্রথম বিভাগ এবং দ্বিতীয় বিভাগ ক্রিকেটকেও বোলিং অ্যাকশন পর্যালোচনা প্রক্রিয়ায় রাখার পরিকল্পনা বিসিবির।
তবে এত বিশাল পরিধি নিয়ে কাজ করতে গেলে সন্দেহজনক বোলিং অ্যাকশনের সব বোলারের পুনর্বাসনপ্রক্রিয়ার দায়িত্ব নেওয়া বিসিবির পক্ষে সম্ভব হবে কি না, এটাও একটা প্রশ্ন। এই কাজের জন্য আধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন কোনো পরীক্ষাগারও নেই বাংলাদেশে। নিজাম উদ্দিন চৌধুরী অবশ্য জানালেন, ‘প্রয়োজনে ভিডিও ক্যামেরা দিয়ে হলেও মৌলিক প্রয়োজনটুকু মেটাতে পারে, এমন ল্যাবের ব্যবস্থা করা হবে।’

