বুধবার, ২০ এপ্রিল ২০১৬
সিটিজিবার্তা২৪ডটকম
নিউজ ডেস্ক : বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরি তদন্তে ফিলিপিন্স সিনেটের ব্লু রিবন কমিটির শুনানিতে প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত দেয়া তথ্যে মিল না থাকায় সৃষ্টি হয়েছে বিভ্রান্তি। ষষ্ঠ দফার শুনানিতে আরসিবিসি’র সাবেক ব্যবস্থাপক মায়া দেগুইতো বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের চুরি হওয়া অর্থ ব্যবসায়ী উইলিয়াম গো’র অ্যাকাউন্টে স্থানান্তরের জন্য তাকে নির্দেশনা দেন কিম অং।
রিজার্ভ চুরির ঘটনায় ফিলিপিন্সের ব্লু-রিবন কমিটির শুনানিতে অভিযুক্তরা মিথ্যা তথ্য দেয়ায় এবার খোদ বিপাকে পড়েছে সিনেট কমিটি। গতকাল ষষ্ঠ দফা শুনানিতে আরসিবিসির জুপিটার শাখার সাবেক ব্যবস্থাপক মায়া দেগুইতো ও চীনা ব্যবসায়ী কিম ওংয়ের বিভ্রান্তিকর বক্তব্যের কারণে তদন্তে জটিলতা ও অগ্রগতিতে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন সিনেটর সার্জিও ওসমেনা। এদিকে, পাচার হওয়া ডলার পেসোতে রূপান্তর ও ক্যাসিনোতে পৌঁছে দেয়ার ঘটনায় ফিলরেমের সরাসরি সম্পৃক্ততা থাকায়- প্রশ্ন উঠেছে এ প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম নিয়েও।
অথচ এর আগে তিনি বলেন, অর্থ স্থানান্তরের নির্দেশনা পেয়েছেন ভুয়া অ্যাকাউন্টধারী ক্রিস্টোফার ল্যাগরোসাসের কাছ থেকে। এমন বিভ্রান্তিকর বক্তব্যে বিপাকে পড়েছে সিনেট কমিটি। সিনেট শুনানির পর এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা জানান সিনেট কমিটির চেয়ারম্যান সার্জিও ওসমেনা।
তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয় কিম অংকে বাঁচানোর চেষ্টা করছেন মায়া। কারণ কিমই ভুয়া অ্যাকাউন্টগুলো কিভাবে পরিচালনা করতে হবে সে বিষয়ে সব নির্দেশনা দিয়েছেন। আর এসব অ্যাকাউন্ট থেকেই চুরি হওয়া আট কোটি দশ লাখ ডলার ক্যাসিনোয় পাচার হয়েছে।’
মঙ্গলবারের সিনেট শুনানিতে প্রথমবারের মতো উপস্থিত থেকে কিছু তথ্য ফাঁস করেন ফিলরেমের ম্যাসেঞ্জার মার্ক পালমেরাস। তার বক্তব্যের সাথে মায়া দেগুইতো, কিম অং, সালুদ বাতিস্তার বক্তব্যের কোন মিল নেই বলে জানায় সিনেট কমিটি। এমনকি মার্কের অসুস্থতার যে কাগজ সিনেটে দেখানো হয়েছে সেটিও ভুয়া।
সিনেট কমিটির চেয়ারম্যান ওসমেনা বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে কে বা কারা নির্দেশনা পাঠিয়েছে সেটা জানি না। কিন্তু যে পরিমাণের অর্থ চুরি হয়েছে বা করার পরিকল্পনা ছিল সেটা কখনো মায়ার একার কাজ হতে পারে না। অথচ এখনো পর্যন্ত এ বিষয়ে কেউই সত্য কথা বলছে না।’
ফিলিপিন্সের যে ১২জন নাগরিক রিজার্ভের অর্থ পাচারের সাথে জড়িত, প্রয়োজনে তাদেরকে সিনেটে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। তথ্য-প্রমাণ খুঁজতে এবার অভিযুক্তদের ফোনকলের রেকর্ড অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সিনেট কমিটি।
