ছাত্রলীগের তিন নেতাকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের সুপারিশ

সিটিজিবার্তা২৪.কম ।।

ছাত্রলীগের তিন নেতাকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের সুপারিশ

রাবি প্রতিবেদক : রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলীসহ দুই কর্মচারীকে মারধরের ঘটনায় ছাত্রলীগের তিন নেতাকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের সুপারিশ করা হয়েছে।

গতকাল রোববার দুপুরে উপাচার্য অধ্যাপক মুহম্মদ মিজান উদ্দিনের সভাপতিত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা কমিটি এ সুপারিশ করে। পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায় তা চূড়ান্ত হবে বলে জানান উপাচার্য।

বিশ্ববিদ্যালয় ও ছাত্রলীগ সূত্রে জানা যায়, ২০১৪ সালের ২৮ আগস্ট চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী সিরাজুম মনিরকে উপাচার্য দপ্তরেই মেরে মাথা ফাটিয়ে দেয় ছাত্রলীগের তৎকালীল সাধারণ সম্পাদক ও ফাইন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের (শিক্ষাবর্ষ ২০০৭-০৮)  তৌহিদ আল হোসেন তুহিন, সহ-সভাপতি ও ফিশারীজ বিভাগের (শিক্ষাবর্ষ ২০০৭-০৮) তন্ময় আনন্দ অভি এবং শহীদ হবিবুর রহমান হল শাখা ছাত্রলীগের বর্তমান সভাপতি ও একই বিভাগের (শিক্ষাবর্ষ ২০০৯-১০) মামুন-অর-রশিদ।

একই দিন তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরও দুই কর্মচারীকে মারধর করেন। এ ঘটনায় তুহিনকে ওই দিনই বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক থেকে অব্যহতি দেয় ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটি। এর দুই দিন পর উপাচার্য নিজস্ব ক্ষমতাবলে তাদেরকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাময়িক বহিষ্কার করেন।

শৃঙ্খলা কমিটি ও সিন্ডিকেটের একজন সদস্য এসব তথ্য নিশ্চিত করে বলেন ‘২০১১ সালের পর আজই প্রথম বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হলো। এতে উপস্থিত ছিলেন উপাচার্য, উপ-উপাচার্য, প্রক্টর, সিন্ডিকেট সদস্য, সব অনুষদের ডীন ও প্রাধ্যক্ষবৃন্দ। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্থায়ীভাবে ওই তিন ছাত্রলীগ নেতাকে বহিষ্কারের জন্য শৃঙ্খলা কমিটিতে সিদ্ধান্ত হয়েছে। শৃঙ্খলা কমিটির সব সদস্যদের এই সিদ্ধান্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটে সুপারিশ আকারে যাবে। সিন্ডিকেট পরবর্তীতে তাদের বহিষ্কারের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।’

এ বিষয়ে সহ-উপাচার্য অধ্যাপক চৌধুরী সারওয়ার জাহান বলেন, ‘তাদেরকে আগেই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছিলো। আজ শৃঙ্খলা কমিটি এক বৈঠকে বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেটের কাছে ওই তিন নেতাকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের সুপারিশ করেছে।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মুহম্মদ মিজান উদ্দিন বলেন, ‘শৃঙ্খলা কমিটির সুপারিশ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট না হওয়া পর্যন্ত এখনই বলা যাচ্ছে না শৃঙ্খলা কমিটির সুপারিশ চূড়ান্তভাবে কার্যকর হবে কি না।’




Leave a Reply