মঙ্গলবার, ২৪ নভেম্বর ২০১৫
সিটিজিবার্তা ২৪ ডটকম
চট্টগ্রাম প্রতিনিধি : নগরীর কোতোয়ালী থানার হাজারি গলিতে ভেজাল ওষুধবিরোধী অভিযানে ভ্রাম্যমাণ আদালতের ওপর হামলা চালিয়েছে সেখানকার ওষুধ বিক্রেতারা।
এ সময় দুই আনসার সদস্যসহ আহত হয়েছে বেশ কয়েকজন। এ ঘটনায় চারজনকে আটক করেছে পুলিশ। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার প্রতিবাদ ও আটকদের মুক্তির দাবিতে ওষুধ বিক্রি বন্ধ রেখেছে দোকান মালিকরা।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে হাজারি গলির ফার্মেসিতে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান শুরু করে। এতে নেতৃত্ব দেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের নির্বাহি ম্যাজিস্ট্রেট রুহুল আমীন।
কয়েকটি দোকান থেকে সরকারি, মেয়াদ উত্তীর্ণ ও নকল ওষুধ জব্দ করে ভ্রাম্যমাণ আদালত। এসময় হঠাৎ করেই দোকান মালিক ও কর্মচারীরা আনসার সদস্যদের লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল ছুড়তে থাকে। এতে দুইজন আনসার সদস্য আহত হন। এসময় উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
হামলার ঘটনায় চারজনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। পরে দুপুর সোয়া একটার দিকে ওষুধ বিক্রি বন্ধ রেখে প্রতিবাদ জানানোর ঘোষণা দেন বাংলাদেশ কেমিস্ট অ্যান্ড ড্রাগিস্ট সমিতির সভাপতি সমীর কান্তি সিকদার।
তিনি বলেন, আটক চারজনকে ছেড়ে না দেওয়া পর্যন্ত ওষুধ বিক্রি বন্ধ থাকবে। আজ (মঙ্গলবার) সন্ধ্যার মধ্যে সমস্যার সমাধান না হলে অনির্দিষ্টকালের জন্য ওষুধ বিক্রি বন্ধের কর্মসূচি দেওয়া হবে।
নির্বাহি ম্যাজিস্ট্রেট রুহুল আমীন বলেন, ‘ভ্রাম্যমাণ আদালতের সদস্যরা হাজারি গলিতে প্রবেশ করার পর থেকেই আক্রমনাত্মক মন্তব্য শুরু করে ওষুধ বিক্রেতারা। কয়েকটি ফার্মেসি থেকে ওষুধ জব্দের পর তারা হামলা চালায়।’
তিনি বলেন, ‘নগরীর বিভিন্ন ফার্মেসিতে যেসব ভেজাল, মেয়াদোত্তীর্ণ ও ফুড সাপ্লিমেন্ট পাওয়া গেছে তা হাজারি গলিতেই তৈরি হয় বলে আমরা জানতে পেরেছি। এখানের ব্যবসায়ীরা জীবন রক্ষাকারী ওষুধ নকল করছে যা জীবনের জন্য খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। তাই এখানে অভিযান পরিচালনা করি।’
তিনি আরো বলেন, ‘এখানকার অধিকাংশ দোকানেই ভেজাল ওষুধ তৈরি হয়। বিক্রি করা হয় নিষিদ্ধ ওষুধ। ধরা পড়ার ভয়ে তারা হামলা চালিয়েছে।’
সিটিজি বার্তা ২৪ এ প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য লিখুন
