বুধবার,২৫ নভেম্বর ২০১৫
সিটিজিবার্তা২৪ডটকম
স্টাফ রিপোর্টার : রাখাইন স্বর্ণ ব্যবসায়ীকে ছিনতাইকারীর হাত থেকে বাঁচাতে গিয়ে নিজেই জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রয়েছে নুর হোছেন। আর্থিক সংকটের কারণে এই দুঃসাহসী ব্যক্তির চিকিৎসা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলে জানান তার পরিবার।
গত ২৩ নভেম্বর সন্ধ্যা সোয়া ৬টারদিকে একদল মুখোশধারী ছিনতাইকারী চক্র টেকনাফ সড়কের হ্নীলা চৌধুরী পাড়া ব্রীজে মাহিন্দ্রারা ব্যারিকেড দিয়ে রাখাইন স্বর্ণাকার মংথোই-হ্লা রাখাইনের গতিরোধ করে। এ সময় মংথোই-হ্লা রাখাইন সাহায্যের জন্য চিৎকার করলে পাশ্ববর্তী নাটমোরা পাড়ার জালাল উদ্দিনের মালিকানাধীন মৎস্য ঘেঁরে কর্মরত সাবেক মেম্বার রশিদ আহমদের পুত্র নুর হোছেন (৩৮) তাকে বাঁচানোর জন্য এগিয়ে আসে।
তখনই ছিনতাইকারী দল নুর হোছেনের মুখে উপর্যুপরি ২ রাউন্ড গুলিবর্ষণ করে মাটিতে রক্তাক্ত করে ফেলে দেয়। এ সময় তার কয়েকটি দাঁত উপড়ে মাটিতে পড়ে যায়। এরপর রাখাইন স্বর্ণ ব্যবসায়ী মংথোই-হ্লা রাখাইনকে চুরিকাঘাত এবং গুলিবর্ষণ করে হাতে থাকা নগদ টাকা-স্বর্ণালংকারের ব্যাগটি ছিনিয়ে নিয়ে যায় তারা।
এ সংবাদ ছড়িয়ে পড়ার পর শত শত রাখাইন-মুসলিম নারী-পুরুষ ঘটনাস্থলে গিয়ে নুর হোছেন ও মংথোই-হ্লাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যায়। এই ঘটনার পর পৃথকভাবে টেকনাফ মডেল থানার এএসআই মোঃ খালেদ মোশারফ ও ওসি মোঃ আতাউর রহমান খোন্দকার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। প্রাথমিকভাবে ছিনতাইকারী চক্রের কয়েক সদস্যকে সনাক্ত করতে পেরেছে বলে জানালেও অভিযানের স্বার্থে তা গোপন রাখা হয়েছে।
পরদিন ২৪ নভেম্বর দুপুরে দ্রুত ছিনতাইকারী চক্রের সদস্যদের আটকের দাবীতে রাখাইনদের মানব বন্ধন ও প্রতিবাদ সভায় নুর হোছেনের দুঃসাহসের প্রশংসা করে তার দ্রুত সুস্থতা কামনা করা হয়।
এদিকে চমেক হাসপাতালের জরুরী বিভাগে ২৫ নভেম্বর দুপুরে নুর হোছনের মুখ গহ্বরে বিদ্ধ হয়ে থাকা বুলেট বের করার জন্য অপারেশনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার কথা রয়েছে।
সিটিজি বার্তা ২৪ এ প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য লিখুন