বৃহস্পতিবার, ২৬ নভেম্বর ২০১৫
সিটিজিবার্তা২৪ডটকম
চট্টগ্রাম : চট্টগ্রামের ছাত্রলীগের বহিস্কৃত সাবেক সহ সম্পাদক সাইফুল আলম লিমনকে সন্ত্রাসীই বলে অভিহিত করেছেন র্যাব-৭ এর পরিচালক লে. কর্ণেল মিফতাহ উদ্দিন আহমেদ। এছাড়া যারাই টেন্ডারবাজি করবে, সন্ত্রাস করবে তাদের ছাড় দেওয়া হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন র্যাব-৭ এর পরিচালক।
বৃহস্পতিবার সকালে পতেঙ্গার র্যাব সদর দপ্তরে সংবাদ সম্মেলন করে তিনি এ কথা জানান।
লিমন ২০১৩ সালের ২৪ জুন সিআরবিতে কোটি টাকার রেলের টেন্ডার নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে শিশুসহ জোড়া খুনের ঘটনায় দায়ের করা মামলার অভিযোগপত্রভূক্ত প্রধান আসামি। সে নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিনের অনুসারী হিসেবে ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত বলে জানিয়েছে র্যাব।
এ উপলক্ষে সকাল সাড়ে ১১টায় র্যাবের পতেঙ্গা কার্যালয়ে লিমনকে নিয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে র্যাব-৭ এর পরিচালক লে. কর্ণেল মিফতাহ উদ্দিন বলেন, ‘২০১৩ সালের ২৪ জুন শিশুসহ জোড়া খুনের প্রধানতম আসামি সাইফুল আলম লিমনকে অস্ত্র-গুলি ও তিন সহযোগীসহ গতকাল গ্রেপ্তার করা হয়। এই সন্ত্রাসী লিমনের বিরুদ্ধে জোড়া খুনের মামলা ছাড়া নগরীর বিভিন্ন থানায় চাঁদাাবাজি, হত্যার হুমকি ও নির্যাতনসহ বিভিন্ন অভিযোগে অন্তত সাতটি মামলা রয়েছে। র্যাব বরাবরই এসব সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে সোচ্চার রয়েছে। এই ধরণের অপরাধীদের দমনে র্যাব কাজ করে যাচ্ছে।’
গতকাল রাতে জিজ্ঞাসাবাদে লিমন ও তার সহযাগীরা তাদের অস্ত্রভাণ্ডারের ব্যাপারে র্যাবকে তথ্য দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন মিফতাহ উদ্দিন। তাদের তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চলমান রয়েছে বলেও জানান তিনি।
এদিকে র্যাবের হাতে গ্রেপ্তারের খবর প্রকাশিত হওয়ার পরপরই লিমনের মুক্তি দাবি করে বিবৃতি দিয়েছিল চবি ছাত্রলীগের সভাপতি আলমগীর টিপু। এতে তাকে চবির মেধাবী ছাত্রনেতা ও ছাত্রলীগের সাবেক সহ সম্পাতদক হিসেবে দাবি করা হয়। এসময় ছাত্রলীগ নেতা হিসেবে তদার মুক্তিও দাবি করা হয়।
বুধবার সন্ধ্যায় নগরীর এম এম আলী রোডের ভূতাইয়া গলির ফারুক টাউয়ারের ২য় তলার ভাড়াবাসা থেকে অস্ত্র-গুলিসহ তাকে গ্রেপ্তার করে র্যাব।লিমনের সাথে গ্রেপ্তার করা হয়, সাদ্দাম হোসেন (২৩), তৌহিদুল ইসলাম (২৯) ও আজিজুল হক (২৮) নামে তিন সহযোগীকে। এসময় তাদের কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, তিনটি ওয়ান শুট্যার গান, ৪টি ম্যাগজিন ও ৭ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। গতকাল র্যাব-৭ এর সহকারি পরিচালক এএসপি সাহেদা সুলতানা ও স্কোয়াডন লিডার সাফায়েত জামিল ফাহিম দু’জনই সংবাদমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ।
সিআরবিতে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে শিশুসহ দু’জন নিহতের ঘটনায় যুবলীগের কেন্দ্রিয় উপ অর্থ সম্পাদক নেতা হেলাল আকবর চৌধুরী বাবব ও বহিস্কৃত ছাত্রলীগ নেতা সাইফুল আলম লিমনসহ যুবলীগ-ছাত্রলীগের ৬২ জনের বিরুদ্ধে গত সোমবার আদালতে অভিযোগপত্র জমা দিয়েছে ডিবি। অভিযোগপত্রে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি আলমগীর টিপু,নগর যুবলীগ নেতা খোকন চন্দ্র তাতীকেও অভিযুক্ত করা হয়েছে।
আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০১৩ সালের ২৪ জুন সিআরবিতে এক কোটি ১০ লাখ টাকার টেন্ডার নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে বাবর ও লিমনের অনুসারীদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে যুবলীগের কর্মী সাজু পালিত (২৮) ও শিশু আরমান (৮) নিহত হয়। এঘটনায় আদালতে জমা দেয়া মামলার অভিযোগপত্রে বাবর ও লিমনসহ মোট ৬২ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। সাক্ষী রাখা হয়েছে ৪০জনকে। যদিও সংঘর্ষের ঘটনায় কোতোয়ালি থানার উপ পরিদর্শক (এসআই) মহিবুর রহমান বাদী হয়ে বাবর-লিমনসহ ছাত্রলীগ-যুবলীগের ৮৭ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতপরিচয়ে ৩০ থেকে ৪০ জনকে আসামি করে নগরের কোতোয়ালি থানায় মামলাটি করেন। পরে নিহত সাজু পালিতের মা মিনতি পালিত বাদী হয়ে অজিত বিশ্বাসকে আসামি করে আদালতে অপর একটি হত্যা মামলা করেন।
তবে অভিযোগপত্রে বাবর-লিমনসহ ৬২ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিলেও মোট ২৬ জনকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। আবার এজাহারে না থাকলেও শাহ আলম নামে একজনে অভিযোগপত্রে আসামি করা হয়েছে। এদের মধ্যে সাইফুল আলম লিমনকে এক নম্বর, লিমনের অনুসারি চবি ছাত্রলীগ সভাপতি আলমগীর টিপুকে সাত নম্বর ও অপর অভিযুক্ত হেলাল আকবর চৌধুরী বাবরকে ৩৪ নম্বর আসামি করা হয়েছে। লিমন এই মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে এতদিন জামিনে ছিলেন।
অভিযোগপত্রভুক্ত ৬২ আসামির মধ্যে পলাতক রয়েছেন ১২ জন। গ্রেপ্তার হয়ে জামিনে রয়েছেন ৪৮ জন। বর্তমানে কারাগারে আটক আছেন আসামি অমিত মুহুরী ও শিমুল প্রসাদ। তবে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্রগুলো উদ্ধার করা যায়নি।
ডিবির তদন্তে উঠে এসেছে, রেলের ১ কোটি ১০ লাখ টাকার দরপত্র নিয়ে বাবর ও লিমনের অনুসারীদের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার করা নিয়ে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের ঘটনার পর পৌনে দুই বছর মামলাটির তদন্ত করেন কোতোয়ালি থানার সাবেক উপ পরিদর্শক (এসআই) মো. কামরুজ্জামান। গত এপ্রিল মাসে এটি তদন্তের জন্য নগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের কাছে পাঠানো হয়। প্রথমে নগর ডিবির সাবেক পরিদর্শক জাহিদুল ইসলাম তদন্ত করেন। সর্বশেষ তদন্ত করে অভিযোগপত্র জমা দেন ডিবির পরিদর্শক আতিক চৌধুরী।
সিটিজি বার্তা ২৪ এ প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য লিখুন