Tuesday 07 March 2017
Ctgbarta24.com
বিশেষ প্রতিবেদক: “মেয়েদের এমন শিক্ষায় শিক্ষিত করিয়া তুলিতে হইবে, যাহাতে তাহারা ভবিষ্যৎ জীবনে আদর্শ গৃহিণী, আদর্শ জননী এবং আদর্শ নারীরূপে পরিচিত হইতে পারে।” এটি বেগম রোকেয়ার অমোঘ বানী। নারীদের স্বাতন্ত্র ও অনুকরণীয় পরিচিতি প্রতিষ্ঠার জন্য যিনি আজীবন সংগ্রাম করেছেন তিনি মুসলিম নারী আন্দোলনের পথিকৃৎ বেগম রোকেয়া। তিনি শুধু একজন সমাজ সংস্কারক বা কর্মী ছিলেন না। তিনি ছিলেন একজন অসাধারন সাহিত্যিক।
তেমনি এক আধুনিক নারী জাগরণের পথিকৃৎ, অনুপ্রেরণার আরেক নাম কক্সবাজারের জয়া জাহান চৌধুরী। ইতিমধ্যে যার প্রতিভার প্রমান মিলেছে সমাজ পররিবর্তন কিংবা আর্থসামাজিক ও নিঃস্বার্থ মানবিক কাজে। এবার একুশে সাহিত্য মেলায় জয়া জাহান চৌঃ বিপ্নবী কাব্যগ্রন্থ ” বন্ধুত্ব” প্রকাশিত হয়েছে। তাঁর সব ধরনের লেখাতেই ফুটে উঠেছে সমাজ, মানবতা এবং বিপদগ্রস্ত মানুষের আকুতি কিংবা বর্তমান পুরুষ শাসিত সমাজে নারী এগিয়ে আসার নানা সমস্যা।
কক্সবাজার শহরে জন্ম নেওয়া এই মহিয়সী নারী বাঙ্গালী সাহিত্যিক, নারী আন্দোলনের অগ্রদূত ও সমাজ সংস্কারক, আর্থ নিপিড়িত মানুষের কষ্টে এগিয়ে আসার এক কবি সৈনিক জয়া জাহান চৌধুরী। যিনি প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছেন দেশ ও দেশের মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে নিজের সামর্থ্যানুযায়ী হতদরিদ্র মানুষের কষ্ট লাঘব করার মিশনে।
তিনি নিজেকে বার বার কান্না জড়িত মানুষের পাশে দাড় করানোর চেষ্টা করেছেন। কখনো পেরেছেন আবার কখনো পারেননি সমাজের রক্তচক্ষুর রোষানলে পড়ে। থামিয়ে দিতে চেয়েছে বারবার থাকে এক শ্রেনীর মানুষ। হোক সে হিংসুক নারী কিংবা পুরুষ তান্ত্রিক আধুনিক মানব। কিন্তু নানা নির্যাতন আর আগাতে পিছনে পড়ে থাকা বা থমিয়ে থাকার মতো নারী নয় সে।
জয়া জাহান চৌধুরী অন্ধকার ভেদ করে আলোতে আসা, দুরন্ত দুর্বার গতিতে এগিয়ে থাকার আরেক নাম। তিনি ছুটে চলেছেন দেশের আনাচে কানাচে পড়ে থাকা ক্রন্দনরত মানুষের পাশে দাড়াতে । যেমনটি ইতিহাসের করুন পরিনতি রানা প্লাজার ট্রাজেডি ধ্বংসস্তুপে চাপা পড়া মানুষের কল্যাণে তিনি দীর্ঘদিন আরটিভি ভবনের সামনে দাড়িয়ে থেকে কাজ করেছেন। পরবর্তীতে ঢাকায় ষাট জন এতিম বাচ্চা শিশুদের জীবন গঠনে আর্থিক ও সাহায্য সহযোগিতা যুগিয়েছেন।
পুরান ঢাকায় স্বামী কতৃক যৌতুকের বলি স্ত্রীকে আগুনে পুড়িয়ে মারার চেষ্টায় আহত নারীকে চিকিৎসা সেবা দিতে সারা ঢাকা শহর ঘুরে পুড়ে যাওয়া নারীকে বাঁচাতে এগিয়ে এসেছিলেন তিনি। নিঃস্বার্থ মানবতায় মাসের পর মাস পরিশ্রম করে অর্থ সংগ্রহ ও চিকিৎসা দিয়েছিলেন। ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসারত অভাব হতদরিদ্র মানুষের আর্থিক সাহায্য যুগিয়েছেন প্রায় সময়। মাদকের ভয়াবহতা বন্ধে “মাদক মুক্ত বাংলাদেশ চাই” ব্যানারে মহান মে দিবসে প্রতিবছর “মাদককে না বলি,সুস্থ দেশ ও জাতি গড়ে তুলি” এমন কর্মসূচি ও শ্লোগানে মুখরিত রাখে জাতীয় প্রেস ক্লাব প্রাঙ্গণ।
দেশের ভেতরে নয়,মানবিকতা বড় বেশি ব্যাপক। সার্কভুক্ত পাশের রাষ্ট্র নেপালে যখন স্মরণকালের ভয়াবহ ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠেছিলো। হাজার হাজার লাশের স্তুপে কান্না জড়িত মানুষের আহাজারি দেখে টিভি পর্দায় “অর্গানাইজেশন ফর মিগ্রান্ট রাইট ওয়েলফেয়ার” থেকে ভূমিকম্প কবলিত মানুষের পাশে দাড়িয়ে ত্রান সহায়তা দিয়েছিলেন তিনি । এমনকি ” পদক্ষেপ বাংলাদেশ ” নামক সামাজিক সংঘটকের মাধ্যমে শহীদ মিনারে ১০০ শিশুদের চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা আয়োজন করে শিশুদের মেধা বিকাশে সাহায্য ও পুরস্কৃত করেছিলেন।
এসময় উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদালয়ের ভিসি অধ্যাপক ডঃ আ,আ,ম,স আরেফিন সিদ্দিক। অন্যদিকে প্রচার বিমুখ এই নারী জাগরণের অহংকার জয়া জাহান চৌধুরী নীরবে এভাবে আর্থসামাজিক কাজে নিজেকে আত্বনিয়োগ করলেও আড়াল হতে পারেননি দেশের বড় বড় সম্মাননা প্রতিষ্টান থেকে। একে একে নানা অার্থসামাজিক কাজে পুরস্কৃত হয়েছেন বহুবার।
বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ পরিষদ (বাসকাপ) কতৃক গনমাধ্যম থেকে মানবাধিকার কর্মী হিসাবে সম্মাননা, শেরে বাংলা সামাজিক ফাউন্ডেশন থেকে গীতিকার হিসেবে স্বীকৃতি লাভ, সাউথ এশিয়ান লেটারেচার এন্ড কালচারাল ফোরাম থেকে সম্মাননা, এমনকি কমিটমেন্ট কালচারাল একাডেমী থেকে সম্মাননা পেয়েছেন বর্তমান রেলমন্ত্রীর হাত থেকে, মহাত্মা গান্ধী গোন্ড মেডেল অর্জন করেছেন মানবধিকার ও পরিবেশ সাংবাদিক সোসাইটি থেকে সমাজ সেবায় বিশেষ অবদান স্বরুপ মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রীর হাত থেকে।
উন্নত মনমানসিকতা বাস্তবায়ন করতে একের পর এক কাজ করে যাচ্ছেন সমাজ পরিবর্তনের পথিকৃৎ জয়া জাহান চৌধুরী। তিনি একজন দূরদর্শী সমাজ চিন্তক, সুসাহিত্যিক এবং নিভৃতচারি সুদূরপ্রসারী রাজনীতিক। মেধা-মনন এবং সুচিন্তিত মনোভাবের স্বপ্নদ্রষ্টা তিনি। নিজেই নিজের নেতা হয়ে কাজ করে গেছেন। পরিবারের কাছ থেকে পেয়েছিলেন মুক্তমনে চিন্তা করার সাহস ও সহযোগিতা। উৎসাহ যুগিয়েছে কক্সবাজারের মাটি ও মানুষ।
তিনি বলেছেন সমাজ পরিবর্তন কখনো নতুন নতুন শ্লোগানে হয়না, সমাজ পরিবর্তন একদিনেও সম্ভব নয়। এমনকি কারো হাতে আলা দিনের আশ্চর্য্য চেরাগ নেই যে,আমাদের দেশের সমস্যা গুলো এক ঘন্টায় মিটিয়ে যাবে । সকলের সম্মলিত প্রয়াসে দেশ গঠনে বড় ভুমিকা রাখবে বলে মনে করেন তিনি।
সমাজকর্মী জয়া জাহান, দেশে পাওয়ার ভিশন নামে একটা কোম্পানির সানি ব্রান্ডের বিপনন কর্মকর্তা হিসাবে ৪ বছর উচ্চ বেতন ও কমিশনে কাজ করেছিলেন ঢাকা উত্তরায় । পাশাপাশি একটি লিফট বিপননে ভালো কমিশনে কাজ ছিলেন। বর্তমানে তিনি ঢাকার ”কারস্ কনসোম”নামে কোম্পানীতে মার্কেটিং অফিসার হিসাবে উচ্চ বেতনে চাকরি করেন। খুব ছোটকাল থেকেই তার লেখার হাতেখড়ি। লেজার ভিশন নামে গানের প্রতিষ্ঠান থেকে নীল চাঁদোয়া নামে একটি গানের সিডি বের হয় তার। যেখানে দেশের সব জনপ্রিয় শিল্পীরা গান করেন । গীতিকার হিসাবে ও রয়েছে তার সুখ্যাতি। তিনি জানান, নারীদের বাধা আসবেই সামনে এগিয়ে যেতে চাইলেই তবে তিনি নিজের লক্ষ্যে স্থির থাকার কথা জানান । তিনি মনে করেন একদিন সত্যিই বাংলাদেশ সোনার দেশ হবে।




