স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, সিটিজিবার্তা২৪ডটকম
সোমবার, ২৬ ডিসেম্বর ২০১৬
চট্টগ্রাম : মহান মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক, ১০ জন বীরঙ্গনা মুক্তিযোদ্ধা, ৫ জন সাংবাদিক মুক্তিযোদ্ধা সহ ১৫০ জন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে সম্মাননা প্রদান করল চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন।
অতীতের ধারাবাহিকতায় ৪৬তম মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে আজ সোমবার (২৬ ডিসেম্বর) দুপুরে নগরীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনষ্টিটিউট মিলনায়তনে চসিক এ সম্মানতা অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন।
স্বপরিবারে মুক্তিযোদ্ধাদের সরব উপস্থিতিতে বিরল এ আয়োজনে সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আলহাজ্ব আ জ ম নাছির উদ্দীন।
বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রত্যেককে নগদ ১০ হাজার টাকা, সম্মাননা ক্রেষ্ট ও ফুলেল শুভেচ্ছায় সংবর্ধিত করেন সিটি মেয়র আলহাজ্ব আ জ ম নাছির উদ্দীন।
সংবর্ধিত মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে সাবেক গণ পরিষদ ও সংসদ সদস্য ইসহাক মিয়া, সাবেক গণ পরিষদ ও সংসদ সদস্য আবু সালেহ, সংসদ সদস্য মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম চৌধুরী, মরহুম মৌলভী সৈয়দ আহমদ, জননেতা জহুর আহমদ চৌধুরীর সুযোগ্য সন্তান মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী, বীরঙ্গনা মুক্তিযোদ্ধা তরিকুন নেছা, শরীফা বেগম, আনোয়ারা বেগম, সুফিয়া বেগম, আমেনা খাতুন, কল্পনা সুত্রধর, আমেনা খাতুন, জোহরা খাতুন, ঝর্না ও ফজরের নেছা এবং ৫ জন সাংবাদিক মুক্তিযোদ্ধা চট্টগ্রাম সাংবাদিক হাউজিং সোসাইটির চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মঈনুদ্দিন কাদেরী শওকত, চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারন সম্পাদক নিজাম উদ্দিন আহমেদ, দৈনিক পূর্বকোণের চীফ রিপোর্টার নওশের আলী খান, প্রবীন ফটো সাংবাদিক দেব প্রসাদ দাশ দেবু এবং দৈনিক আজাদী’র সহ সম্পাদক মরহুম ওসমানুল হক সহ ১৫০ জন।
সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন সংবর্ধিত মুক্তিযোদ্ধা সাবেক গণপরিষদ ও সংসদ সদস্য এবং বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের উপদেষ্টা আলহাজ্ব মোহাম্মদ ইসহাক মিয়া, সংবর্ধিত মুক্তিযোদ্ধা চন্দনাইশ থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম চৌধুরী, সাংসদ মিসেস সাবিহা নাহার মুসা, রাশিয়ার কনসুল জেনারেল মি.ওলেগ পি.বয়কো, (গৎ.ঙষবম চ ইড়ুশড়), চট্টগ্রামে নিযুক্ত ভারতীয় দূতাবাসে সহকারী হাই কমিশনার সোমনাথ হালদার, চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি সংবর্ধিত মুক্তিযোদ্ধা মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী, প্যনেল মেয়র চৌধুরী হাসান মাহমুদ হাসনী, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ চট্টগ্রাম জেলা কমান্ডের কমান্ডার মোহাম্মদ সাহাব উদ্দিন, মহানগর ইউনিট কমান্ডার মোজাফফর আহমদ, চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব সভাপতি কলিম সরওয়ার, চট্টগ্রাম সাংবাদিক হাউজিং সোসাইটির চেয়ারম্যান সংবর্ধিত মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব মঈনুদ্দিন কাদেরী শওকত, চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারন সম্পাদক সংবর্ধিত মুক্তিযোদ্ধা নিজাম উদ্দিন আহমদ, মুক্তিযুদ্ধ গবেষনা কেন্দ্রের চেয়ারম্যান ডা. মাহফুজুর রহমান বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবুল হোসেন। অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনায় ছিলেন মেয়রের একান্ত সচিব মোহাম্মদ মঞ্জুরুল ইসলাম।
অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলোয়াত করেন মাওলানা হারুন উর রশিদ চৌধুরী, পবিত্র গীতা থেকে পাঠ করেন হরি নারায়ন ভট্টচার্য্য, পবিত্র ত্রিপিটক থেকে পাঠ করেন রমা বড়ুয়া, পবিত্র বাইবেল থেকে পাঠ করেন ফাদার সাধন গ্রেগোরি এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের সকল শহীদদের স্মরণে দাঁড়িয়ে ১ মিনিট নিরবতা পালন করা হয়।
বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের সময় নিরবে দাঁড়িয়ে সম্মান প্রদর্শন করা হয়। প্রথমে মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপট, মুক্তিযুদ্ধ এবং মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি ইত্যাদি বিষয়ে একটি প্রামন্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।
সভার সভাপতি চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আলহাজ্ব আ জ ম নাছির উদ্দীন মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের স্মরণ করে বলেন, দায়িত্ব গ্রহণ করার পরই অবহেলিত ও অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের দূর্দশার কথা বিবেচনায় এনে দায়িত্ব পালনকালীন সময়ের মধ্যে ৫০ জন মুক্তিযোদ্ধাকে ঘর তৈরী করে দেয়ার পরিকল্পনা গ্রহণ করি। এই পরিকল্পনার আওতায় চলতি অর্থ বছরে ১০ জন মুক্তিযোদ্ধার জন্য ঘর তৈরী করে দেয়া হবে। এ লক্ষ্যে যাবতীয় কার্যক্রম সম্পাদন করা হয়েছে।
তিনি বলেন পর্যায়ক্রমে বাকীদের জন্যও ঘর তৈরী করে দেয়া হবে। বীরমুক্তিযোদ্ধারা জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান। তাঁদের মধ্যে যারা নিঃস্ব বা অভাবগ্রস্থ তাদের পাশে আমি ব্যক্তিগতভাবে আছি ।
মেয়র বলেন, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন বিধিবদ্ধ আইনদ্বারা পরিচালিত হয়। সরকারের গেজেট বিজ্ঞপ্তিতে খেতাবপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা, শহীদ মুক্তিযোদ্ধা ও যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের হোল্ডিং ট্যাক্স থেকে আওতামুুক্ত রাখা হয়েছে। সে আলোকে চটগ্রাম সিটি কর্পোরেশনও নগরীর খেতাবপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা, শহীদ মুক্তিযোদ্ধা ও যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের হোল্ডিং ট্যাক্স থেকে আওতামুক্ত রাখা হয়েছে। এছাড়াও দরিদ্র ও হতদরিদ্র মুক্তিযোদ্ধা ও সাধারন নাগরিকদেরকে হোল্ডিং ট্যাক্সের আওতামুক্ত রাখা হয়েছে। সীমিত আয়ের নাগরিকদের হোল্ডিং ট্যাক্স সীমিত আকারে ধার্য্য করা হয়েছে।
বীর মুক্তিযোদ্ধাদের নিজস্ব ১ হাজার বর্গফুট বাসগৃহ হোল্ডিং ট্যাক্সের আওতামুক্ত রাখা হয়েছে। এরপরও যারা হোল্ডিং ট্যাক্সের বিষয়ে বিভ্রান্তিমূলক অপপ্রচারে লিপ্ত আছেন তাদের মধ্যে মহৎ কোন উদ্দেশ্য নেই।
মেয়র বলেন, চট্টগ্রামে স্মৃতি সৌধ নির্মাণ করা হবে। তবে প্রাথমিকভাবে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসের পাশে শিশুপার্কটি মেয়াদ শেষে সে জায়গায় আধুনিক স্থাপত্যের ভিত্তিতে স্মৃতি সৌধ নির্মাণের পরিকল্পনা চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের রয়েছে। মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বিজড়িত সকল জায়গা সংরক্ষণ করার পরিকল্পনাও সিটি কর্পোরেশনের রয়েছে।
মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধাদের বিষয়ে বলেন, যারা দেশ প্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে দেশকে শত্রু ও দখলদার মুক্ত করার জন্য মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিল তারা কোন কিছু পাওয়ার জন্য যুদ্ধ করে নি। তার পরও গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা বীর মুক্তি যোদ্ধাদের মৃত্যুর পর রাষ্ট্রীয় মর্যাদা প্রদান, খেতাবপ্রাপ্ত, শহীদ ও যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের ঘর নির্মাণ করে দেয়া সহ ভাতা প্রদান, সাধারন মুক্তিযোদ্ধাদের মাসিক ১০ হাজার টাকা ভাতা প্রদান, সন্তান এবং পোষ্যদের জন্য ৩০% চাকুরী কোটা প্রদান সহ নানামুখি কর্মকান্ডের মাধ্যমে বীরমুুক্তিযোদ্ধাদের যথাযোগ্য মর্যাদা প্রদান করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, বীর মুক্তিযোদ্ধারা কারও দয়া বা করুনা প্রত্যাশা করে না। তারা বীর এবং বীরের মতই জীবিকা নির্বাহ করবে। এটাই জাতির প্রত্যাশা। সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে বীর মুক্তিযোদ্ধারা মুক্তিযোদ্ধাদের স্বার্থে নানামুখি পরিকল্পনার কথা মেয়র এর নিকট উপস্থাপন করেন।











