আগামী নির্বাচনের আগেই কোন্দল ও দ্বন্দ্ব নিরসন করুন

মহিউদ্দিন-নাছিরকে নিজেদের অভ্যন্তরে যে কোন্দল ও দ্বন্দ্ব রয়েছে সেগুলো নিরসন করে দলকে আরও শক্তিশালী গতিশীল করার পরামর্শ দিয়েছেন ওবায়দুল কাদের।

মাহাবুবুল করিম, সিটিজিবার্তা২৪ডটকম

সোমবার, ২৬ ডিসেম্বর ২০১৬

মহিউদ্দিন ভাই, নারায়ণগঞ্জের প্রথম পরীক্ষায় নওফেল তো ভাল পাস করেছে: ওবায়দুল কাদের

চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরী এবং সাধারণ সম্পাদক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনকে আগামী নির্বাচনের আগেই নিজেদের অভ্যন্তরে যে কোন্দল ও দ্বন্দ্ব রয়েছে সেগুলো নিরসন করে দলকে আরও শক্তিশালী গতিশীল করার পরামর্শ দিয়েছেন দলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

চট্টগ্রামের এ দুই শীর্ষ নেতার সাথে আগামী ‘নির্বাচনী বৈঠক’ করতে রোববার সকালে মহিউদ্দিন চৌধুরীর দুই নম্বর গেইট চশমা হিলের বাসায় দলটির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মহিউদ্দিন-নাছিরের উপস্থিতিতে এমন পরামর্শ দিয়েছেন।

এ সময় তিনি ছাত্রলীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও মারামারির ঘটনায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিবিদ্যালয়ের (চবি) উপাচার্যের ভূমিকা নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন এবং ছাত্রলীগ নেতাদের সতর্ক করেছেন ওবায়দুল কাদের।

রোববার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে মহিউদ্দিন চৌধুরীর বাসায় গিয়ে নাস্তা করেন ওবায়দুল কাদের। নাস্তার টেবিলে মহিউদ্দিন চৌধুরী ও মেয়র নাছিরকে দুই পাশে রেখে তাদের সাথে নগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক বিষয়ে আলাপ আলোচনা করেন তিনি।

এ সময় আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল উপস্থিত ছিলেন।

মহিউদ্দিন ভাই, নারায়ণগঞ্জের প্রথম পরীক্ষায় নওফেল তো ভাল পাস করেছে: ওবায়দুল কাদের

উল্লেখ্য, সম্প্রতি অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) নির্বাচনকে ঘিরে চট্টগ্রামে প্রকাশ্যে বিরোধে জড়িয়ে পড়েন সাবেক মেয়র মহিউদ্দিন চৌধুরী ও বর্তমান মেয়র আজম নাছির উদ্দিন। নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত চিকিৎসকদের সংগঠন স্বাচিপ নেতাদের দুটি গ্রুপ দুই প্যানেলে বিভক্ত হয়ে নির্বাচন করেন। নির্বাচনে মহিউদ্দিন একপক্ষ ও নাছির আরেকটি পক্ষকে সমর্থন দিলে একপর্যায়ে তা তিক্ততায় রূপ নেয়, মুখোমুখি হয়ে পড়েন তারা।

সকালে নাস্তার টেবিলের এ বৈঠকে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের মহিউদ্দিন চৌধুরী ও মেয়র নাছিরের সাথে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সাংগঠনিক বিষয়ে নানা আলোচনা করেন। এর মধ্যে ওবায়দুল কাদের মহানগর কমিটি সম্পর্কে মহিউদ্দিনের কাছে জানতে চান।

এ ব্যাপারে মহিউদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘দুয়েকটি ছাড়া আমাদের সব ওয়ার্ডে কমিটি আছে। নেত্রী নিজেই মহানগর কমিটি দিয়েছেন। তবে সব ওয়ার্ডের কমিটি সক্রিয় নয়।’

তখন মেয়র নাছির সম্মেলনের মাধ্যমে থানা-ওয়ার্ডের কমিটি ঢেলে সাজানোর কথা বলেন।

এ সময় ওবায়দুল কাদের নওফেলের মোবাইল ফোনে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফের সঙ্গে কথা বলেন-‘হানিফ, আমি মহিউদ্দিন ভাইয়ের বাসায় নাস্তা করতে এসেছি। এখানে মহানগর আওয়ামী লীগ নিয়ে কথা হচ্ছে। কয়েকটা ওয়ার্ডে কমিটি অ্যাকটিভ নাই। আবার ছাত্রলীগ নিয়াও প্রবলেম আছে। তুমি আর শামীম (কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এনামুল হক শামীম) একবার চট্টগ্রামে আসো। নওফেলও থাকবে। এগুলো সমাধান করে যাও।’

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, নাস্তা করার এক ফাঁকে ওবায়দুল কাদের মহিউদ্দিন চৌধুরীকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘আপনি আমাদের মুরব্বী। আপনি আমার নেতা। নাছির আমাদের ছোট। আপনি নাছিরের নেতা। সহযোগী সংগঠন ছাত্রলীগ-যুবলীগের টুকটাক সমস্যা থাকবে। কিন্তু আপনারা নিজেরা যদি কাদা ছোঁড়াছুড়ি করেন তাহলে বিষয়টা কেমন লাগে? কোনো সমস্যা থাকলে আমাকে সরাসরি জানাবেন। আমি সমাধান করতে পারব। আমি পারব না মনে করলে নেত্রীকে জানাবেন। কিন্তু নিজেরা নিজেরা কাদা ছোঁড়াছুড়ি করবেন না।’

এ সময় নাস্তার টেবিলে ওবায়দুল কাদেরের দুই পাশে বসা মহিউদ্দিন ও নাছির নিশ্চুপ থাকেন।

নাস্তা শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের আগেই আমরা নিজেদের সমস্যাগুলো সমাধান করতে চাই। দলে যেখানে যেসব অভ্যন্তরীণ সমস্যা রয়েছে সেগুলো সমাধান করব। তিন মাসের মধ্যে আওয়ামী লীগের সমস্যাগুলো এবং ছয় মাসের মধ্যে সহযোগী ও অঙ্গ সংগঠনগুলোর সমস্যা সমাধান করে নির্বাচনের জন্য অলআউট প্রিপারেশন নিচ্ছি। চট্টগ্রাম দিয়ে যাত্রা শুরু করলাম।’

এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, ‘সামনে নির্বাচন। নির্বাচনের আগে অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনগুলোকে শক্তিশালী করা হবে। আশা করি নির্বাচনের আগে তৃণমূলের ভিত্তি শক্ত হবে।’

আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, ‘আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সাংগঠনিক বিষয় নিয়ে আমাদের মধ্যে আলাপচারিতা হয়েছে। কাদের ভাই আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে বলেছেন। নির্বাচনের আগে তৃণমূলে সংগঠনকে শক্তিশালী করতে সম্মেলনের মাধ্যমে থানা-ওয়ার্ড এবং ইউনিট কমিটি গঠনের ব্যাপারে আলোচনা হয়েছে।’

জানা গেছে, বৈঠকে আওয়ামী লীগ পরিবারের অঙ্গ সহযোগী সংগঠন যুবলীগ ও ছাত্রলীগের মধ্যে বিভাজন নিয়েও আলোচনা হয়। মেয়র নাছির নির্বাচনে কাঙ্ক্ষিত ফলাফল পেতে অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনগুলোকে ঢেলে সাজানোর কথা বলেন ওবায়দুল কাদেরকে।

নাস্তার টেবিলে আরও উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী, পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি শফিকুল ইসলাম, নগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ ও অভিযান) দেবদাস ভট্টাচার্য, জেলা প্রশাসক মো. সামসুল আরেফিন, জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) নূর ই আলম মিনা, নগর ছাত্রলীগের সভাপতি ইমরান আহমেদ ইমু ও সাধারণ সম্পাদক নুরুল আজিম রনি এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ফজলে রাব্বি সুজন।

দেড় ঘণ্টা বৈঠকের পর সকাল ১০টার দিকে ওবায়দুল কাদের সেখান থেকে বেরিয়ে সড়ক পথে ঢাকার উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন।

চবি ভিসিকে কাদের: ছাত্রলীগ কী আপনাকে চেয়ারে রাখতে পারবে?

চবি ছাত্রলীগের অন্তকোন্দল ও নিয়মিত বিরতিতে মারামারির ঘটনা নিয়ে মহিউদ্দিন চৌধুরীর বাসায় ভিসি ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী ও ছাত্রলীগ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন ওবায়দুল কাদের।

বৈঠক সূত্র জানায়, চবিতে একের পর এক অপ্রীতিকর ঘটনায় চবি ভিসির প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘কয়েক দিন পর পর আপনার বিশ্ববিদ্যালয়ে এমন অবস্থা হচ্ছে কেন? এটাকে কী ঠিক জায়গায় নিয়ে আসা যায় না? ছাত্রলীগ কী আপনাকে ভিসি বানিয়েছে? তারা আপনাকে চেয়ারে রাখতে পারবে; যদি তা-ই না হয় তাহলে কারো পক্ষ নেবেন না।’

জবাবে ভিসি ইফতেখার বলেন, ‘ছাত্রলীগ সভাপতি টিপু ও রাব্বী আমার সামনে আসলে ঠিক থাকেন। কিন্তু বাইরে গিয়ে অপ্রীতিকর ঘটনায় জড়িয়ে পড়ে।’

বৈঠকে চবি ছাত্রলীগের সভাপতি আলমগীর টিপু ও সাধারণ সম্পাদক ফজলে রাব্বিকে ডাকা হলেও উপস্থিত ছিলেন না টিপু।

ছাত্রলীগ নেতাদের সতর্ক করলেন কাদের

মহিউদ্দিন চৌধুরীর বাসভবনে নগর ও চবি ছাত্রলীগের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের নিয়েও বৈঠক করেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। এ সময় তিনি দল ও সরকারের সুনাম ক্ষুণ্ণ হয় এমন কাজ না করার জন্য ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের নির্দেশ দেন।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন নগর ছাত্রলীগের সভাপতি ইমতিয়াজ আহমেদ ইমু, সাধারণ সম্পাদক নুরুল আজিম রনি ও চবি ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ফজলে রাব্বি প্রমুখ।

চবিতে ছোটখাট ঘটনায়ও মারামারি হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘ছাত্রলীগ মারামারি করবে। আর এজন্য সরকারের সুনাম ক্ষুণ্ণ হবে এটা মেনে নেওয়া হবে না।’

এ সময় পুলিশের ডিআইজ শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘স্যার, ছাত্রলীগ নিজেরাই মারামারি করছে। শিবির থাকলেও এ ধরনের ঘটনায় মারামারি হতো কি-না সন্দেহ রয়েছে।’

নগর ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে সতর্ক করে দিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘তোমরা চট্টগ্রাম কলেজ, মহসিন কলেজে নিজেদের মধ্যে মারামারি করছ! আমি পত্রিকা পড়ি, তাই সব জানি। কোনো সমস্যা হলে মহিউদ্দিন ভাইয়ের কাছে আসবে, পরামর্শ নেবে। দুই বছর পর নির্বাচন। ফলে এসব বিষয় এখন আর মেনে নেওয়া হবে না।’

জবাবে ভুল বোঝাবুঝি থেকে অপ্রীতিকর ঘটনাগুলো ঘটেছে এবং এ ধরনের ঘটনা আর যাতে না ঘটে সেজন্য সবাই কাজ করবেন বলে ওবায়দুল কাদেরকে প্রতিশ্রুতি দেন ছাত্রলীগ নেতারা।




2 thoughts on “আগামী নির্বাচনের আগেই কোন্দল ও দ্বন্দ্ব নিরসন করুন

  1. মোহাম্মদ ইমরুল রশিদ

    ওবায়দুল কাদের চট্টগ্রাম ও মহসিন কলেজে ছাত্রলীগের কমিটি করে দেওয়ার দায়িত্ব নওফেল কে দেওয়া উচিত হয়নি কারন এ কলেজ দুটোতে দখলের পর থেকে রনি ফোকাসে আসলেও মূলত রনির নেতৃত্বে এ কলেজ আসেনি এ ঘটনা চট্টগ্রামের সবাই জানে কিছু মিডিয়াকে দিয়ে সে এ হাইলাইটস এবং ক্রেডিট টা একার করে নিতে চেয়েছিলো। সেদিন রাজপথে আমরা দেখেছিলাম ইমু, দস্তগির, চকবাজারের টিনু সহ আরো কিছু নেতাকর্মীদেরকে। রনি মাঝখানে দুইঘন্টা কোথায় গায়েব হয়ে গিয়ে পরে আবার আসছে খালি পোস্টে গোলটাও দিসে তাই নওফেল নারায়ণগঞ্জে সফল হলেও চট্টগ্রামে বিতকিত হবেনি তিনি নিজের কার্যকলাপে নয় এই ছাত্রলীগের ছেলেপুলেগুলোর কারনে।
    নওফেলের উচিত হবে এ ব্যাপরটা শামিমকে দিয়ে করালে।।

    Reply

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *