বুধবার, ১৫ জুন (সিটিজিবার্তা২৪): গত কয়েকদিন ধরেই শহরে ফুটপাত হকারমুক্ত করতে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ, প্রশাসন ও সিটি করপোরেশন। মঙ্গলবার বিকেলে শহরের কয়েকশ হকার মিছিল নিয়ে শহরের চাষাঢ়ায় নারায়ণগঞ্জ রাইফেল ক্লাবে শামীম ওসমানের কাছে গেলে তিনি হকারদের উদ্দেশ্যে লেছেন, ‘আজ (মঙ্গলবার) ও আগামীকাল আমি দেখবো। যদি এ সময়ের মধ্যে হকারদের বসতে অনুমতি দেয়া না হয় তাহলে পরশুদিন বৃহস্পতিবার আমি নিজে রোজা রেখে হকারদের সঙ্গে মাঠে নামবো। হকারদের বসতে দিব। দেখবো সেদিন কার কতো শক্তি, কার হাতে কতো জোর। দেখবো কারা এসব হকারদের উঠায়। শুধুমাত্র মানবিক দিক বিবেচনায় আমি এ আহ্বান রাখছি।’
মেয়র আইভীকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ‘নবাবী দেখান উপরে বসে বসে। নবাবী দেখানো ভালো না। আল্লাহ- তালা নবাবী পছন্দ করে না। ৩৫ হাজার মানুষের পেট চলে এ বঙ্গবন্ধু সড়ক দিয়ে। আর ২ থেকে আড়াই লাখ মানুষ এদের থেকে জিনিস নিয়ে তাদের সংসার চালায়। ঈদের পর থেকে বন্ধ করে দেন কোনো আপত্তি নাই।’
শামীম ওসমান হকারদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য দেয়ার সময় সিটি করপোরেশনের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে বলেন, ‘সামনে ঈদকে কেন্দ্র করে অন্তত পবিত্র রমজান মাসটুকু দরিদ্র হকারদের ফুটপাত ব্যবহার করতে দিন। ঈদের আগে গরীব মানুষের পেটে লাথি মারা উচিত হয়নি। হাজার হাজার হকারের সাথে শুধু তাদের পরিবার পরিজনের জীবন জীবিকাই নয়, লাখো মধ্যবিত্তের কেনাকাটার সুযোগও ছিনিয়ে নেয়া হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘হঠাৎ করে আসলাম, ঈদের আগে পুলিশ এসে পেটালা, সিটি করপোরেশনের দালাল আসলো। সিটি কর্পোরেশনের কারা দালালী করে আমি জানি। কে কে টাকা তুলে আমি শুনছি। যানজটের কারণে যদি এ হকার উচ্ছেদ করে দেয়া হয়, তাহলে এ ট্রাফিক যানজট বন্ধ হয় নাই। তার মানে ট্রাফিক যানজটের সঙ্গে হকারের কোনো সম্পর্ক নাই। আমি ধরে নিলাম ট্রাফিক যানজট হয় হকারদের কারণেই। তবে এখনো ট্রাফিক যানজট আছে। যানজটের কারণে ৫ হাজার দোকানের ৩৫ হাজার মানুষ পেটে ভাত পায় তাহলে ক্ষতি কি?’
হকারদের উদ্দেশ্যে শামীম ওসমান আবার বলেন, ‘ঈদের পর থেকে আমি আর আপনাদের ব্যাপারটা নিয়ে কথা বলবো না, বলবো ঈদের আগে পর্যন্ত। আগামীকাল আমি বিশ্বাস করি প্রশাসন ও সিটি কর্পোরেশন ব্যবস্থা নিবে। যদি না নেয়, আপনার যদি মনে করেন আপনাদের এখানে বসতে হবে, আপনারা বসেন আমার আপত্তি নাই। আমি নিজে থেকে যানজট মুক্ত করবো। আমি আশা করি আগামীকাল সিটি কর্পোরেশন নিজে এ সমস্যার সমাধান করবে। তারপরও যদি তাদের মন না গলে পরশুদিন থেকে আপনাদের পেটের তাগিদে আমি রাস্তায় বসবো। আমি সিটি কর্পোরেশন ও প্রশাসন সবাইকে বলছি, খবরদার গরীব মানুষের গায়ে হাত দিবেন না। গরীবের জন্য রাজনীতি করি। এদের গায়ে হাত পরার আগে ওই এলাকার এমপি হিসেবে না, ওই এলাকার মানুষ হিসেবে না, আল্লাহর একজন বান্দা হিসেবে আমি দেখতে চাই কার হাতে কতটুক শক্তি আছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘কিন্তু আমি যদি খবর পাই কোনো দোকানদার ফুটপাতে বসে পরশুদিন কাউকে একটা টাকা চাঁদা দিয়েছেন, তখন আমার থেকে খারাপ লোক কেউ হবে না। পুলিশ লাগবে না, আমি নিজেই উঠিয়ে দিব। এক পয়সা, এক টাকা, একটা ফল, একটা আঙ্গুর কাউকে দিবেন না। ঈদ পর্যন্ত সিটি কর্পোরেশন ব্যবস্থা করবে। না হয় আমি থাকবো।’

