জেনিফার আলম । ২ আগস্ট ২০১৬
ঢাকা: গুলশানে একটি আলিশান বাড়ির চারপাশে উঁচু দেয়াল, বিশাল গেট, সিসিটিভি ক্যামেরা, ওয়াচ টাওয়ার। বাইরে পুলিশ। হঠাৎ করেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে বাড়িটিকে ঘিরে। আশেপাশের জনসাধারণের মুখো মুখে এ বাড়িতে জঙ্গি অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ। তবে কিছুক্ষণ পরেই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসে। পুলিশ আশ্বস্ত করে, আতঙ্কের কিছু নেই। সন্দেহের কারণেই তারা বাড়িটি ঘুরে দেখে গেছেন।
পরে জানা গেছে, বাড়িটির ব্যাক্তি মালিকানা নিয়ে বিরোধের জেরে নাম পরিচয় গোপন রেখে গুলশান থানায় কেও অভিযোগ করেন এ বাড়িতে জঙ্গি আস্তানা আছে ববলে। পুলিশ ছুটে গিয়ে অভিযান চালায়। কিন্তু বাড়িটিতে গিয়ে দেখে এ সংক্রান্ত কিছুই নেই। পুলিশ জানায়, বাড়িটিতে সন্দেহজনক কিছুই পাওয়া যায়নি বাড়িটিতে।
মঙ্গলবার (২ আগস্ট) দুপুরে গুলশান-১ এর ১৩ নং সড়কের ২ নং বাসায় এ ঘটনা ঘটে।
গুলশান থানার ওসি সিরাজুল ইসলাম জানান, আমাদের কাছে অভিযোগ ছিল এই বাড়িতে জঙ্গি আস্তানা বা সন্দেহভাজন কেউ থাকতে পারে। তবে অভিযোগকারীর পরিচয় প্রকাশ করা যাবে না।
এদিকে গুলশান থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সালাউদ্দিন মিয়া জানান, মঙ্গলবার সকালে গুলশানে রাজউকের পক্ষ থেকে উচ্ছেদ অভিযান চলছিল। এসময় উচ্ছেদ অভিযানের কর্মীরা একটি বাসার ভেতরে বেশ কয়েকজন তরুণকে দেখতে পান। তাদের বিষয়ে সন্দেহ দেখা দিলে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়। এদিকে ওই বাড়িটি নিয়ে আগেই পুলিশের কাছে অভিযোগ থাকায় দ্রুতই বাড়িটিতে অভিযান চালিয়ে তল্লাশি শুরু করে পুলিশ।
বাড়িটির নিরাপত্তাকর্মী আশরাফুল ইসলাম জানান, এ বাড়িটি ইভা বিল্ডার্স নামের একটি ডেভেলপার কোম্পানিকে দেওয়া হয়েছে। শিগগিরই ভেঙে ফেলা হবে। নির্মাণ শ্রমিকরা এরই মধ্যে কাজ শুরু করেছে। তবে বাড়ির মালিকানা নিয়ে এখনও বিরোধ চলছে।
তিনি আরও জানান, মঙ্গলবার সকালে এই বাড়িটির সামনে রোজরুট নামের একটি হোটেলে রাজউকের উচ্ছেদ অভিযান চলছিল। ওই সময় রাজউকের কর্মীরা এই বাড়িটির গেট খুলতে বলেন নিরাপত্তাকর্মীদের। কিন্তু বাড়ির নিরাপত্তারক্ষীরা প্রতিপক্ষের লোকজন এসেছে মনে করে গেট খোলেননি। বাইরে হইচই হওয়ার পরে তারা গেট খুলে।
বেলা সাড়ে ১২টার দিকে রাজউকের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিশ ও উচ্ছেদ কর্মীরা বাড়ি দেখে চলে যান। পরে বেলা ২টার দিকে গুলশান থানার পুলিশ এসে আবার অভিযান চালায়।
পুলিশ জানায়, বাড়ির বিষয়ে আগেই অভিযোগ ছিল। রাজউকের কর্মীদের অভিযোগের পর তাই আজ তল্লাশি চালানো হয়েছে। বাড়ির মালিকানা নিয়ে বিরোধ থাকলেও কারা পুলিশের কাছে আগে অভিযোগ করেছিল তা জানা যায়নি।
বাড়ির বাইরে সাইনবোর্ডে জমির প্রকৃত মালিক মো. জহুরুল আলম, জয়নুল আবেদিন, জাহাঙ্গীর আলম লেখা আছে। তাদের বাবার নাম আবদুল জব্বার।
এদিকে ওই বাড়িতে সন্দেহজনক কিছু না পেলেও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বাড়ির কেয়ারটেকার শামসুদ্দিনকে গুলশান থানায় নিয়ে গেছে পুলিশ।




























