ব্রেকিং নিউজ

সাঈদীকে চাঁদে দেখার গুজব: রক্তাক্ত ৩ মার্চ আজ

মঙ্গলবার, ৩ মার্চ, ২০১৫

জেলা প্রতিনিধি,  সিটিজিবার্তা২৪.কম

File-pic

বগুড়া ঃ ৩ মার্চ বগুড়ার ইতিহাসে এক স্মরণীয় দিন। জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে চাঁদে দেখার গুজবে ২০১৩ সালের এই দিন বগুড়া শহর ও বিভিন্ন উপজেলায় ভয়াবহ তাণ্ডব চালিয়েছিল জামায়াত-শিবিরের নেতৃত্বে হাজার হাজার মানুষ।

তাণ্ডব থামাতে পুলিশের গুলিতে প্রাণ হারায় ১৩ জন। বিক্ষুব্ধ সাঈদী ভক্তদের সহিংসতায় নন্দীগ্রাম উপজেলা পরিষদ ছাড়াও শহরের বেশ কয়েকটি পুলিশ ফাঁড়ি এবং সরকারি-বেসরকারি স্থাপনায় হামলা চালিয়ে অগ্নিসংযোগ করে বিক্ষুদ্ধরা।

এছ্ড়া সরকার দলীয় সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগ নেতাদের বাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার পর প্রশাসন জামায়াত-শিবিরকে দায়ী করে নেতাকর্মীদের নামে একের পর এক মামলা দায়ের করে।

জেলা পুলিশের হিসাব মতে, শুধুমাত্র ৩ মার্চের ঘটনায় ৫৬টি মামলা করে পুলিশ। এছাড়া আওয়ামী লীগ, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে সর্বমোট ৭৫টি মামলা করা হয়। এসব মামলায় জামায়ত-বিএনপি ছাড়াও সাধারণ মানুষকেও জড়িয়ে পৌনে ২ লাখ আসামি করা হয়। জেলা জামায়াতের আমির অধ্যক্ষ শাহাবুদ্দিনসহ গ্রেপ্তার করা হয় ৮৪৩ জনকে।

ভয়াল ৩ মার্চের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তির এই দিনে পুলিশের গুলিতে নিহতদের পরিবারে চলছে শোকের মাতম। প্রিয়জনকে হারিয়ে সর্বশান্ত এসব পরিবারের সদস্যরা তাদের প্রিয়জনদের হত্যাকারীদের বিরুদ্ধে মামলাও করতে পারেনি। পুলিশ কারো মামলা নেয়নি। এসব মামলায় জেল খেটেছেন অনেক নিরীহ মানুষও।

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জামায়াতের নায়েবে আমির দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ফাঁসির আদেশের পর ২ মার্চ থেকে টানা ৪৮ ঘণ্টার হরতাল ডাকে জামায়াত। গোটা দেশে ছড়িয়ে পড়ে বিক্ষোভ। ২রা মার্চ মধ্যরাতে হঠাৎ সাঈদীকে চাঁদে দেখার গুজব রটে যায়। মুহূর্তের মধ্যে সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ে খবর। বগুড়ার প্রতিটি গ্রামগঞ্জে শহরের পাড়ায় মহল্লায় বাতাসের বেগে গুজব ছড়িয়ে পড়ে। মসজিদের মাইক থেকে মানুষকে রাস্তায় বের হওয়ার আহ্বান জানানো হয়। রাত ৩টার পর থেকেই মিছিলে মিছিলে উত্তাল হয়ে ওঠে চারিদিক। ফজর নামাজের পর গ্রাম থেকে হাজার হাজার মানুষ লাঠিসোটা হাতে মিছিল নিয়ে শহরের দিকে ছুটে আসে।

জামায়াত-শিবিরের নেতৃত্বে বিক্ষুব্ধ জনতা বিভিন্ন থানা ও পুলিশ ফাঁড়ির দিকে যেতে চাইলে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ বাঁধে। গুলি চালাতে বাধ্য হয় পুলিশ। এতে বগুড়া শহর, শাজাহানপুর ও মোকামতলায় বেশ ক’জন মারা যান।

জামায়াতের দাবি, ওই দিন পুলিশের গুলিতে কমপক্ষে ১৩ জন নিহত হয়েছেন। ১৯ জন গুলিবিদ্ধসহ আহত হয় প্রায় দুই শতাধিক। তবে বগুড়ার পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ওই দিন সহিংসতায় ১০ জন মারা যায়। এ ঘটনায় ৫৬টি মামলা করে পুলিশ।

সেদিনের সহিংসতায় নন্দীগ্রাম উপজেলা পরিষদের প্রায় সবকটি কক্ষ, শহরের অধিকাংশ পুলিশ ফাঁড়ি, শাজাহানপুর থানা এবং মোকামতলা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।

About admin