ব্রেকিং নিউজ

টার্নওভার ভ্যাট-সীমা ২৪ থেকে ৩৬ লাখ টাকা হবে

রোববার, ৮ মার্চ, ২০১৫

মারুফ আহম্মেদ, সিটিজিবার্তা২৪.কম

VAT-News-Pic

নিজস্ব প্রতিবেদক ঃ ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও দোকানদারদের বার্ষিক টার্নওভার-সীমা বাড়ানোর আশ্বাস দিয়েছে সরকার। আগামী বাজেটে এটা সংশোধন করা হবে। এর ফলে মূল্য সংযোজন কর (মূসক) বা ভ্যাট প্রদানের ক্ষেত্রে সুবিধা পাবেন তারা।

বর্তমান আইন অনুযায়ী ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের বার্ষিক টার্নওভারের পরিমাণ ২৪ লাখ টাকা ভ্যাট আওতামুক্ত। সেটা বাড়িয়ে ৩৬ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হচ্ছে।

সচিবালয়ে রোববার অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের সঙ্গে বৈঠক শেষে এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি কাজী আকরাম উদ্দিন আহমেদ সাংবাদিকদের এ কথা জানান।

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)-এর কাছ থেকে গৃহীত ১০০ কোটি ডলারের ‘বর্ধিত ঋণ সহায়তা’র (ইসিএফ) শর্ত হিসেবে ‘ভ্যাট আইন, ২০১২’ প্রণয়ন করে সরকার। গত বছরের জুলাই থেকে এটি পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের কথা ছিল। কিন্তু প্রণীত ভ্যাট আইন সংশোধনের জন্য ব্যবসায়ীদের প্রবল দাবির মুখে ভ্যাট আইন বাস্তবায়নের তারিখ এক বছর পিছিয়ে চলতি ২০১৫ সালের ১ জুলাই নির্ধারণ করা হয় এবং গত বছর ২৮ অক্টোবর ভ্যাট আইন, ২০১২ সংশোধনের লক্ষ্যে ৭ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়।

এ বিষয়ে এফবিসিসিআইয়ের উপদেষ্টা মঞ্জুর আহমেদ সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ভ্যাট আইন সংশোধন কমিটি গঠিত হওয়ার পর এ পর্যন্ত ১৩টি বৈঠক হয়েছে এবং এসব বৈঠকে প্রণীত ভ্যাট আইনের ১০টি ধারা পরিবর্তনের সুপারিশ করা হয়েছে। এর মধ্যে পাঁচটি ধারার বিষয়ে কমিটির সঙ্গে একমত পোষণ করেছে ব্যবসায়ীরা। তবে বাকি পাঁচটি ধারার বিষয়ে কমিটির সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেছে। বিষয়গুলো অর্থমন্ত্রীকে অবহিত করা হয়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা জানান, আইএমএফের একটি প্রতিনিধিদল বর্তমানে ঢাকা সফর করছে। সোমবার এ প্রতিনিধি দলটি অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করবে। এ কারণেই এফবিসিসিআইয়ের একটি প্রতিনিধিদল ভ্যাট আইনের সংশোধন নিয়ে আলোচনা করতে অর্থমন্ত্রীর কাছে এসেছিলেন।

অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের বিষয়ে এফবিসিসিআই সভাপতি বলেন, বৈঠকে কমিটির সুপারিশকৃত ১০টি বিষয় নিয়ে কথা হয়েছে। অর্থমন্ত্রী বলেছেন, সবগুলো একবারে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে না। ধাপে ধাপে বাজেটের মাধ্যমে এগুলো সমন্বয় করা হবে। তবে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও দোকানদারদের সুবিধার জন্য বার্ষিক টার্নওভারের সীমা ২৪ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩৬ লাখ টাকা নির্ধারণের বিষয়টি তিনি মেনে নিয়েছেন। আগামী বাজেটে এটি সংশোধন করা হবে।

তিনি বলেন, এ ছাড়া মাল্টিপল ভ্যাট ও ঢালাওভাবে ১৫ শতাংশ ভ্যাটের পরিবর্তে ভিন্ন ভিন্ন খাতে ভিন্ন ভিন্ন ভ্যাট নির্ধারণের বিষয়টি নিয়েও কথা হয়েছে। আগামী বাজেটে এসব বিষয়েও দৃষ্টি দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী।

বৈঠকে অর্থমন্ত্রী ব্যবসায়ী বান্ধব ভ্যাট আইন প্রণয়ের আশ্বাস দিয়েছেন- উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, ‘এমন ভ্যাট আইন করা হবে, যাতে সরকার ট্যাক্স পায় এবং ব্যবসায়ীরাও যাতে সহজে ভ্যাট দিতে পারে।’

আইএমএফের শর্তের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘তারা যে শর্ত দেবে সেটাই আমাদের মানতে হবে- এমনটি নয়। তাদের বোঝাতে হবে। আইএমএফের শর্তগুলোর প্রেক্ষাপট দেখতে হবে। দিকটাও দেখতে হবে। দেশের অর্থনৈতিক অবস্থাটি আইএমএফকে বোঝানো হবে। আশা করি তারা বিষয়টি অনুধাবন করবে।’

About admin