বুধবার, ২৫ মার্চ, ২০১৫
মাহাবুবুল করিম
সিটিজিবার্তা২৪.কম : চলমান সরকারবিরোধী আন্দোলনের গতিধারা ভিন্ন দিকে প্রবাহিত করার ‘মহাষড়যন্ত্রের’ অংশ হিসেবে সরকার সিটি করপোরেশন নির্বাচন দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট। নির্বাচন কমিশন ৫ জানুয়ারির মতো আরেকটি ‘প্রতারণামূলক’ নাটক মঞ্চস্থ করতে যাচ্ছে বলে দাবি জোটটির।
বুধবার জোটের পক্ষে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব বরকতউল্লাহ বুলু বলেন, ‘২০ দলীয় জোট যখন আন্দোলন সংগ্রামে বিজয়ের দ্বারপ্রান্তে, ঠিক তখনই মহাচক্রান্তের অংশ হিসেবে সরকার আন্দোলন সংগ্রামের গতিধারাকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে ঢাকা ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করেছে।’
তিনি বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন সরকারের নীল নকশা অনুযায়ী তফশিল ঘোষণা করে ৫ জানুয়ারির জাতীয় নির্বাচনের মতো স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় আরেকটি প্রতারণামূলক নির্বাচনী নাটক মঞ্চস্থ করতে যাচ্ছে। আজ্ঞাবহ কমিশন দিয়ে যে তিনটি সিটি করপোরেশন নির্বাচন ঘোষণা করা হয়েছে, তা গোটা দেশবাসীর ইচ্ছার সঙ্গে তামাশা ছাড়া আর কিছুই নয়।’
মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে জোটের পক্ষে এই বিবৃতিটি গণমাধ্যমে পাঠানো হয়। বিএনপির দায়িত্বপ্রাপ্ত এই মুখপাত্র বলেন, ‘সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা ডিঙিয়ে যেদেশে কোনো সংস্থা নির্বাচন কমিশনকে স্থানীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের সময় নির্ধারণ করে দিতে পারে, সে দেশের নির্বাচন কমিশন কতটুকু স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও ক্ষমতাবান হতে পারে তা বুঝতে মহাজ্ঞানী হওয়ার প্রয়োজন নেই। নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করে বিএনপিসহ অন্যান্য দলকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের আহ্বান জানানো হলেও নির্বাচনে সুষ্ঠু ও শান্তিময় পরিবেশ নিশ্চিতের লক্ষণ এখনো দৃশ্যমান নয়।’
তিনি বলেন, ‘সিটি করপোরেশন নির্বাচন গ্রহণযোগ্য করার মতো ইচ্ছা ইসির থাকলে তড়িঘড়ি করে পুলিশ মহাপরিদর্শকের পরামর্শে এপ্রিল মাসেই নির্বাচন অনুষ্ঠানের তফশিল ঘোষণা করা হতো না। নির্বাচন কমিশন ঠুটো জগন্নাথ বলেই আজ কোনো প্রার্থীই নির্বাচনী আচরণবিধি তোয়াক্কা করছে না।’
মহাস স্বাধীনতা দিবসকে স্মরণ করে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘এই দিনে তৎকালীন সেনাবাহিনীর মেজর জিয়াউর রহমান চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতা যুদ্ধের ঘোষণা দিয়ে স্বাধীনতাযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ার জন্য জাতিকে উদ্বুদ্ধ করেছিলেন। তার সেই ঐতিহাসিক ডাকে সাড়া দিয়ে সমগ্র জাতি পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে সর্বাত্মক অংশগ্রহণের মাধ্যমে মাতৃভূমিকে রক্ষা করতে প্রাণপণ যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল।’
তিনি বলেন, ‘স্বাধীনতার ৪৪ বছর পরেও আমরা পরাধীন দেশে বসবাস করছি। গণতন্ত্র, বাক-ব্যক্তি স্বাধীনতা ও অর্থনৈতিক মুক্তির জন্য ৭১ সালে যে বুকভরা আশা নিয়ে বাঙালি জাতি যুদ্ধ করেছিল এবং লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছিল মহান স্বাধীনতা, সেই স্বাধীনতা আজ শকুনের নখে ক্ষতবিক্ষত।’
সংঘাত নিরসনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচনের ব্যবস্থা গ্রহণ করবে- প্রত্যাশা ব্যক্ত করে বরকত উল্লাহ বুলু বলেন, ‘নেতিবাচক মনোভাব দেখালে সরকারকে এর জন্য চরম মূল্য দিতে হবে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত চলমান অবরোধ কর্মসূচির পাশাপাশি আগামীতে আরো কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করতে ২০ দলীয় জোট দৃঢ়সংকল্পবদ্ধ। ২০ দলীয় জোট আশা করে সরকারের শুভচেতনা ও শুভবুদ্ধির উদয় হবে।’
Ctgbarta24.com 24 hours Online News Paper
