শুক্রবার, ৪ মার্চ, ২০১৬
সিটিজিবার্তা২৪ডটকম, কক্সবাজার : আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন ২০১৬ এর প্রথম ধাপের নির্বাচন দলীয়ভাবে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়ায় প্রচারণার জন্য অধীর অপেক্ষার পর অবশেষে দলীয় প্রতীক বরাদ্দ পেলো কক্সবাজার জেলার মহেশখালী ও টেকনাফ উপজেলার ১৭ ইউনিয়নের প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী প্রার্থীরা।
গতোকাল সকাল ৯ টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত স্ব-স্ব উপজেলার নির্বাচন কার্যালয় থেকে প্রার্থীদের মাঝে প্রতীক বরাদ্দ দেয়া হয়। এর মধ্যে দলীয় প্রার্থীদের প্রতীক আগে থেকে নিশ্চিত থাকলেও তাদেরও আনুষ্ঠানিক প্রতীক বরাদ্দ দেয়া হয়। প্রতীক বরাদ্দকে কেন্দ্র করে এক উৎসবমূখর পরিবেশের সৃষ্টি হয় প্রতিটি উপজেলায়।
স্থানীয় নিবার্চন কার্যালয়ের সূত্র মতে, কক্সবাজারের মহেশখালী ও টেকনাফ উপজেলার যে ১৭ ইউনিয়নের প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দ দেয়া হয়েছে:
মহেশখালী:
মহেশখালী নির্বাচন কার্যালয় সূত্র মতে, মহেশখালী উপজেলার সাত ইউনিয়নে ৪৯৮ জন প্রার্থীর মাঝে উৎসব মুখর পরিবেশে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
মহেশখালীতে চেয়ারম্যান পদে ৩৬ জন সংরক্ষিত মহিলা পদে ৮৮ জন, ও সাধারণ সদস্য পদে ৩৭৪ জন নির্বাচনী প্রতীক বরাদ্দ পেয়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ধলঘাটা ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের কামরুল হাসান পেয়েছেন নৌকা, বিএনপির সরওয়ার আলম শাহিন পেয়েছেন ধানের শীষ, জাতীয় পার্টিার নুরুল ইসলাম মনি লাঙ্গল, স্বতন্ত্র নুরুল আলম পেয়েছেন আনারস,
মাতারবাড়ি ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের এনামুল হক রুহুল পেয়েছেন নৌকা, বিএনপির নাছির উদ্দিন মোহাম্মদ বাবর চৌধুরী পেয়েছেন ধানের শীষ, আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী মোস্তাক আহমদ পেয়েছেন চশমা, সতন্ত্র মো: কাউছার পেয়েছেন মটরসাইকেল, মো: ইলিয়াছ পেয়েছেন হাতপাকা, মোহাম্মদ উল্লাহ পেয়েছেন আনারস।
হোয়ানক ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের মোস্তফা কামাল পেয়েছেন নৌকা, বিএনপির এনামুল করিম চৌধুরী পেয়েছেন ধানের শীষ, আমান উল্লাহ পেয়েছেন মোটর সাইকেল, ইসরাত জাহান লিনা পেয়েছেন টেলিফোন, বিএনপির বিদ্রোহী মাহাবুবুল আলম পেয়েছেন আনরস।
বড়মহেশখালী ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের মো: শরিফ বাদশা পেয়েছেন নৌকা, জাতীয় পার্টির মাহাবুব আলম পেয়েছেন লাঙ্গল, আব্দুল মান্নান পেয়েছেন ঘোড়া, নাগরিক ঐক্যের এনায়েত উল্লাহ বাবুল পেয়েছেন চশমা, আক্তার কামাল চৌধুরী পেয়েছেন মোটর সাইকেল, রাহমত করিম পেয়েছেন আনারস।
ছোট মহেশখালী ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের জিহাদ বিন আলী পেয়েছেন নৌকা, বিদ্রোহী আব্দু সামাদ পেয়েছেন আনারস, বিএনপির নুরুল হুদা পেয়েছেন ধানের শীর্ষ, বিদ্রোহী ও বর্তমান চেয়ারম্যান সিরাজুল মোস্তফা পেয়েছেন ঘোড়া, জাতীয় পার্টির সিরাজুল মোস্তফা বাশি পেয়েছেন লাঙ্গল।
কুতুবজুম ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের মোশারফ হোসেন খোকন পেয়েছেন নৌকা, বর্তমান চেয়ারম্যান বিএনপির শফিউল আলম পেয়েছেন ধানের শীষ, জাতীয় পার্টির মো: সোহেল পেয়েছেন লাঙ্গল, বিদ্রোহী শহিদুল ইসলাম মুন্না টেলিফোন প্রতীক পেয়েছে। এছাড়াও সাধারণ সদস্য ও মহিলা সদস্যরাও প্রতীক বরাদ্দ পেয়েছেন।
টেকনাফ:
টেকনাফ উপজেলায় ৪ ইউনিয়নে প্রতীক বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। তবে হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা থাকায় হ্নীলা ও হোয়াইক্যং ইউনিয়নের নির্বাচনী কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।
উপজেলার চার ইউনিয়নে ২৯ চেয়ারম্যান, ৪৪ সংরক্ষিত নারী সদস্য ও ২১৬ জন সাধারণ সদস্য প্রতীক বরাদ্দ পেয়েছেন।
বাহারছড়া ইউনিয়নে ইউনিয়নে ৯ জন চেয়ারম্যান প্রার্থী রয়েছেন। তাদের মধ্যে বর্তমান চেয়ারম্যান স্বতন্ত্র মৌলভী হাবিব উল্লাহ পেয়েছেন আনারস, আওয়ামী লীগের মৌলভী আজিজ উদ্দীন পেয়েছেন নৌকা, বিএনপির সেকান্দর পেয়েছেন ধানের শীষ, জাতীয় পার্টির জসিম উদ্দীন পেয়েছেন লাঙ্গল, সাইফুল্লাহ অটোরিক্সা, মোশারফ হোসেন চৌধুরী পেয়েছেন মোটর সাইকেল, মোঃ রফিক উল্লাহ পেয়েছেন চশমা, হুমায়ন কাদের চৌধুরী পেয়েছেন ঘোড়া, হাসিনা আক্তার পেয়েছেন টেলিফোন। এছাড়া সংরক্ষিত নারী আসনে ১২ জন ও সাধারণে ৪৮ জন মেম্বার প্রার্থী প্রতীক বরাদ্দ পেয়েছেন।
টেকনাফ সদর ইউনিয়নের ৭ জন চেয়ারম্যান প্রার্থী রয়েছেন। তাদের মধ্যে বর্তমান চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগের নুরুল আলম পেয়েছেন নৌকা, বিএনপির জিয়াউর রহমান পেয়েছেন ধানের শীষ, জাতীয় পার্টির মোহাম্মদ ইসমাঈল পেয়েছেন লাঙ্গল, আ.লীগ বিদ্রোহী মো. শাহাজাহান মিয়া পেয়েছেন আনারস, মোক্তার আহম্মদ পেয়েছেন ঘোড়া, আব্দুর রহমান পেয়েছেন টেলিফোন, দিদারুল আলম পেয়েছেন অটোরিক্স)। এছাড়া সংরক্ষিত নারী আসনে ৯ জন ও সাধার ৬৩ জন প্রার্থী প্রতীক বরাদ্দ পেয়েছেন।
সাবরাং ইউনিয়নে ৮ জন চেয়ারম্যান প্রার্থী ৮ রয়েছেন। তাদের মধ্যে বর্তমান চেয়ারম্যান হামিদুর রহমান পেয়েছেন অটোরিক্সা, আওয়ামী লীগের সোনা আলী পেয়েছেন নৌকা, বিএনপির সোলতান আহম্মদ পেয়েছেন ধানের শীষ, জাতীয় পার্টির মোহাম্মদ আয়াছ রনি পেয়েছেন লাঙ্গল, আ.লীগ বিদ্রোহী নুর হোসন পেয়েছেন টেলিফোন, মো. ইসমাইল মেম্বার পেয়েছেন আনারস, জাহিদ হোছাইন পেয়েছেন মোটর সাইকেল ও আবুল ফয়েজ পেয়েছেন চশমা। সংরক্ষিত নারী আসনে ১২ ও সাধারনে ৭৬ জন সদস্য প্রার্থী প্রতীক বরাদ্দ পেয়েছেন।
সেন্টমার্টিন ইউনিয়নে ৫ জন চেয়ারম্যান প্রার্থী রয়েছেন। তাদের মধ্যে, বিএনপির মৌঃ আব্দুর রহমান পেয়েছেন ধানের শীষ, আওয়ামী লীগের মুজিবুর রহমান পেয়েছেন নৌকা, নুর আহমেদ পেয়েছেন মোটর সাইকেল, আবদুর রহমান পেয়েছেন আনারস ও এম কেফায়েত উল্লাহ পেয়েছেন টেলিফোন। এছাড়া সংরক্ষিত নারী আসনে ৯ জন ও সাধারণে ২৭ জন মেম্বার প্রার্থী নির্বাচন করবেন।
টেকনাফ উপজেলার নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটানিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম জানান, চার ইউনিয়নের চেয়ারম্যান, সংরক্ষিত ও সাধারন ওর্য়াডের মেম্বার প্রার্থীদেরকে সুষ্ট ও সুন্দর পরিবেশে প্রতীক বরাদ্দ কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়েছে। পাশাপাশি সব প্রার্থীদেরকে নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে চলতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরো জানান, গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় টেকনাফের হ্নীলা ও হোয়াইক্যং ইউনিয়নের নির্বাচন বন্ধ রাখতে নির্বাচন কমিশনের লিখিত আদেশ পেয়েছি। তাই ওই দুই ইউনিয়নের নির্বাচনী কার্যক্রম আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের পরবর্তী নির্দেশনা পেলে ওই ইউনিয়নে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে।
এদিকে প্রতীক বরাদ্দ পেয়ে অন্য রকম আনন্দ বিরাজ করছে প্রার্থী ও তাদের সমর্থকদের মধ্যে। তারা প্রতীক পেয়েই মাইকিং, গণসংযোগসহ নানা প্রচারনা নেমে পড়েছে। তবে আজ থেকে আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু হবে।

