শুক্রবার, ৪ মার্চ, ২০১৬
সিটিজিবার্তা২৪ডটকম : এশিয়া কাপের ফাইনালে উঠেছে স্বাগতিক বাংলাদেশ। ২০১২ সালে পাকিস্তানের কাছে মাত্র দুই রানে হেরে শিরোপা বঞ্চিত হয়েছিল টাইগাররা। সেই পাকিস্তানকে এবার হারিয়ে স্বপ্নের ফাইনালে মাশরাফি বাহিনী।
‘দ্বিতীয়বারের মতো এশিয়া কাপে ফাইনালে খেলবেন তামিম ইকবাল। রোববারের ফাইনাল নিয়ে দারুণ আত্মবিশ্বাসী বাংলাদেশ দলের এই বাঁহাতি ওপেনার’
এশিয়া কাপের আগে থেকেই দারুণ ফর্মে আছেন বাংলাদেশ দলের বাঁহাতি ওপেনার। পাকিস্তান সুপার লিগে ছিলেন তুখোর ফর্মে। তবে সব ম্যাচ খেলতে পারেননি। সন্তান সম্ভবা স্ত্রীর পাশে থাকতে চলমান এশিয়া কাপের প্রথম তিনটি ম্যাচও খেলা হয়নি তামিমের। শেষ অবধি মুস্তাফিজুর রহমানের ইনজুরিতে ১৫ সদস্যের দলে অন্তর্ভুক্ত হন তিনি। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে প্রত্যাবর্তনের ম্যাচে ব্যাট হাতে মাত্র সাত রান করলেও ভারতের বিপক্ষে ফাইনালের আগে বেশ আত্ববিশ্বাসী দেখা গেল তামিমকে।
এ প্রসঙ্গে বাঁহাতি এই হার্ডহিটার ওপনার বলেন, ‘ফর্ম ভালো থাকলে আত্মবিশ্বাস থাকে। মানসিক ভাবেও ভালো অবস্থায় থাকা যায়। আমি চেষ্টা করবো যে ভালো ফর্মে আমি আছি। সেটা জাতীয় দলের জন্য করতে পারলে ভালো হবে।’
তবে পাকিস্তানের বিপক্ষে শেষ ম্যাচটিতে মাত্র ৭ রান করে আউট হয়েছিলেন। সেদিনের ম্যাচে একটু নার্ভাস ছিলেন তামিম। তারপর বেশ কয়েকদিন তিনি খেলার বাইরে ছিলেন। তবে এশিয়া কাপে পাকিস্তানের বিপক্ষে খারাপ করলেও কয়েকটা দিন সময় পাওয়ায় কিছুটা হলেও আত্মবিশ্বাস ফিরে পেয়েছেন তামিম।
এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘পাকিস্তানের বিপক্ষে শেষ ম্যাচে একটু বেশি নার্ভাস ছিলাম। ব্যাটসম্যান হিসেবে যখন ১০-১২ দিনের গ্যাপ থাকে। ওখান থেকে এসে খেলাটা একটু কঠিন। একটি জিনিস ভালো হয়েছে ফাইনালের আগে ২-৩টি অনুশীলন সেশন আমরা পাচ্ছি। এটা আমার ব্যাক্তিগত ভাবেও ভালো হয়েছে। এটাই আর কি। আমি টি-২০ ফরম্যাটে সম্প্রতি যেভাবে সফল হয়েছি, চেষ্টা করবো ওই ভাবেই এগুতে। যদি সবকিছু ঠিক তাকে তবে ওটা আমার দিন হবে। আমি চেষ্টা করবো আমার সামর্থ অনুযায়ী খেলার।’
গত জানুয়ারিতে খুলনায় জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে চার ম্যাচের টি২০ সিরিজ শেষে পাকিস্তান সুপার লিগে (পিএসএল) খেলতে গিয়েছিলেন তামিম।
পিএসএলে ব্যাট-হাতে দারুণ সফলও ছিলেন তিনি। ঐ ফর্ম ভারতের বিপক্ষে ফাইনালের আগে তাকে ভালো খেলতে দারুণভাবে প্রেরণা যোগাচ্ছে।
এ প্রসঙ্গে তামিম ইকবাল বলেন, ‘পিএসএলের ফর্মটা অবশ্যই অনেক আত্মবিশ্বাস দিয়েছে। আপনি যে লিগেই খেলেন না কেন। আপনি যদি রান করতে পারেন তাহলে আপনি অবশ্যই আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠবেন। তাই আমার যথেস্ট আত্মবিশ্বাস আছে। তবে আজকের (শুক্রবার) দিনের পরের দিন নতুন। আমাদের নতুন একটি বল মোকাবেলা করতে হবে। আমরাও সেভাবে তৈরি হচ্ছি।’
এশিয়া কাপে মিরপুরের পেস সহায়ক উইকেটে ভারতের পেসাররাও দারুণ বল করছে। বিশেষ করে বুমরাহ ও পান্ডে। তাই ভারতীয় পেসারদের বিপক্ষে সতর্ক হয়েই খেলতে হবে স্বাগতিকদের।
এ প্রসঙ্গে তামিম বলেন, ‘আমি বিশেষ কোন একজনের নাম বলবো না। তারা প্রত্যেকেই ভালো বোলার। আর বুমরার বিষয়েও কথা হয়েছে। ওর বোলিং টিভিতেও দেখেছি। যতোটা সম্ভব আমি হোমওয়ার্ক করছি ওকে নিয়ে। দেখা যাক কী হয়। ভারতের সবাই দুর্দান্ত ব্যাটসম্যান। আমরা আমাদের নিয়েই ভাবছি। একটি খারাপ বল পেলে তার সদ্বব্যবহার, আর ভালো বল হলে তাকে সমীহ করা। এভাবে আমরা খেলার চেষ্টা করব।’
ভারতের সঙ্গে খেলা হলে অনেক দুর্দান্ত ইনিংস খেলেছেন তামিম ইকবাল। ২০০৭এর বিশ্বকাপে বাংলাদেশের এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যান সেদিন দুর্দান্ত এক হাফ সেঞ্চুরি করেছিলেন। এমনকি ২০১২ এর এশিয়া কাপে তামিমের ব্যাটও কথা বলেছিল। তাই রোববারের ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে দলের একজন সিনিয়র ব্যাটসম্যান হিসেবে দায়িত্ব নিয়ে খেলা উচিৎ বলে মনে করছেন তামিম।
এ প্রসঙ্গে বাঁহতি এই হার্ডহিটার ওপেনার বলেন, ‘আমি ওপেনিং করি। আমার কাজ হলো দলের শুরুটা ভালো এনে দেয়া। আমি এবং আমার পার্টনারের এটাই কাজ। এ ধরনের টুর্নামেন্টে ওপেনারদের দায়িত্বটা বড়। কারণ প্রতিপক্ষ সব সময়ই চায় শুরুতেই উইকেট নিতে। আমরা চেষ্টা করবো যাতে সেটা কম হয় এবং নিজেদের খেলা উপভোগ করতে। কারণ আমাদের বোলাররা এই টুর্নামেন্টে সব মিলিয়ে খুব ভালো করছে।’
ভারতের সঙ্গে দুর্দান্ত কিছু ইনিংস খেলার স্মৃতি রয়েছে তামিম ইকবালের। এ বিষয়ে তামিম বলেন, ‘ভালো কিছু ইনিংস খেলার স্মৃতি তো অবশ্যই মনে পড়বে। একটা জিনিস আমরা বিশ্বাস করি, একটা দল যতোই শক্তিশালী হোক না কেনো, আমরা যদি আমাদের মতো খেলি, তাহলে আমরা যে কোনো দলকেই হারাতে পারি। যা আমরা আগেও প্রমাণ করেছি। ভারতের সর্বশেষ সিরিজে তাদেরকে আমরা হারিয়েছি। যদিও সেটা অন্য ফরম্যাটে ছিলো। তারপরও আমরা যদি ভুল কম করি, তাহলে আমাদের ফাইনালে ভালো সম্ভাবনা আছে।’

