রোববার, ২০ মার্চ ২০১৬
গতো বৃহস্পতিবার (১৭ মার্চ) থেকে কক্সবাজার জেলায় আসন্ন ইউপি নির্বাচনে আওয়ামীলীগের দলীয় প্রার্থীদের বিপক্ষে এমপি বদির অবস্থান, রাজনৈতিক সহযোগী সংগঠন যুবলীগ, বিশেষ করে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি-সম্পাদকের ফেসবুকে সাংগঠনিক কর্মকান্ডে অবাঞ্চিত ঘোষনার পর থেকেই চলছে নানান আলোচনা সমালোচনা|
জেলা আওয়ামীলীগ থেকে ইতিমধ্যে বেশ কয়েকবার বহিষ্কারের হুশিয়ারির পরে সাময়িক বহিষ্কারের প্রেস রিলিজ দিয়ে তাদেরকে দমিয়ে রাখতে পারেননি বরং স্থানীয় জনপ্রিয়তার চ্যালেঞ্জ দিয়ে নির্বাচন করার ব্যাপারে তারা অটুট রয়েছেন| জেলা নেতৃবৃন্দের বহিষ্কারাদেশকে পাত্তাই দিচ্ছেনা তারা|
এদিকে জেলা আওয়ামীলীগ সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান গতোকাল স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদে বলেন এমপি বদি নিজে অবরোধপ্রথা নাটক সাজিয়েছন এবং তিনি গোপনে বিদ্রোহীদের বিজয়ী করতে কৌশল অবলম্বন করছেন তা নিয়ে চলছে জনসাধারণের মনে নানান জল্পনা কল্পনা|
এদিকে আরেক স্থানীয় অনলাইন পত্রিকায় প্রকাশিত হলো এমপি বদি নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন না করে সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার স্বার্থে নিজেকে বিতর্কের উর্ধে রাখছেন অথচ কিছু মহল তার ভাবমূর্তি ক্ষূন্ন করতে তার বিরুদ্ধে নানানরকমের অপপ্রচারে লিপ্ত হয়ে পড়েছেন|
টেকনাফ সদর ও সাবরাং ইউনিয়ন পরিষদে আওয়ামীলীগের দলীয় প্রার্থীর পক্ষে সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদি নির্বাচনী প্রচারনায় প্রত্যক্ষভাবে অংশ না নেয়ায় জেলা আওয়ামীলীগ ও ছাত্রলীগকে ব্যবহার করে এমপি বদিকে কোন ঠাসা করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
সাবরাং ইউনিয়নের আওয়ামীলীগের চেয়ারম্যান প্রার্থী সোনা আলীর ভাই ইসমাইল, পুত্র ফাহাদ আলী ও টেকনাফ সদর ইউনিয়নের আলম চেয়ারম্যান নৈপথ্যে থেকে এমপি বদিকে বিব্রত করার চেষ্টা করছে। ইসমাইল ও ফাহাদ এমপি বদিকে নির্বাচন কমিশনের আচরণবিধি আইন লঙ্ঘন করে জোর পূর্বক নির্বাচনী প্রচারনার মাঠে নামানোর জন্য বিভিন্ন ধরনের অপপ্রচার চালাচ্ছেন।
এমপি বদির বিরুদ্ধে আওয়ামীলীগ ও ছাত্রলীগ উদ্দেশ্য মূলক ভাবে যেই মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছে এতে নিজ দলেরই ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন দলীয় কিছু নেতৃবৃন্দ ।
টেকনাফ উপজেলায় ৬টি ইউনিয়ন পরিষদের মধ্যে ৪ ইউপিতে আগামী ২২ মার্চ ও বাকী ২ টিতে আগামী ২৭ মার্চ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এই ৪টি ইউনিয়ন পরিষদের মধ্যে সাবরাং ও টেকনাফ সদরের আওয়ামীলীগ মনোনিত চেয়ারম্যান প্রার্থীরা চায় সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদি যেন তাদের পক্ষে সরাসরি নির্বাচনী প্রচারনায় অংশ গ্রহন করে। কিন্তু নির্বাচন কমিশনের আইনে কোন সংসদ সদস্য ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে সরাসরি কোন প্রার্থীর পক্ষে প্রচার প্রচারনায় অংশ গ্রহন করতে পারবেনা। নির্বাচন কমিশনের বাধ্যবাধকতা থাকার কারনে এমপি বদি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে প্রচারনা থেকে বিরত আছেন।
বিভিন্ন কৌশলে এমপি বদিকে নির্বাচনী প্রচারনায় নামাতে না পেরে ঐ ২ ইউনিয়নের আওয়ামীলীগ দলীয় প্রার্থী ও তাদের স্বজনরা বিভিন্ন ভাবে প্রভাবিত করে সংসদ বদির বিরুদ্ধে নানা ধরনের ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। এমপি বদিকে নির্বাচনী প্রচরনা নামাতে নাপেরে সম্পুর্ন উদ্দেশ্য মূলক ভাবে প্রচার করা হেচ্ছে এমপি বদি নৌকার প্রার্থীর বিরুদ্ধে কাজ করছে। অথচ মনোনয়ন পত্র দাখিলের দিন সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদিই সর্ব প্রথম আওয়ামীলীগ মনোনিত প্রার্থীদের ফুলের মালা দিয়ে বরণ করে নেন। ঐ দিনই এমপি বদি টেকনাফের আওয়ামীলীগের সকল নেতা কর্মীকে নৌকার প্রার্থীর পক্ষে কাজ করে নৌকার বিজয় নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেন।
গত ১৭ মার্চ টেকনাফের সাবরাং ও সদরে ইউনিয়নে জেলা আওয়ামীলীগের নবনির্বাচিত সভাপতি সাধারন সম্পাদককে সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়। ঐ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে নৌকা প্রতীকের প্রার্থীরা বিশাল নির্বাচনী শো ডাউনের আয়োজন করে। জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও সাধারন সম্পাদকের জন্য আয়োজিত সংবর্ধনা সভায় অংশ নিতে আবদুর রহমান বদি সাবরাং এর নোয়াপাড়া যাওয়ার পড়ে হাজার হাজার জনতা বাধা প্রদান করে। জনতা সেই সময় উক্ত টেকনাফ-শাহাপরীর দ্বীপ সড়কে ব্যারিকেড দিয়ে একটি ব্রিজের পাটাতন খুলে ফেলে । এই সময় এমপি বদি ৫ ঘন্টা অবরুদ্ধ অবস্থায় ছিলো। স্থানীয় জনতার বাধার সম্মূখে তিনি উক্ত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দিতে পারেননি।
উক্ত ঘটনার কয়েক ঘন্টা পর জেলা ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক ইমরুল হাসান রাশেদ তার ফেইসবুকে আবদুর রহমান বদিকে ছাত্রলীগের সকল ধরনের অনুষ্ঠানে অবাঞ্চিত ঘোষনা দেয়।
জানাগেছে, মূলত টেকনাফের সাবরাং ইউনিয়ন পরিষদের আওয়ামীলীগের চেয়ারম্যান প্রার্থী সোনা আলীর ভাই দুবাই প্রবাসি মোঃ ইসমাইল ও সোনা আলীর ছেলে ফাহাদ আলীর পরামর্শেই সুকৌশলে এমপি বদিকে বিব্রত করবার জন্য ফেইসবুকে ঐ স্ট্যাটাস দেয় জেলা ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক।
পরের দিন জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ইসতিয়াক আহম্মদ জয় তার ফেইসবুকে এমপি বদিকে অবাঞ্চিত করে সাধারন সম্পাদক ইমরুল রাশেদের দেয়া স্ট্যাটাসকে সমর্থন জানিয়ে একটি স্ট্যাটাস দেয়।
ছাত্রলীগের সভাপতি সাধারন সম্পাদকের ফেইসবুক স্ট্যাটাস নিয়ে সোনা আলী ভাই ইসমাইল ও পুত্র ফাহাদ আলী কৌশলে বিভিন্ন অনলাইন ও সংবাদপত্রের উদ্দেশ্যমূলক সংবাদ প্রচার করে বদিকে বিব্রতকর অবস্থায় ফেলার চেষ্টা করছে। তাদের সাথে হ্নীলী ইউনিয়ন পরিষদে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন বঞ্চিত অধ্যাপক মোঃ আলীর দুই পুত্রেরও ইন্দন রয়েছে বলে জানাগেছে।
এই ব্যাপরে জানতে চাওয়া হলে সোনা আলীর ভাই ইসমাইল জানান, এমপি বদি আমার ভাইয়ের সাথে বেইমানী করেছে। সে আমাদের পক্ষে নির্বাচন করার অঙ্গীকার করেছিলো। কিন্তু এখনো পর্যন্ত আমার ভাই সোনা আলীর পক্ষে কোন কাজ করেনি। এমনকি জেলা আওয়ামীলীগের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের দিন ইচ্ছাকৃত ভাবে নাটক সাজিয়ে সভায় উপস্থিত হয়নি। ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদককে আমি আমাদের প্রতি এমপি বদির বৈইমানির কথা জানিয়েছি। তবে তার ফেইসবুকের স্ট্যাটাসের ব্যাপরে আমি কিছু জানিনা।
এদিকে সোনা আলীর পুত্র ফাহাদ আলী জানিয়েছেন, সংসদ আবদুর রাহমান বদির সাথে আমার পরিবারের গভীর সম্পর্ক। কিন্তু আজকে আমাদের দূরদিনে তাকেই আমারা পাশে পাচ্ছিনা।
সংসদ সদস্যদের প্রচার প্রচারনার ব্যাপারে নির্বাচন কমিশনের নিষেধাঙ্গা নিয়ে জানতে চাওয়া হলে প্রবাসি ফাহাদ আলী বলেন, অনেক এমপি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনী মাঠে সরাসরি কাজ করছে। এমপি বদিও চাইলে আমার বাবার পক্ষে কাজ করতে পারতেন।
এই বিষয়ে সংসদ সদস্য বদি জানান, নৌকার প্রার্থীকে জয়ী করা আমার সাংগঠনিক দায়িত্ব। আমি আগেই ঘোষনা দিয়েছি নৌকার প্রার্থীকে জয়ী করার জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধ ভাবে কাজ করার। আমার নির্বাচন কমিশনের আইনের বাইরে গিয়ে কাজ করার সুযোগ নেই। নির্বাচন কমিশনের নিষেধাজ্ঞার কারনে আমি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনী প্রচার প্রচারনায় অংশ গ্রহন করতে পারছিনা। কেউ যদি মনে করে নির্বাচন কমিশন নয়, তাদের ইচ্ছাতেই প্রচার প্রচারনা চলতে তা হবে বোকামি।

