শনিবার, ০২এপ্রিল ২০১৬
সিটিজিবর্তা২৪ডটকম
আবদুর রহমান, টেকনাফ : টেকনাফ ডিগ্রি কলেজে কেন্দ্র ফির নামে এইচএসসি পরীক্ষার্থীর কাছ থেকে ৫০০টাকা করে আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। কলেজ কর্তৃপক্ষে দাবী করা টাকা না দিলে মিলছে না পরীক্ষার প্রবেশপত্র।
কলেজ সূত্রে জানা গেছে, আগামী ৩ এপ্রিল অনুষ্টিত এইচএসসি পরীক্ষায় ১৮৬ নিয়মিত ও ৬৯জন অনিয়মিতসহ ২৫৫জন টেকনাফ ডিগ্রি কলেজ থেকে পরীক্ষায় অংশ গ্রহন করার কথা রয়েছে।
চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানায়, চলতি বছর এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের ফরমপূরণ করার সময় বোর্ডের ওয়েবসাইটে নির্দেশনা মতে, যাবতীয় ফি পরিশোধ করে ফরমপূরণ করা হয়। তারই সূত্র ধরে পরীক্ষায় অংশ গ্রহন করার জন্য প্রবেশপত্র স্ব স্ব কলেজে পাঠানো হয়েছে। প্রবেশপত্র বিতরণ করার সময় কোন ধরনের ফি নেওয়ার বিধান নেই। কয়েকজন পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকরা অভিযোগ করে বলেন, কেন্দ্রের ফির নামে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে প্রবেশপত্র প্রদান কালে নিয়মিত শিক্ষার্থী ৫০০ ও অনিয়মিত ৩০০টাকা করে নেওয়া হচ্ছে। দাবী করা টাকা না দিলে মিলছে না প্রবেশপত্রও।
প্রবেশপত্র গ্রহণ করার জন্য আদায় করা টাকার বিপরীতে শিক্ষার্থীদের হাতে রশিদ দেওয়া হচ্ছে তাও কেন্দ্রে ফি নামে। আবার কাউকে টাকা নিয়ে রশিদ দিচ্ছে না। এমন এক পরিক্ষার্থী বলেন, কেন্দ্রের ফির নামে আমার কাছ থেকে ৫০০ টাকা নিয়েছে। কিন্তু তার বিনিময়ে রশিদ পায়নি রশিদ চাইলে তাদের কাছে রশিদ শেষ বলে জানান। তাঁরা আরও অভিযোগ করেন, শিক্ষাবোর্ডের ওয়েবসাইটে নির্দেশনায় যাবতীয় ফিসহ ফরমপূরণের নিধারিত ছিল সর্বোচ্চ ১৬০০-১৭০০টাকা। কিন্তু ফরমপূরণ করার সময় প্রত্যেকের কাছ থেকে চার হাজার থেকে পাঁচ হাজার টাকা নেয়া হয়েছিল। তখন কেন্দ্রের ফি বাবদ টাকা আদায় করা হয়। এখন প্রবেশপত্র নেওয়ার সময় আবারো কেন্দ্রের ফির নামে টাকা আদায় করা হচ্ছে। এ ব্যাপারে তাঁরা শিক্ষামন্ত্রী ও স্থানীয় সাংসদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ শামসুল আলম বলেন, কেন্দ্রের নির্দেশ অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কেন্দ্রের ফি বাবদ ৫০০ ও ৩০০টাকা করে আদায় করা হচ্ছে। এখানে কারও কাছ থেকে অতিরিক্ত কোন টাকা আদায় করা হচ্ছে না বলে তিনি দাবী করেন।
উপজেলা ভারপ্রাপ্ত শিক্ষা কর্মকর্তা নুরুল আবসার বলেন, প্রবেশপত্র বিতরণ করার সময় কিছু টাকা নেওয়া হচ্ছে বলে শুনেছি।
এ প্রসঙ্গে টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ শফিউল আলম বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। তাই এখনি খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। নিয়মের বাহিরে কিছু ঘটলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেয়া হবে।
চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ মাহবুব হাসানের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রবেশপত্র বিতরণ করার সময় টাকা নেওয়ার কোন বিধান নেয়। এ ব্যাপারে অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
