আজীম অনন, সিটিজিবার্তা২৪ডটকম
আপডেট: ৫ এপ্রিল ২০১৬ মঙ্গলবার ১৯:৪৪ ঘন্টা
রাজনীতি ডেস্ক : আমরা এখন এক ভীতিকর রাজ্যে বসবাস করছি। সারা দেশের মাটি আজ মানুষের তাজা রক্তে রঞ্জিত হচ্ছে। দেশে কেবলই স্বজন হারাদের বুকফাটা আর্তনাদ।’
মঙ্গলবার রাতে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ কথা বলেন।
বিবৃতিতে বলা হয়, গত ৩১ মার্চ নির্বাচনী সহিংসতায় মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও জিয়নপুর ইউনিয়ন শাখার সভাপতি মো. আবদুল হামিদ আওয়ামী সন্ত্রাসীদের হাতে গুরুতর আহত হন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ (মঙ্গলবার) তিনি মারা যান। এছাড়া বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির প্রতিবাদে সোমবার ভোলা জেলা বিএনপির উদ্যোগে মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। ওই মিছিলে অংশগ্রহণ শেষে রাতে বাসায় ফিরলে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা বাসায় হামলা চালিয়ে জেলা বিএনপির যুগ্ম-সম্পাদক হারুন-অর রশিদ ট্রম্যানকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। তিনি এখন ভোলা হাসপাতালে মুমূর্ষু অবস্থায় চিকিৎসাধীন।
এদিকে, সোমবার ঢাকা মহানগরের অধীন বনানী থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের সহ-সভাপতি আলমগীর হোসেনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
মির্জা ফখরুল ইসলাম এসব বর্বরোচিত ও ন্যাক্কারজনক ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, ‘শাসক দলের ছত্রছায়ায় আওয়ামী সন্ত্রাসীরা বিরোধী দলীয় নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালাচ্ছে, খুন-জখম করছে। এছাড়া, তারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দিয়ে বিরোধী নেতাকর্মীদের অপহরণ, গুম, গুপ্তহত্যা ও নির্বিচারে গ্রেপ্তার করছে। এসব ঘটনা বর্তমান সময়ে ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। ইউপি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আবদুল হামিদের মৃত্যু সেই ভয়াবহতারই প্রতিচ্ছবি।’
‘এছাড়া হারুন অর রশীদ ট্রম্যানকে আহত করার ঘটনা নিঃসন্দেহে আওয়ামী সন্ত্রাসবাদের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য। এসব অমানবিক, পৈশাচিক ও নৃশংস ঘটনায় নিন্দা জানানোর ভাষা আমাদের জানা নেই।’
বিএনপি মহাসচিব নিহত আবদুল হামিদ ও গুরুতর আহত ট্রম্যানের ওপর হামলাকারীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবি জানান।
তিনি আবদুল হামিদের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে শোক-সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
বিবৃতিতে আলমগীর হোসেনের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মিথ্যা ও বানোয়াট মামলা প্রত্যাহার করে নিঃশর্ত মুক্তির জোর দাবি জানান মির্জা ফখরুল।

