ইউপি নির্বাচন: সহিংসতার মূলে বিদ্রোহ প্রার্থী!

নিউজ ডেস্ক, সিটিজিবার্তা২৪ডটকম

প্রকাশিত: ২ এপ্রিল ২০১৬  শনিবার  ১৮:৫৭ ঘন্টা

ইউপি নির্বাচন: সহিংসতার মূলে বিদ্রোহ প্রার্থী!

Nirbachani_Sahingsata

চলমান ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে সারাদেশে সংঘটিত সহিংস ঘটনাগুলোয় প্রাণহানির ঘটেছে। প্রথম ও দ্বিতীয় দফায় অনুষ্ঠিত ইউপি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সহিংসতায় এরই মধ্যে ৩৫ জনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। আর এ সহিংসতার জন্য মূলত বিদ্রোহী প্রার্থীদের কর্মী-সমর্থদেরই দায়ী করছেন স্থানীয় রাজনীতিকরা।

তারা বলছেন, সারাদেশে ধাপে-ধাপে অনুষ্ঠিত ইউপি নির্বাচনের মাঠে প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপি জোরালোভাবে উপস্থিত না থাকায় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ মনোনীত ও দলটির বিদ্রোহী প্রার্থীদের মধ্যেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা হচ্ছে। নির্বাচনি প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ও আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীদের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যেই মূলত দফায়-দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

স্থানীয় রাজনীতিবিদদের মতে, দুটি ধাপের নির্বাচনে অধিকাংশ ইউনিয়নে সহিংসতা-প্রাণহানি  ঘটছে বিদ্রোহী প্রার্থীদের কারণেই।

সহিংসতার ঘটনাগুলো পর্যালোচনা করে দেখা যায়, আওয়ামী লীগ ও আওয়ামী লীগের বিদ্রোহীদের কারণেই অধিকাংশ নির্বাচনি এলাকায় সহিংসতার ঘটনা ঘটছে। কোথাও আওয়ামী লীগের প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকরা বিদ্রোহী প্রার্থী ও প্রার্থীদের কর্মী-সমর্থকদের ওপর চড়াও হচ্ছেন, কোথাও আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীরাই নৌকা প্রতীকের প্রার্থী, কর্মী-সমর্থকদের মারধর করছেন।

গত ২২ মার্চ অনুষ্ঠিত সাত শতাধিক ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেখানে অর্ধেকেরও বেশি ইউনিয়নে বিএনপির প্রার্থীরা নির্বাচন করেননি। আবার কোথাও-কোথাও নির্বাচনে অংশ নিলেও শেষ পর্যন্ত বিভিন্ন অভিযোগ তুলে নির্বাচন বয়কট করেছেন তারা।

এদিকে, প্রথম ধাপের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সহিংসতায় ২৪ জন মানুষ মারা গেছেন। তাদের সবাই ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় নেতাকর্মী। বিভিন্ন সূত্রে পাওয়া তথ্য মতে, আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীর কর্মী-সমর্থক ও বিদ্রোহী প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদেরনেতাকর্মীদের হাতেই আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী মারা গেছেন।

প্রথম দফা ইউনিয়ন নির্বাচনের আগে গত ২০ মার্চ পাবনার বেড়া উপজেলার ঢালারচর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী এবং বিদ্রোহী প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে গহের আলী মণ্ডেল (৩২) নামে আওয়ামী লীগের স্থানীয় এক নেতা নিহত হয়েছেন। এ সময় গুলিবিদ্ধ হয়েছেন আরও ১০ জন। তারা সবাই আওয়ামী লীগের কর্মী-সমর্থক। গহের মণ্ডল ঢালারচর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।

জানা গেছে,  ২০ মার্চ শনিবার রাত সাড়ে ১১ টার দিকে ঢালার চর ইউনিয়নের নতুন মীরপুর ও রামনারায়ণপুর এলাকায় আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী কোরবান সরদার গণসংযোগ করতে যান। এ সময় বিদ্রোহী প্রার্থী নাসিরের লোকজন তাদের বাধা দেন। এক পর্যায়ে সময় উভয় গ্রুপের মধ্যে বন্দুকযুদ্ধ শুরু হয়। এতে গহের আলী মণ্ডল গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান।

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আদাবাড়িয়া ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের দলীয় ও বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থকদের সংঘর্ষে ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ২০ জন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী শামসুর রহমান ফকিরের সমর্থক স্থানীয় আব্দুল বারেক মিয়ার বাড়িতে নৌকা মার্কার উঠান বৈঠক চলছিল। ওই সময় আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী মো. জাহাঙ্গীর হোসেনের সমর্থকরা সেখানে গিয়ে হামলা চালান। এ ঘটনায় দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ঘটে। এতে উভয় পক্ষের ২০ জন আহত হন।

এ প্রসঙ্গে কথা হয় নোয়াখালীর সুবর্ণ চর উপজেলার ৩ নং চরক্লার্ক ইউনিয়ন পরিষদের বিদ্রোহী প্রার্থী অ্যাডভোকেট আবুল বাসারের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘তৃণমূল থেকে কেন্দ্রে পাঠানো প্রার্থী তালিকা অস্বচ্ছ ছিল। কেন্দ্রে সঠিক তথ্য পাঠানো হয়নি। এ কারণেই আমি মনোনয়ন পাইনি। তবে, বিদ্রোহী প্রার্থীরা যে  এলাকায় জনপ্রিয়, তা প্রমাণিত হয়েছে আমার বিজয়ের মধ্য দিয়ে। সব জায়গায় যে, বিদ্রোহীরা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েছেন, এ অভিযোগ সত্য নয়। বরং এই বিদ্রোহীরাই নির্বাচনের আমেজ তৈরি করেছেন।’

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহাবুবউল আলম হানিফ বলেন, আওয়ামী লীগ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন উৎসবমুখর পরিবেশে হোক, তা নিশ্চিত করতে চায়। স্থানীয় নির্বাচনকে ঘিরে অতীতে সহিংসতার ঘটনা আরও বেশি মাত্রায় ঘটেছে। এগুলো ভুলে গেলে চলবে না। তিনি বলেন, নির্বাচনে সহিংসতার জন্যে বিএনপিও দায়ী।

সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কাজি জাফরউল্যাহ বলেন, কিছু কিছু ইউনিয়নে বিদ্রোহীদের কারণে সহিংসতার ঘটনা ঘটছে এটা সত্য। তবে অতীতের তুলনায় এর সংখ্যা কম।

তিনি বলেন, আমরা বিদ্রোহী প্রার্থীদের ঠেকানোর জন্যে অনেক পদক্ষেপ নিয়েছি। বিএনপি ঠিকভাবে নির্বাচনে অংশ নিলে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতো। এর ফলে উভয় দলের বিদ্রোহী প্রার্থীর সংখ্যা কমে আসত। এসব ঘটনার জন্যে বিএনপিও দায় এড়াতে পারে না।

তথ্য সূত্র বাংলা ট্রিবিউন

সিটিজি বার্তা ২৪ এ প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য লিখুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ

আজ বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০-দলীয় জোটের নেতাদের সঙ্গে বেগম জিয়ার বৈঠক করে... নিজস্ব প্রতিবেদক, সিটিজিবার্তাটোয়েন্টিফোর.কম আপডেট: ৪ এপ্রিল ২০১৬   সোমবার   ১১:১৫   জ্যেষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের পর জোটের শীর্ষ নে...
শেষ ওভারের নাটকীয়তায় শিরোপা জিতলো ওয়েস্ট ইন্ডিজ... চট্টগ্রাম, সিটিজিবার্তা২৪ডটকম আপডেট: ৩ এপ্রিল ২০১৬   রোববার   ২৩:০৫ টি-২০ বিশ্বকাপ ২০১৬ চ্যাম্পিয়ন ওয়েস্ট ইন্ডিজ মাহাবুবুল করিম : শেষ ওভার...
আট দফা দাবিতে উত্তাল চুয়েট ক্যাম্পাস প্রতিবেদক, সিটিজিবার্তা২৪ডটকম আপডেট : ৩ এপ্রিল ২০১৬  রোববার  ২০:৪০ ঘন্টা আট দফা দাবিতে উত্তাল চুয়েট চট্টগ্রাম : সড়ক দুর্ঘটনায় চট্ট...
কাল খুলছে প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয় নিজস্ব প্রতিবেদক, সিটিজিবার্তা২৪ডটকম আপডেট: ৩ এপ্রিল ২০১৬  রোববার  ২০:৩৫ ঘন্টা দামপাড়া প্রিমিয়ার ক্যাম্পাস চট্টগ্রাম:  বানিজ্য অনুষদের বিদায়...
অপরাজনীতিও সোহেল হত্যাকারীদেরকে বাঁচাতে পারবে না... সিটিজিবার্তা২৪ডটকম নিউজ ডেস্ক আপডেট : ৩ এপ্রিল ২০১৬   রোববার  ২০:২৫ ঘন্টা সোহেল হত্যাকান্ড চট্টগ্রাম: সোহেল হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের গ্রেফতারে সো...



Leave a Reply