জেনিফার আলম, সিটিজিবার্তা২৪ডটকম
রবিবার, ১ মে ২০১৬
কয়েকদিনের তাপদাহের পর রোববার সন্ধ্যায় রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে শুরু হয়েছে স্বস্তির বৃষ্টি। তবে বৃষ্টির সঙ্গে ব্যাপক বজ্রপাত হচ্ছে।আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী ভারতের পশ্চিমবঙ্গ থেকে ধেয়ে আসা বজ্রসহ মেঘমালা। তা দেশের পূর্ব-মধ্যাঞ্চল দিয়ে ঢুকে ক্রমশ পূর্ব দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। এর প্রভাবেই দেশে কালবৈশাখী ও ঝড়ো বৃষ্টি হচ্ছে।
সকাল থেকে প্রচন্ড তাপপ্রবাহ এবং দুপুরের পর থেকে আকাশে একটু একটু মেঘ জমলেও সন্ধ্যার আগে হঠাৎ করেই অন্ধকারে ছেয়ে যায় চারিদিক। এরপর শুরু হয় ঘূর্ণিঝড় তারপর নামে বৃষ্টি।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, রাজধানীতে ঘণ্টায় ৭৫ কিলোমিটার বেগে কালবৈশাখী ঝড় হয়েছে। এ সপ্তাহে এমন ঝড়ের সঙ্গে বৃষ্টি আরো হতে পারে।
রবিবার (১ মে) সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে হঠাৎ করেই রাজধানীতে বৃষ্টি শুরু হলে মুহূর্তেই যেন মানুষের মনে স্বস্তি ফিরে আসে। কাঠফাটা গরমে ঘামে নেয়ে বাড়ি ফেরার পরিবর্তে আজ অনেকেই ভেজা শরীরে ঘরে ফিরবেন- এমনটি ভেবেই অনেককে উল্লসিত দেখা গেছে।
অথচ মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগেই দুপুরের দিকে রমনার নির্জন আমের ছায়ায় বসেছিলেন প্রেমিকযুগল। আগের দিন থেকেই শ্রমিক দিবসের ছুটিতে সারা দিন ঘুরে বেড়ানোর কথা ছিল। কিন্তু সকালের সূর্য মাথার উপরে উঠার সঙ্গে সঙ্গেই তাদের পরিকল্পনা এলোমেলো করে দিতে থাকে প্রখর তাপদাহ। তারপর কী আর করা! সব ঘোরাঘুরি বাদ দিয়ে নির্ভার হয়ে বসে পড়লেন বৃক্ষের শীতল ছায়ায়।
এ শুধু প্রেমিকযুগলের ক্ষেত্রেই নয়, গত কয়েকদিন যাবত দেশে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা বিরাজ করায় প্রখর গরমে অতিষ্ট হয়ে উঠেছে সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে রাজধানী ঢাকায় যাদের বাস তাদের কথা তো বলার অপেক্ষাই রাখে না। চারপাশের দেয়ালবদ্ধতায় নগরবাসীর প্রায় সেদ্ধ হওয়ার উপক্রম।
প্রখর তাপদাহে যখন গোটা দেশ জ্বলছে ঠিক তেমনই সময়ে অপেক্ষার অবসান হলো। রাজধানীতে এক পশলা বৃষ্টি যেন ক্ষণিকের স্বস্তি দিয়ে গেলো গরমে হাহুতাশ নগরবাসীকে। তবে টানা বৃষ্টি পরক্ষণেই নগরবাসীর মনে জলাবদ্ধতার জ্বালা ধরাতে পারে- এমন ভাবনাও স্বাভাবিকভাবেই আসছে অনেকের মনে।

