কারাগারে শিবির-ছাত্রলীগ সমঝোতা বৈঠক!

ctgbarta24.com
Share

চট্টগ্রাম ও মহসিন কলেজ নিয়ন্ত্রণ দিতে

অনিরুদ্ধ যীশু , সিটিজিবার্তা২৪ডটকম

সোমবার, ১৬ মে ২০১৬
কারাগারে শিবির-ছাত্রলীগ সমঝোতা বৈঠক

চট্টগ্রাম সরকারি কলেজ ও সরকারি হাজী মোহাম্মদ মহসিন কলেজ।

চট্টগ্রাম: এবার চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে শিবির-ছাত্রলীগ সমঝোতা বৈঠকের অভিযোগ উঠেছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বরাবর লিখিত এ অভিযোগ করেন চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রলীগ।

অভিযোগ পত্রে লেখা হয়েছে- সম্প্রতি চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নুরুল আজিম রনি নির্বাচনী আচরণ বিধি ভঙ্গের অভিযোগে দুই বছর সাজা কাটছেন। একই দিনে, শরীরে অবৈধ অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার হওয়ায় অস্ত্র আইনে বিচার চলছে।

অন্যদিকে, কিছুদিন আগে চকবাজার এলাকায় ‘মিষ্টি মুখ’ দোকানে গোপন বৈঠক করার সময় মহানগর ছাত্রশিবির (উত্তর) সেক্রেটারী তৌহিদুল ইসলাম-কে স্থানীয় ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীরা ধরে পুলিশে সোপর্দ করে। নাশকতার একাধিক মামলায় তিনি জেলে আটক আছেন।

গত বছর ১৬ ডিসেম্বর ছাত্রলীগের উপর শিবির কর্তৃক হামলার পর চট্টগ্রাম কলেজ ও মহসিন কলেজ নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় ছাত্রলীগ। এসময় অন্যতম ভূমিকা রাখেন নগর ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক নুরুল আজিম রনি। পাশাপাশি স্থানীয় যুবলীগ নেতা নূর মোস্তফা টিনু সার্বিক সহযোগীতা করেন।

কিন্তু সম্প্রতি সময়ে, রনি ও টিনু গ্রুপের মধ্যে দ্বন্দ প্রকাশ্যে রূপ নেয়। রনি চায় কলেজ দু’টো তে একক আধিপত্য ও ছাত্রলীগ কমিটিতে গুরুত্বপূর্ণ পদে তার অনুসারীদের আনতে। অপরদিকে এ বিষয়ে ছাড় দিতে নারাজ টিনু গ্রুপ। এই নিয়ে দুই গ্রুপ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন।

গত ২৩ এপ্রিল, রনির অনুসারী এমইএস কলেজ ছাত্রলীগের একদল কর্মী মহসিন কলেজে ঢুকে হানিফ সুমন নামে এক ছাত্রলীগ কর্মীকে মারধর করলে উভয় গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়। তাৎক্ষণিক দুই কলেজ ছাত্রলীগ কর্মীরা ধাওয়া দিলে বহিরাগতরা পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় চকবাজার থানায় উভয় গ্রুপ পাল্টাপাল্টি মামলা করে। কলেজ ক্যাম্পাসে বিক্ষুব্ধ ছাত্রলীগ কর্মীরা টানা তিনদিন রনির বহিষ্কারের দাবি জানিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করে। কলেজ দু’টো রনির নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।

এদিকে রনি আটকের পর একটি কথা আলোচনায় উঠে আসে, “তবে কি কলেজ দু’টো আবারো শিবিরের নিয়ন্ত্রণে চলে যাবে”? এ নিয়ে জল্পনা-কল্পনার যেন শেষ নেয়! আইনি প্রক্রিয়ার মারপ্যাঁচে রনির সহসা মুক্তি মিলছে না তা নিশ্চত। তবে রনি ও তার সিনিয়র নেতারা চায়, কলেজ দু’টো রনির নিয়ন্ত্রণে রাখতে।

কারাগারে থাকার সুবাদে নিয়ন্ত্রণ যদি রনি হারায়, তবে এক্ষেত্রে সিনিয়র নেতারা চান কলেজ দু’টো শিবিরের নিয়ন্ত্রণে চলে যাক। সিনিয়র নেতাদের চাপে রনি জেলে বসে শিবির সেক্রেটারী তৌহিদের সাথে গোপনে সমঝোতা বৈঠক করেন। এ নিয়ে তিন দফা তাদের মধ্যে বৈঠক হয়েছে বলে জানিয়েছে জেলে থাকা একাধিক ছাত্রলীগ কর্মী।

এ তথ্য ছড়িয়ে পড়লে জেলের ভেতর ও বাইরে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। তবে রনি আদালতের অনুমতিতে বুধবার থেকে নগরীর চমেক হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য অবস্থান করছে।

এদিকে, একই দিন বুধবার নিজামীর গায়েবানা জানাযাকে কেন্দ্র করে প্যারেড ময়দানে শিবির ছাত্রলীগ সংঘর্ষ হয়। জানাযা শেষে শিবির কর্মীরা চার ভাগে বিভক্ত হয়ে হামলা শুরু করে। যানবাহন সহ আশপাশে বেশ কিছু দোকানপাটে ভাংচুর চালায়। একটি গ্রুপ কলেজ ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে ছাত্রলীগ কর্মীদের উপর হামলা ও ভাংচুর চালায়।

এদিকে ছাত্রলীগও সকাল থেকে নিজামীর জানাযায় বাধা দিতে ব্যাপক চেষ্টা করে। ছাত্রলীগ সংগঠিত হয়ে পাল্টা হামলা শুরু করলে শিবির পিছু হটতে বাধ্য হয়।

একাধিক ছাত্রলীগ নেতা অভিযোগ করেন, নুরুল আজিম রনির সাথে শিবিরের সমঝোতা বৈঠকের ব্যাপারে আমরা গত মঙ্গলবার নিশ্চিত হয়। জানাযার নামাজের অযুহাতে শিবির কলেজ দু’টো দখল করবে এমন শঙ্কায় ছিলেন তারা। তাই শিবিরের হামলার প্রতিরোধ গড়ে তুলে তারা। এ ঘটনার সময় রনির কোন অনুসারী উপস্থিত না থাকায় বিষয়টি আরো স্পষ্ট হয়ে উঠে। সমঝোতা বৈঠকের সংবাদ ধামাচাপা দিতেই রনি অসুস্থতার ভান করে বুধবার হাসপাতালে ভর্তি হয় বলে জানান বেশ কিছু ছাত্রলীগ নেতাকর্মী।

একই দিন জামায়াত-শিবিরও গ্রীন সিগনাল পেয়ে নিজামীর জানাযাকে ইস্যু করে কলেজ দু’টো দখলের চেষ্টায় সেদিন তারা ধারালো অস্ত্রসহকারে তান্ডব চালায়। তবে, স্থানীয় যুবলীগ নেতা টিনু গ্রুপ কলেজ দু’টোর বিষয়ে শক্ত অবস্থানে ছিলো। শিবিরকে প্রশাসনিক ভাবে নগর আওয়ামীলীগের শীর্ষ এক নেতা সহযোগীতা করেছেন বলে অভিযোগ উঠে। কারণ পুলিশের নিরব ভূমিকা ও বাধা সৃষ্টি না করায় শিবির কর্মীরা এ সুযোগ পায়।

এদিকে অভিযোগ উঠেছে, এমনকি সিএমপির এডিসি আব্দুর রউফ নিজের হাতে কলেজের একটি গেইট খুলে দেয়। অতঃপর শিবির কর্মীরা ঐ গেইট দিয়ে ঢুকে ক্যাম্পাসে ভাংচুর চালায়, অবস্থান নেওয়ার চেষ্টা করে। তবে ছাত্রলীগের প্রতিরোধের মুখে কলেজ ক্যাম্পাস ও চকবাজার এলাকা ছাড়তে বাধ্য হয় জামায়াত-শিবির।

এদিকে নুরুল আজিম রনির ভালো কিছু যৌক্তিক দাবি-দাওয়া নিয়ে আন্দোলন করায় গণমাধ্যমে খুবই আলোচিত হয়ে উঠে। তবে অন্তরালে তার রয়েছে ভিন্ন চরিত্র! অভিযোগের যেন শেষ নেয়। একের পর এক অভিযোগ তার বিরুদ্ধে।

একাধিক নগর নেতা অভিযোগ করেন, ছাত্রলীগের গঠনতন্ত্র মানছে না কেন্দ্রীয় সংসদ। গঠনতন্ত্রে স্পষ্ট উল্লেখ আছে, দন্ডপ্রাপ্ত কোন আসামী সংগঠনের কোন পদে বহাল থাকতে পারবে না। কিন্তু এখনো পর্যন্ত তাকে অব্যাহতি বা বহিষ্কার করা হয়নি।

অথচ, তুচ্ছ ঘটনায় নগর ছাত্রলীগের জাকারিয়া দস্তগীর ও নোমান চৌধুরীকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। তবে কি রনি গঠনতন্ত্রের ঊর্ধে? ছাত্রলীগ কি তার ঐতিহ্য হারাতে যাচ্ছে! এ নিয়ে অনেকে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন। এ অভিযোগের অনুলিপি কপি স্থানীয় ও জাতীয় পত্রিকায় পাঠানো হয়েছে।

কারাগার শিবির-ছাত্রলীগ সমঝোতা বৈঠক!

প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রলীগের পাল্টা অভিযোগের স্মারকলীপির কপি সংবাদের সাথে এটার্চ করে দেওয়া হলো।

উল্লেখিত, শনিবার নগর ছাত্রলীগ রনির মুক্তির দাবি জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছিল। এর পরেরদিন পাল্টা এ অভিযোগ করেন চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রলীগ।

সিটিজি বার্তা ২৪ এ প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে আপনার মন্তব্য লিখুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ

মংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরেও ৭ নম্বর বিপদ সংকেত জারি... নিউজ ডেস্ক, সওটিজিবার্তা২৪ডটকম শুক্রবার, ২০ মে ২০১৬ সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড়ে সাগর উত্তাল বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় ‘রোয়ানু’ উপকূলের দিকে ধেঁয়ে আসছে।...
বাংলাদেশের উপকূলের দিকে এগিয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় ‘রোয়ানু’... চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরকে ৭ নম্বর, কক্সবাজার উপকূলকে ৬ নম্বর এবং মংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৫ নম্বর বিপদ সংকেত জারি মাহাবুবুল করিম, সিটিজিবার্তা২৪ডটকম...
ঘূর্ণিঝড়ে পতেঙ্গায় ডেটিং নিউজ ডেস্ক, সিটিজিবার্তা২৪ডটকম শুক্রবার, ২০ মে ২০১৬ সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড়ে সাগর উত্তাল চট্টগ্রাম : বাংলাদেশের দিকে ঘন্টায় ১৪০ কি:মি বেগে ধেয়ে আসছে বঙ্গ...
চট্টগ্রাম বন্দরে এলার্ট-থ্রি রাশেদুল করিম, সিটিজিবার্তা২৪ডটকম শুক্রবার, ২০ মে ২০১৬ চট্টগ্রাম : বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় ‘রোয়ানু’ খুব দ্রুত বেগে বাংলাদেশ উপকূলের দিকে অগ্রস...
চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরকে ৭ নম্বর বিপদ সংকেত জারি... শুক্রবার, ২০ মে ২০১৬ নিজস্ব প্রতিবেদক, সিটিজিবার্তা২৪ডটকম চট্টগ্রাম : বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় ‘রোয়ানু’ ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশের উপকূল থেকে ক...



Leave a Reply