বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০১৫
শাহিন আলম, সিটিজিবার্তা২৪.কম
কক্সবাজার ঃ বাংলাদেশের সাথে প্রতিবেশী রাস্ট্রের বাণিজ্যিক ও রাজনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করতে পরিকল্পিত উপায়ে এগোচ্ছে সরকার। এরই অংশ হিসেবে স্থল পথে মিয়ানমারের সাথে যোগাযোগ ব্যবস্থা বৃদ্বির জন্য মৈত্রী সড়ক তৈরির পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে।
কক্সবাজার-টেকনাফ সড়কের বালুখালি থেকে ঘুমধুম পর্যন্ত নির্মিতব্য রাস্তাটির নাম হবে বাংলাদেশ-মিয়ানমার মৈত্রী সড়ক। এটি তৈরীতে প্রাথমিক ব্যয় ধরা হয়েছিলো ৫৫ কোটি টাকা। কিন্তু সেটি বাড়িয়ে ৮১ কোটি টাকা করা হয়েছে। সড়কটি করা হবে ৪ লেনের। মঙ্গলবার পরিকল্পনা কমিশনে অনুষ্ঠিত জাতীয় অথনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির সভায় প্রকল্পটি অনুমোদন করা হয়েছে। এতে অতিদ্রুত এর নির্মাণ কাজ শুরু হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সূত্র মতে, একনেক’র সভায় সড়কের এ প্রকল্পটি উপস্থাপন করা হলে তা গুরুত্ব সহকারে নেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি এটি ৪ লেন করার তাগিদ দেন। পরে আলোচনা সাপেক্ষে এটির ব্যয় ৮১ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়।
প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে সড়ক ও সেতু বিভাগ। ২০১৭ সালের জুনে এর কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। এর দৈর্ঘ্য হবে ২ কিলোমিটার।
সূত্র আরো জানায়, এই সড়কটি করা হবে মূলত মিয়ানমারসহ দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার দেশ চীন ও থাইল্যান্ডের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ স্থাপন করতে। এছাড়া এর অন্যতম উদ্দেশ্য মিয়ানমারের সঙ্গে ব্যবসা বাণিজ্য এবং রাজনৈতিক সম্পর্ক বাড়ানো।
এছাড়া সড়কটি হলে দুই দেশের সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা যেমন বাড়বে, তেমনি পর্যটন শিল্পের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে সড়কটি। এজন্য ১০ হেক্টর জমি অধিগ্রহণ করতে হবে সরকারকে। প্রকল্পের গুরুত্ব বিবেচনায় ব্যয়ের পুরো অর্থ সরকার নিজস্ব তহবিল থেকে বহন করবে।
আরো জানাযায়, প্রকল্পের ব্যয়ের টাকা দেয়া হবে চলমান ২০১৫-১৬ অর্থ বছরের বাজেটসহ পরবর্তী দু’বাজেটের বরাদ্দ থেকে। সব কিছু পরিকল্পনা মতো এগোলে ২০১৭-১৮ অর্থ বছর এটি ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত করা হতে পারে বলে নির্ভর যোগ্য একটি সূত্র দাবি করেছে।
পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগ সুত্র জানিয়েছিল, গত ২৬ এপ্রিল প্রকল্পটি পরিকল্পনা কমিশনের প্রাক মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) অনুমোদন পায়। ওই সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ডিপিপি পুনর্গঠনও করা হয়। চূড়ান্ত অুনমোদনের জন্য এটি একনেক সভায় পাঠানো হয়। ‘বাংলাদেশ-মিয়ানমার মৈত্রী সড়ক (বালুখালী-ঘুনধুম) বর্ডার রোড নির্মাণ’ নামের এই প্রকল্প ২০১৭ সালের জুনের মধ্যে বাস্তবায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়।
বাংলাদেশ, ভারত, চীন ও মিয়ানমারের মধ্যে প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক করিডর (বিসিআইএম) গঠনে গত ১৯ ডিসম্বর চার দেশের পররাষ্ট্রসচিবরা একটি চুক্তি সই করেন। এরপর ওই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন নিয়ে আর কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি। এ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ-মিয়ানমার দ্বিপক্ষীয় সীমান্ত মৈত্রী সড়ক নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
একনেক অনুমোদন পাওয়া প্রকল্প প্রস্তাবনায় উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশের সঙ্গে মিয়ানমার ছাড়াও চীন ও থাইল্যান্ডসহ দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার অন্যান্য দেশগুলোর সঙ্গে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপনে সড়ক অবকাঠামো নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এতে ওই দেশগুলোর সঙ্গে সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের উদ্দেশ্যেই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে। এতে বলা হয়, ‘ভৌগোলিক নকশায় বাংলাদেশের ঘুমধুম ও মিয়ানমারের থানগ্রোব্রোর ভূমি একই ধরনের। প্রস্তাবিত সড়কটি এ অঞ্চলের মধ্যে যোগাযোগ, ব্যবসা-বাণিজ্যের উন্নতি সাধনের সঙ্গে সঙ্গে রাজনৈতিক সুস¤পর্ক গড়ে উঠবে। বাংলাদেশ-মিয়ানমারের মধ্যকার এ নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগব্যবস্থা চীন, থাইল্যান্ডসহ দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার সঙ্গে সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক স¤পর্ক প্রতিষ্ঠা করবে।”
উল্লেখ্য, ইতোপূর্বে জোট সরকারের আমলেও অনুরূপ একটি প্রকল্প নেয়া হলেও শেষ পর্যন্ত তা আলোর মুখ দেখেনি।
সূত্র বলছে, প্রকল্পটির সম্ভাব্যতা যাচাই শেষে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির সভায় অনুমোদন পাওয়ায় সড়ক ও সেতু বিভাগ এর কাজ শীঘ্রই শুরু করতে পারবে।
Ctgbarta24.com 24 hours Online News Paper
