বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০১৫
স্টাফ রির্পোটার, সিটিজিবার্তা২৪.কম
ঢাকা ঃ ভুয়া নথি-সাক্ষ্যের ভিত্তিতে মামলা দিয়ে অবসরপ্রাপ্ত এক স্কুল শিক্ষিকাকে হয়রানি করায় আদালতের নির্দেশে সাবেক দুদক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
দুদকের ওই কর্মকর্তার নাম রেজাউল হাসান তরফদার। তিনি এখন ডিবির সহকারী কমিশনার হিসেবে কর্মরত।
ঢাকার ৫ নম্বর বিশেষ জজ আদালত সম্প্রতি এক রায়ে বলেছেন, মিথ্যা সাক্ষ্য, ভুয়া কাগজ দেখানোসহ সব কিছু করলেও কোনোভাবেই তা প্রমাণ করতে পারেননি দুদকের ওই কর্মকর্তা। তাই, খালাস পান অভিযুক্ত শিক্ষিকা। স্কুল শিক্ষিকাকে হয়রানি করায় সাবেক দুদক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে জরুরিভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন আদালত।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বুধবার বিকেলে দুদক চেয়ারম্যান মো. বদিউজ্জামান সংস্থাটির প্রধান কার্যালয়ে সাংবাদিকদেরকে বলেন, পুলিশ বিভাগ থেকে প্রেষণে আসা ওই কর্মকর্তা এখন নিজ বাহিনীতে ফেরত গেছেন। আদালতের আদেশ এখনো দুদক হাতে পায়নি। আদেশ পাওয়ার পর পুলিশ বিভাগকে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বলা হবে।
তিনি বলেন, যেহেতু তিনি (রেজাউল হাসান তরফদার) বর্তমানে দুদকে নেই, তাই তার দফতরকে আইন অনুযায়ী, আমরা ব্যবস্থা নিতে বলবো।
সম্প্রতি, ঢাকার ৫ নম্বর বিশেষ জজ আদালত একটি মামলার রায়ে দুদকের সাবেক কর্মকর্তা (বর্তমানে গোয়েন্দা পুলিশের সহকারী কমিশনার) রেজাউল হাসান তরফদারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পুলিশ ও দুদককে নির্দেশ দিয়েছেন।
শিক্ষিকার সনদ নিয়ে যে মামলাটি দুদকের ওই কর্মকর্তা করেছিলেন, তা সম্পূর্ণ হয়রানির উদ্দেশ্যে।
ঘটনার শুরু ২০১২ সালে। ২৫ বছর চাকরির মেয়াদ শেষে ২০০৯ সালে অবসরে যান লালবাগের আব্দুল গনি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা মনোয়ারা বেগম। এর তিন বছর পর ২০১২ সালে সনদ জালিয়াতির অভিযোগ এনে তার বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক।
অভিযোগে বলা হয়, ২৫ বছর চাকরি করে রাষ্ট্রের ২১ লাখ ৬৭ হাজার টাকা আত্মসাৎ করেছেন তিনি। আর মামলা হওয়ার পর থেকেই পলাতক মনোয়ারা বেগম।
মামলার তিনবছর পর রায়ের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, ভুয়া কাগজপত্র প্রস্তুত করে মামলা প্রমাণে চেষ্টা করেছেন দুদকের মামলার বাদী। আর দুদক কর্তৃপক্ষকে ভুল বুঝিয়ে পরীক্ষার সনদ জালিয়াতির মামলার অনুমোদনও নেন তিনি। কিন্তু কোনো যুক্তিতেই তা প্রমাণে সক্ষম হননি তিনি। আর তাই রায়ে উল্লেখ করা হয়, সনদ জালিয়াতির ওই মামলা থেকে খালাস দেওয়া হলো মনোয়ারা বেগমকে।
ঢাকার ৫ নম্বর বিশেষ জজ আদালত দুদকের দায়ের করা রাষ্ট্র বনাম মনোয়ারা বেগমের মামলার রায়ে আরো বলা হয়েছে, অবসরপ্রাপ্ত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকার সনদ নিয়ে মামলাটি দুদকের ওই কর্মকর্তা করেছিলেন, সম্পূর্ণ হয়রানির উদ্দেশ্যে। আর তা প্রমাণে মিথ্যা সাক্ষ্য দিয়েছেন রেজাউল হাসান তরফদার নামে দুদকের ওই কর্মকর্তা; যিনি বর্তমানে ডিবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।
আর এ সব বিবেচনায় ওই সাবেক দুদক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে জরুরি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন আদালত। ব্যবস্থা নিতে বলা হয় পুলিশকেও।
Ctgbarta24.com 24 hours Online News Paper
