ইয়ামেন হক, সিটিজিবার্তা২৪ডটকম
বাঙালী জাতির ব্যালেন্স করে চলার ক্ষমতা অসাধারন। বেশীর ভাগ মানুষ অকপটে বলবে ‘ভাইয়া দেখেন আমি কিন্তু মুজিবকেও ভালোবাসি, ভালোবাসি জিয়াকেও’। ‘ভাইয়া দেখেন পাকিস্তান ১৯৭১ এ যা করেছে ভারত কিন্তু তার থেকে কম কিছু করছে না আমাদের সাথে এখন’। ‘ভাইয়া দেখেন আমি রাজনীতি ঘৃণা করি, আওয়ামী লীগ আর বিএনপি দুটোই সমান খারাপ’। ‘ভাইয়া দেখেন ধর্ষণ সমর্থন করি না, কিন্তু মেয়েটার কাপড়/হিজাব/চালচলন/তাকানোর ধরন ঠিক ছিল না’।
সেই ‘বেশীর ভাগ মানুষ’ যে প্রতিবার প্রগিতশীল লেখক/ব্লগার/প্রকাশকদের উপর হামলার পর একই ‘দেখেন ভাই জঙ্গিবাদ সমর্থন করি না, কিন্তু লেখক/ব্লগার/প্রকাশকদের সীমা লংঘন করে অনুভূতিতে আঘাত হানে এমন লেখার দরকার কি?’ বুলি আউড়াবে এতে অবাক হবার কি আছে, রাগ করারও কি আছে?
আমরা একটি অতি কিউট ব্যালেন্সিং জাতি। আমাদের রাজনৈতিক নেতারা, প্রসাশনের কর্ণধারেরা, সুশীল সমাজের হর্তাকর্তারা, অনলাইন/অফলাইন ‘সেলেব্রিটিরা’, এরা আমাদের থেকে বিচ্যুত নয়। তাই এরাও যে একই সুরে কথা বলবে সেটাই স্বাভাবিক। কালেকস্মিনে কিছু ব্যালান্স না করতে পারা বেলাইনে থাকা মানুষ এই জাতি থেকে ভূমিষ্ঠ হয়। কিন্তু তাদের সহ্য করার মত ক্ষমতা আমাদের নেই, তাই যত জলদি পারি তাদেরকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিয়ে আমরা হাঁপ ছেড়ে বাঁচি।
এটাই আমাদের বাস্তবতা। মনে হয় প্রতিবার বেলাইনে থাকা মানুষগুলো খুন হলে তার পরপর বেশীরভাগ মানুষের যত দ্রুত সম্ভব হাত ধুয়ে ফেলার প্রবনতা দেখে স্তম্ভিত হওয়া থামাতে হবে। হুদাই রক্তচাপ বাড়িয়ে শরীর খারাপ করে লাভ কি?
Que sera sera!
ইয়ামেন হক- সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গঠনমূলক এবং সুখপাঠ্য লেখার জন্য সুপরিচিত। যুক্তরাষ্ট্রের পার্ডূ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি শেষ করে বর্তমানে পেনসিলভেনিয়াতে প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত।

