পাহাড়ের পাদদেশে রোহিঙ্গাদের ঝুঁকিপূর্ণ বসবাস
জেড করিম জিয়া : টেকনাফ উপজেলায় বিভিন্ন পাহাড়ে ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছে দশ হাজারেরও অধিক রোহিঙ্গাসহ বাংলাদেশী পরিবার, বর্তমানে অবৈধ রোহিঙ্গারা পাহাড়ের পাদদেশে বসবাস করে ধ্বংশ করে চলেছে বিস্তৃত বনজ সম্পদ।
চলিত বর্ষায় ইতিমধ্যে হালকা ও মাঝারী কয়েক দফা বৃষ্টি হওয়ায় ঝুঁকিপুর্ণ বসবাসকারীদের প্রাণহানির আশংকা করছেন এলাকাবাসী।
স্হানীয়দের দাবী, প্রশাসনের সঠিক নজরধারীর অভাবে মিয়ানমার থেকে অবৈধভাবে রোহিঙ্গারা প্রবেশ করে স্থানীয় ভ’মি দস্যুদের সহায়তায় দীর্ঘদিন ধরে পাহাড়ের পাদদেশে রীতিমত সমাজ গঠন করে বসতি করে বসবাস করে আসছে ।
পরিবেশবাদীদের অভিমত , এমনিতে টেকনাফ প্রতিবেশগত সংকতাপন্ন এলাকা। এ সংকতাপন্ন এলাকায় অভাদে টিলা, গাছ কর্তন, বন্য প্রাণী শিকার ও পাহাড় কেটে বিরান ভূমিতে পরিণত করার ফলে প্রাকৃতিক পরিবেশ নষ্ট হয়ে ঘন ঘন দুর্যোগ হচ্ছে ।
পরিবেশ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৫ ও সংশোধিত ২০১০ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন এর ৪ ধারায় বলা হয়েছে, কোন ব্যক্তি ,প্রতিষ্ঠান কর্তৃক সরকারি ,আধা সরকারি বা স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠানের মালিকানাধীন দখলীয় অথবা ব্যক্তি মালিকানাধীন পাহাড় ও টিলা কর্তন ,মোচন করা যাবে না। এ আইনে পাহাড় কাটার অপরাধে সর্বোচ্চ দুই বছরের জেল ও ৫ লাখ টাকার জরিমানা বিধান থাকলেও পরিবেশ অধিদপ্তর ও বন বিভাগ পাহাড় কাটার অপরাধে এ পর্যন্ত কাউকে জরিমানা বা শাস্তির আওতায় আনেনি। যে কারণে টেকনাফ উপজেলায় পাহাড় দখল, কর্তন, স্থাপনা তৈরি ও অবৈধ বসবাস অব্যাহত রয়েছে।
বনবিভাগ সূত্রে জানা যায়, ২০১০ সালের ১৫ জুন কক্সবাজারের টেকনাফসহ বিভিন্ন স্থানে পাহাড়ধসে ৫৮ জনের মৃত্যু হয়। এর মধ্যে টেকনাফেই মারা যায় ৩৪ জন। ২০০৮ সালের ৪ ও ৬ জুলাই টেকনাফের ফকিরা মোরা ও টুন্যার পাহাড়ধসে একই পরিবারের চারজনসহ ১৩ জন মারা যায়। ঐসময় ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে অর্ধশতাধিক বসতবাড়িসহ শতাধিক নারী-পুরুষ ও শিশু আহত হয়েছিল। প্রতি বছর বর্ষায় প্রবল বর্ষণে টেকনাফ উপজেলায় পাহাড় ধসে নিহতের ঘটনা ঘটলেও এখন পর্যন্ত পাহাড় থেকে ঝুঁকিপুর্ন বসবাসকারীদের সরানো হয়নি।এতো মৃত্যুর পরও এখনো হাজারো পরিবার জীবনের ঝুকি নিয়ে বসতি করছে পাহাড়ের পাদদেশে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ করুন ট্রাজেডির ঘটার পরেও পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারীদের সচেতন করার জন্য কোন ধরনের কর্মসূচী পালন করা হচেছনা।
টেকনাফ উপজেলায় যে সব ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ে রোহিঙ্গারা বসবাস করছে সেগুলো হল-উপজেলা পরিষদসংলগ্ন ফকিরা মোরা, ধুমপেরাং ঘোনা, গিলাতলি, বৈদ্যর ঘোনা, নাজির ঘোনা, শিয়াইল্যার ঘোনা, উর“মের ছড়া, পল্রানপাড়া, নাইট্যংপাড়া, কের“নতলি, বর“ইতলি, ব্যাটালিয়ন সংলগ্ন মাঠপাড়া, জাহালিয়াপাড়া, রোজার ঘোনা, রঙ্গিখালী, উলুচামারী, লেচুয়া প্র“ং, পানখালী, উত্তর সিকদারপাড়া, রোজার ঘোনা, মিনাবাজার, রক্ষ্যইম, লম্বা ঘোনা, দৈঘ্যাকাটা, আমতলি, নোয়াখালী, ক”চপিয়া, বড় ডেইল, চাকমাপাড়া, হলবনিয়া, আছারবনিয়া ও শামলাপুর এলাকায় পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থানরত পরিবারগুলো বেশি ঝুঁকিপূণ অবস্থায় রয়েছে।
স্থানীয়দের আরো দাবী, পাহাড়ে বসবাসরত শতকরা ৯০%লোক রোহিঙ্গা। রোহিঙ্গাদের কোন কাজকর্ম না থাকায় অবৈধভাবে পাহাড়ের গাছ গুলো নিধন করে তাদের সংসারের খরচ জোগায়, টেকনাফ অঞ্চলের স্থায়ী বাসিন্দা বলে সরকারের খাতায় নিজেদের নাম তুলে বিরান করে চলেছে বিস্তৃর্ন বনভূমি।
সুত্রে জানা যায়, টেকনাফ দিয়ে ১৯৭৮ এর পর ১৯৯১ সালে যখন আবার ব্যাপকহারে রেহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ঘটে তখন থেকেই এই বন পাহাড়ের ধ্বংশের শুরু হয়। ৯৬-৯৭ সালের দিকে সন্ধ্যা হলে টেকনাফের যে সব পাহাড়ে মানুষ ভয়ে চলাচল করতে পারতো না। এখন রোহিঙ্গারা সেখানে গড়ে তুলেছে জন বসতি। রোহিঙ্গারা উচু পাহাড়ের খাদে গর্ত করে ঝুকিপুর্ণভাবে বসতবাড়ি তৈরী করছে যার কারনে প্রতিবছর বর্ষায় মুষলধারায় বৃষ্টি হলে পাহাড় ধসে খাদে বসবাসরত ঘরবাড়ী ভেঙ্গে ব্যাপক প্রাণহানি ঘটছে রোহিঙ্গাদের পরিবেশ ধ্বংশ কারী এই সব কর্মকান্ড যদি কঠোর হস্তে বন্ধ করা না হয় তাহলে অচিরেই টেকনাফ অঞ্চল হয়ে যাবে সৌন্দর্যহীন এবং স্থানীয়রা পড়বে সামগ্রিক পরিবেশ হুমকির মুখে।
সচেতন মহলের অভিযোগ,স্থানীয় প্রভাবশালী দখলদাররাই এদের আশ্রয় দিয়ে মাসোহারা নিচ্ছে। প্রতি বছর বন বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্মকর্তারা লোক দেখানো অভিযান ও অবৈধ উচ্ছেদ পরিচালনা করলেও পরবর্তীতে আবারো স্থানীয় ভ’মিদস্যুরা বনবিভাগের অসাধু কিছু কর্মকর্তার সাথে আতাত করে পাহাড়ে বসতি স্থাপন করে রোহিঙ্গাদের বসতি করার সুযোগ করে দেয়।

