
প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সংসদের সভায় উদ্ভোধনী বক্তব্যে রাখছেন দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনা।
সিটিজিবার্তা২৪ডটকম ডেস্ক : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘বিএনপির-জামাতের প্রকাশ্যে পুড়িয়ে মানুষ হত্যা বন্ধ করতে পেরেছি। তাদের গুপ্তহত্যাও বন্ধ করতে পারব ইনশাল্লাহ। সরকারের পক্ষে এটা সময়ের ব্যাপার। গুপ্তহত্যাকারীদের কেও পার পাবেনা বলে প্রধানমন্ত্রী হুশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, তাদেরকে খুঁজে খুঁজে বের করা হবে এবং কঠিন শাস্তির মুখোমুখি দাঁড় করানো হবে।’
শনিবার (১১ জুন) সকালে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সংসদের সভায় উদ্ভোধনী বক্তব্যে শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘কেউ কাউকে আঘাত করলে দয়া করে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখবেন না। একজোট হয়ে তাদেরকে প্রতিরোধ করবেন, আমরা আপনাদের পাশে থাকব।’
তিনি আরো বলেন, ২০০৭ সালে শায়খ আবদুর রহমান ও সিদ্দিকুল ইসলাম বাংলা ভাইসহ ছয় শীর্ষ জঙ্গির ফাঁসি কার্যকরের পর বেশ স্তিমিতই হয়েছিল জঙ্গি তৎপরতা। গেল একবছরে ফের শুরু হয়েছে নতুন মাত্রায়। গত পাঁচ মাসে পুরোহিত, সাধু, বৌদ্ধ ভিক্ষু, খ্রিস্টান ধর্মযাজক, শিয়া, লালনভক্ত, পীরের অনুসারী, সমকামীদের অধিকারকর্মী, ব্লগার, লেখক, প্রকাশক, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, পুলিশসহ খুন হয়েছেন ১৮ জন। এরমধ্যে গত পাঁচদিনে জঙ্গিবিরোধী কার্যক্রমে যুক্ত পুলিশ কর্মকর্তার স্ত্রীসহ চারজন খুন হয়েছেন।
এসব ঘটনার বেশির ভাগেরই দায় স্বীকার করেছে আইএস (ইসলামিক স্টেট) ও আল-কায়েদার কথিত বাংলাদেশ শাখা আনসার আল ইসলাম। তবে বরাবরই পুলিশ ও সরকারের পক্ষ থেকে তা নাকোচ করা হয়েছে। বলা হয়েছে, এসব হত্যাকাণ্ডে দেশীয় জঙ্গিগোষ্ঠী জেএমবি বা আনসার আল ইসলাম মূল সন্দেহভাজন।
তবে এই হত্যাকারীরা কেউ পার পাবে না বলে হুশিয়ারি দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কেউ পার পাবে না। বাংলাদেশ ভূখণ্ডের দিক দিয়ে ছোট। এখানে সবাই সবাইকে চিনতে পারে বা জানতে পারে। এগুলো খুঁজে বের করা খুব কঠিন কাজ না। এর শাস্তি তারা পাবেই।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘গুপ্তহত্যাকারীদের খুঁজে খুঁজে বের করব। সূত্রটা কী, কাদের মদদে, কারা অর্থ দিচ্ছে। কাদের পরিকল্পনায় এই কাজগুলো তারা করছে এই সূত্রগুলো খুঁজে বের করা হবে। কিছু সূত্র পাওয়া যাচ্ছে, একসময় সবকিছু বের হবে।’
শেখ হাসিনা বলেন, ‘গুপ্তহত্যা ঘটিয়ে কেউ পালানোর চেষ্টা করলে তাঁকে ধরার চেষ্টা করবেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পাশে থাকবে। প্রতিরোধ করবেন। ঠিক যেভাবে প্রতিরোধ করেছিলেন ২০১৫ সালের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত।’
আওয়ামী লীগই হত্যাকাণ্ডগুলো ঘটাচ্ছে- বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার এমন বক্তব্যের সমালোচনা করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘বিএনপি নেত্রী বলেছেন, আওয়ামী লীগ খুন করছে। খুন করার অভ্যাস আমাদের নয়, তাঁর আছে। কারণ, তাঁরা আমাকে খুন করার জন্য বারবার চেষ্টা করেছে।’
প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, ‘সরকার যদি প্রকাশ্যে হত্যা বন্ধ করতে পারে, তাহলে এই গুপ্তহত্যাও বন্ধ করতে পারবে, ইনশাল্লাহ, সময়ের ব্যাপার।’
এসব হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের সূত্রকেও খুঁজে বের করা হবে জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘দেশি-বিদেশি যারাই এর পেছনে থাক, বাংলাদেশের মানুষ তা মেনে নেবে না। কিছু তথ্য এরই মধ্যে সরকারের কাছে এসেছে। সব এক সময় বের হবেই। যারা উন্নয়নে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করবে, তাদের কোনো ক্ষমা নেই। এই বাংলাদেশ জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চলবে না।’
এক-এগারোর গ্রেপ্তারের কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমার বাসায় কাউকে ঢুকতে দিত না, কাউকে বেরোতে দিত না। বলতে গেলে হাউস অ্যারেস্টের মতো বলা চলে। কোনো এক ফাঁকে বের হয়ে আমি ল্যাবএইডে সাবিনাকে দেখতে গেলাম। সেখানে আমি প্রেস পেলাম। আর কখন পাই না-পাই, আমার যা কিছু বলার বলে যাই। আমি একটু ভালোভাবেই বললাম। তার এক দিন পরেই গ্রেপ্তার করা হলো। আমার স্বামী অসুস্থ ছিলেন। তাঁকে ধাক্কা মেরে ফেলে দেয়। বাসার সবকিছু তছনছ করা হয়। বাসার কম্পিউটার নিয়ে গেল, সবকিছু তন্ন তন্ন করে খুঁজল। আমাকে নিয়ে গেল। এখন যেটা হুইপের বাসা, ওটা তখন মালপত্র রাখার স্থান ছিল।’
শেখ হাসিনা বলেন, ‘এক-এগারোর সময় একটা প্রস্তাব তাঁদের সব সময় ছিল, সেটা হলো নির্বাচন করবেন না, আপনাকে প্রধানমন্ত্রীর মর্যাদা দিয়ে রাখব। আমি জিজ্ঞাসা করতাম, প্রধানমন্ত্রীর মর্যাদা মানে কী? আর আমাকে কী দেবেন আপনারা। আমি তো নিজে প্রধানমন্ত্রী ছিলাম। আর বাবা ছিলেন বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি। তিনি প্রধানমন্ত্রীও ছিলেন। আমি রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর মেয়ে। নিজে প্রধানমন্ত্রী ছিলাম। আমাকে আপনারা আর কী মর্যাদা দেবেন। মর্যাদা মানে একখানা ভালো বাড়ি, গাড়ি এই তো! ওটার জন্য আমি রাজনীতি করি না। আমার পরিষ্কার কথা, আমি দেশের মানুষের জন্য কাজ করতে চাই। সেই কাজের সুযোগ চাই। আর সেই কাজ করতে হলে আমার ক্ষমতা চাই।’
