আবাহনী-প্রাইম দোলেশ্বর
তামিম-কান্ডে ম্যাচ পন্ড
নিউজ ডেস্ক, সিটিজিবার্তা২৪ডটকম

বিকেএসপির মাঠে আম্পায়ার গাজী সোহেলের সঙ্গে একপর্যায়ে উত্তেজিত হয়ে গালিগালাজ তো করেনই, আঙুল তুলে আম্পায়ারকে শাসাতেও থাকেন তামিম ইকবাল!
খেলা ডেস্ক: ওয়ালটন ঢাকা প্রিমিয়ার ক্রিকেট লিগে এবার ‘বিতর্ক’ শব্দটাকে বহু ব্যবহারে ক্লিশেই বলতে পারেন। এখন খুঁজতে হচ্ছে প্রতিশব্দ! লিগটা এগোচ্ছে একেকটি কেলেঙ্কারি ঘটিয়ে, যাতে বেশি জড়াচ্ছে আবাহনীর নাম। আর কাল তো একটি কালো দিনেরই সাক্ষী হলো বিকেএসপি। সেই কালো দিনের জন্ম হলো আবাহনী অধিনায়ক তামিম ইকবালের সৌজন্যে!
আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত মানতে না পেরে খেলোয়াড়ের বিস্ফোরক প্রতিক্রিয়া ঘরোয়া ক্রিকেটে নিত্য ছবি। কিন্তু কাল সুপার লিগে প্রাইম দোলেশ্বরের বিপক্ষে তামিম যেন ছাড়িয়ে গেলেন সবাইকে। আবাহনী অধিনায়ক আম্পায়ারকে যেভাবে গালিগালাজ আর হুমকি-ধমকি দিতে থাকলেন, একটা সময় খেলাই বন্ধ হয়ে গেল। পরে ম্যাচই হলো স্থগিত!
সকালের বৃষ্টি ও উইকেট পুরোপুরি তৈরি না হওয়ায় খেলা শুরু হয় দেড় ঘণ্টা পরে। ম্যাচ নেমে আসে ৪৫ ওভারে। আবাহনীর দেওয়া ১৯১ রান তাড়া করতে নেমে দোলেশ্বর ৩৮ রানে হারিয়ে ফেলে দুই ওপেনারকে। সাকলাইন সজীবের করা ১৬তম ওভারের চতুর্থ বলেই ঘটে ঘটনাটি। রকিবুল হাসানের বিপক্ষে স্টাম্পিংয়ের জোরালো আবেদন করেছিল আবাহনী। আম্পায়ার তাতে সাড়া দেননি। আউটটি কেন দেওয়া হলো না কাভার থেকে ছুটে লেগ আম্পায়ার তানভীর আহমেদের কাছে জানতে চান তামিম।
পরে বিতণ্ডায় জড়ান আরেক আম্পায়ার গাজী সোহেলের সঙ্গে। একপর্যায়ে উত্তেজিত হয়ে গালিগালাজ তো করেনই, আঙুল তুলে আম্পায়ারকে শাসাতেও থাকেন তামিম!
তামিমের সঙ্গে যোগ দেয় মাঠের বাইরে থাকা আবাহনী সমর্থকগোষ্ঠীও। উত্তেজনার মধ্যেই আম্পায়াররা খেলা চালিয়ে যান কিছু সময়। ১৭ ওভার শেষে মাঠে আসেন ম্যাচ রেফারি মন্টু দত্ত। ৩টা ১৫ মিনিটের দিকে দুই আম্পায়ারকে নিয়ে বেরিয়ে আসেন তিনি। ড্রেসিংরুমে ফিরে আসে দুই দলও।
২০-২৫ মিনিট পর অবশ্য মাঠে নামে আবাহনী। কিন্তু আম্পায়াররা আর নামেননি। বিকেল ৪টার দিকে দুই দলের অধিনায়ককে ডাকেন ম্যাচ রেফারি। ডাকওয়ার্থ-লুইস পদ্ধতিতে খেলা শেষ করার প্রস্তাব দেন ম্যাচ রেফারি। তাতে দোলেশ্বরের লক্ষ্য দাঁড়ায় ৩৪ ওভারে ১৬০ রান। ১৭ ওভারে ৫৯ রান করায় বাকি ১৭ ওভারে তাদের তুলতে হতো ১০১ রান। এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে দোলেশ্বর।
রাজি না হওয়ার পেছনে দোলেশ্বর কোচ মিজানুর রহমানের যুক্তি, ‘এখানে আমাদের দোষ কোথায়? কার্টেলড ওভারে কেন খেলব? শুরুতে আমাদের আস্কিং রানরেট ছিল ৪.২৬-এর মতো। ডি-এলে খেললে সেটা চলে যায় ৬-এর কাছাকাছি। আমরা কেন রাজি হব?’
আম্পায়ারদের ‘অসুস্থ’ দেখিয়ে পরে স্থগিত করা হয় ম্যাচ। ম্যাচটির ভবিষ্যৎ কী, মন্টু দত্ত পরিষ্কার কিছু বলতে পারেননি, ‘আমরা সিসিডিএমকে জানাব। তারাই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।’
রাতে যোগাযোগ করা হয় সিসিডিএমের সমন্বয়ক আমিন খানের সঙ্গে। রাত ৯টায় এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তিনিও নিশ্চিত করতে পারেননি খেলা আবার কখন হবে, ‘ম্যাচ রেফারি এ মুহূর্তে রাস্তায়। তাঁর রিপোর্ট দেখেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’ তবে একটি সূত্রে জানা গেছে, আজ রিজার্ভ ডেতে ম্যাচটি হওয়ার সম্ভাবনা কম।
ম্যাচ স্থগিত হয়ে যাওয়ায় হতাশ খালেদ মাহমুদ।আবাহনী কোচ পুরো দায় চাপিয়েছেন আম্পায়ারদের ওপর, ‘দোলেশ্বর কিংবা আবাহনীর জন্য নয়, খেলা বন্ধ হয়েছে আম্পায়ারদের কারণেই। প্রিমিয়ার লিগে আগের মতো এখন মারামারি হয় না। আম্পায়ারদের নিরাপত্তাহীনতায় ভোগার কোনো কারণ দেখি না। ওদের (দোলেশ্বরের) নাসিরও আবেদন করেছে, গালিগালাজ করেছে। তখন তাঁরা মাঠ ছাড়েননি। পরে তাঁরা অসুস্থতাকে কারণ দেখিয়েছেন। কিন্তু রিজার্ভ আম্পায়ার তো ছিল।’
ম্যাচে অখেলোয়াড়সুলভ আচরণের জন্য শাস্তি আছে। আম্পায়াররা সে পথেও হাঁটতে পারতেন বলে মনে করেন আবাহনী কোচ, ‘ম্যাচ পরিচালনার জন্য আম্পায়ারদের ফিটনেস ও সাহস থাকা উচিত। নিষেধাজ্ঞা কিংবা জরিমানা তো হচ্ছেই। তামিম অশোভন কিছু করে থাকলে ম্যাচ রেফারি রিপোর্ট দেবে। সেটি সিসিডিএমে যাবে, তারা সিদ্ধান্ত নেবে। এমন কিছু হয়নি যে খেলা বন্ধ রাখতে হবে। ভালো একটি ম্যাচের অপমৃত্যু ঘটল!’
ম্যাচ স্থগিত হওয়ার পর বিরস মুখে ফিরছিলেন নাজমুল হোসেন ও লিটন দাস। দুর্দান্ত দুটি ইনিংস খেলে বিপর্যয় থেকে আবাহনীকে উদ্ধার করেছিলেন এই দুজন।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
আবাহনী: ৪২.৪ ওভারে ১৯১ (নাজমুল ৭১, লিটন ৪৮, সাকলাইন ১৯; আল আমিন ৩/৩০, সানজামুল ৩/৩৯, নাসির ২/৩২)।
প্রাইম দোলেশ্বর: ১৭ ওভারে ৫৯/২ (রকিবুল ২৫*, ইমতিয়াজ ১৯; অমিত ১/১৩, তাসকিন ১/২১)।
(অসমাপ্ত)
