শনিবার, ২১ মে ২০১৬
সিটিজিবার্তা২৪ডটকম
মাহাবুবুল করিম : উত্তরপূর্ব বঙ্গেপসাগর ও তৎসংলগ্ন বাংলাদেশ উপকূলীয় এলাকায় অবস্থানরত ঘূর্ণিঝড় ‘রোয়ানু’ ক্রমশ দুর্বল হয়ে চট্টগ্রামের পাশ দিয়ে বরিশাল-চট্টগ্রাম উপকূল অতিক্রম শুরু করেছে। যা পরবর্তী ২-১ ঘণ্টার মধ্যে বাংলাদেশ উপকূল পার হয়ে যাবে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের সর্বশেষ বুলেটিনে (১৯ নম্বর) বলা হয়ছে, বেলা সাড়ে ১২টায় ঘূর্ণিঝড়টি চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দর থেকে ১০০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিম অবস্থান করছিল। ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৫৪ কি.মি. এর মধ্যে বাতাসের সর্বোচ্চ একটানা গতিবেগ ঘণ্টায় ৬২ কি.মি. থেকে ৮৮ কি.মি. পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ঘূর্ণিঝড়টির কেন্দ্রের নিকটবর্তী এলাকায় সাগর খুবই উত্তাল রয়েছে।
ঘূর্ণিঝড় রোয়ানুর প্রভাবে চট্টগ্রাম, বরগুনা, পটুয়াখালী ও বাগেরহাটসহ উপকূলের বিভিন্ন এলাকার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। ‘রোয়ানু’র বাতাসের গতিবেগ আগের থেকে কিছুটা কমে ৬২ কিলোমিটারে বেগে বয়ে যাচ্ছে। এ গতিবেগ সর্বোচ্চ ৮৮ কি.মি. পর্যন্ত হচ্ছে।
এদিকে ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে সকাল থেকে প্রচণ্ড ঝড়ো হাওয়ায় চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় গাছপালা ভেঙে পড়ার খবর পাওয়া গেছে। বাঁশখালী, আনোয়ারা, সন্দ্বীপ উপেজেলার নিম্নাঞ্চল জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হয়েছে।
শনিবার (২১ মে) দুপুর সাড়ে ১২টার কিছুক্ষণ পরে ঘূর্ণিঝড় রোয়ানু চট্টগ্রাম উপকূল অতিক্রম করতে শুরু করে। আবহাওয়া অফিসের তথ্য মতে বিকেল সাড়ে ৫টা নাগাদ রোয়ানু ক্রমশ দুর্বল হয়ে উপর্কূল অতিক্রম করবে।
একই গতিবেগে ঘূর্ণিঝড় রোয়ানু বর্তমানে চট্টগ্রাম উপকূল অতিক্রম করে উত্তর-পূর্বদিকে মায়ানমারের দিকে অগ্রসর হচ্ছে বলে জানিয়েছেন নগরীর পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাস কর্মকর্তা আতিকুর রহমান।
অন্যদিকে বাগেরহাট জেলা প্রশাসক মো. জাহাঙ্গীর আলম জানান, দুপুর ১টা ১০/১৫ মিনিটের দিকে বাগেরহাট উপকূলে আঘাত হানে ‘রোয়ানু’।
এদিকে উপকূল অতিক্রম করতে শুরু করেছে মাঝারিমাত্রার ঘূর্ণিঝড় রোয়ানু। এটির মূলকেন্দ্র এখনো সাগরে হলেও এর অগ্রভাগ এরইমধ্যে ওঠে পড়েছে উপকূলে।
ফলে ঝড়ো বাতাস আর প্রবল বর্ষণ হচ্ছে চট্টগ্রামে। প্রচন্ড উত্তাল হয়ে ওঠেছে সাগর। অস্বাভাবিক জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হয় নগরী ও জেলার নিচু এলাকা। গাছচাপা পড়ে সীতাকুন্ডে মারা গেছে মা-মেয়ে। ঝড়ের কারণে বন্ধ রয়েছে সমুদ্র ও বিমানবন্দরের সব কার্যক্রম।
উত্তাল সাগর, পাড়ে আছড়ে পড়ছে ঢেউ। একদিকে জোয়ার, তারওপর ঘূর্ণিঝড় রোয়ানুর প্রভাব। তাই চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় সাগরের এমন রুদ্ররূপ।
ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে গতরাত থেকেই চলছে বৃষ্টিপাত। এরসাথে সকালে যোগ হয় ঝড়োবাতাস। ফলে বিপর্যস্ত জনজীবন।
ঝড়ের কারণে অনেক জায়গায় ভেঙ্গে পড়েছে অনেক গাছ পালা, ক্ষতিগ্রস্ত হয় কাঁচা ঘরবাড়ি। ঝড়ো বাতাস শুরু হওয়ার পর থেকে উপকুলীয় এলাকায় ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়া শুরু করে লোকজন। গাছচাপা পড়ে সীতাকুন্ডের সলিমপুরে মারা গেছে দুজন। আনোয়ারায় ভেঙ্গে গেছে আড়াইশো কিলোমিটার বেড়িবাধ।
ঝড়ো হাওয়ায় চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজের সামনে তিনটি গাছ রাস্তার উপর ভেঙে পড়ে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে।
চট্টগ্রাম নগরীর ভোগ্যপণ্যের পাইকারি বাজার চাক্তাই-খাতুনগঞ্জ জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন ওই এলাকার সাহাবুদ্দিন এন্টারপ্রাইজের মালিক সালাউদ্দিন চৌধুরী।
জোয়ারের পানিতে নগরীর মধ্যম হালিশহর, পতেঙ্গার বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় কাউন্সিলর জেসমিনা খানম।
পতেঙ্গায় বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্র পরিদর্শন করছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মেজবাহ উদ্দিন আহমেদ।
দুর্যোগের ফলে বন্ধ হয়ে গেছে চট্টগ্রাম বন্দরের সব কার্যক্রম। ফ্লাইট ওঠানামা বন্ধ রয়েছে শাহ আমানত বিমানবন্দরে।

