পানামা পেপারস কেলেঙ্কারি
নিউজ ডেস্ক, সিটিজিবার্তা২৪ডটকম
শুক্রবার, ৮ এপ্রিল ২০১৬ ০২:১৩ ঘন্টা
বিশ্বব্যাপী আলোচিত পানামা পেপারস কেলেঙ্কারিতে নাম আসা বাংলাদেশিদের ব্যাপারে তদন্ত শুরু করেছে বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)। ইতোমধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক এই গোয়েন্দা ইউনিটের সদস্যরা বাংলাদেশের ৩৫ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে তথ্যানুন্ধান শুরু করেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
জানা গেছে, বিশ্ব তোলপাড় করা এই কেলেঙ্কারির ঘটনায় বিএফআইইউ ছাড়াও দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), এনএসআইসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও খোঁজ-খবর নেওয়া শুরু করেছে। এরইমধ্যে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
বৃহস্পতিবার দুপুরে দুদকের উপ-পরিচালক এসএমএম আখতার হামিদ ভুঁইয়াকে প্রধান করে এই বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, বিশ্ব তোলপাড় করা পানামা পেপারস কেলেঙ্কারিতে ফাঁস হওয়া বিশ্বের নামিদামি রাষ্ট্রনায়ক, সরকারপ্রধান ও প্রখ্যাত জনপ্রিয় অভিনেতাদের অর্থ পাচারের তালিকায় বাংলাদেশিদেরও নাম রয়েছে।
এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের শীর্ষ এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে সংবাদমাধ্যমকে বলেন, পানামা পেপারসে নাম আসা মানেই তারা অপরাধী নন। তবে আমরা তাদের বিষয়ে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে প্রকৃত ঘটনা খতিয়ে দেখব। তিনি বলেন, পানামা পেপারস কেলেঙ্কারিতে যাদের নাম এসেছে তা মূলত সন্দেহজনক তালিকা। তালিকায় যেসব বাংলাদেশি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নাম এসেছে তাদের বিষয়ে খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও পানামা এগমন্ট গ্রুপের সদস্য। এ কারণে তথ্য সংগ্রহে প্রয়োজনে আন্তর্জাতিক সংগঠন এগমন্ট গ্রুপের সহায়তা নেওয়া হবে।
তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক শুভঙ্কর সাহা গণমাধ্যমের কাছে বলেন, পানামা পেপারস কেলেঙ্কারির বিষয়টি নিয়ে কোনও কাজ করলে বিএফআইইউ করতে পারে। আর বিএফআইইউ কী ধরনের কাজ করছে তা আমার জানা নেই।
জানা গেছে, পানামা পেপারস কেলেঙ্কারিতে ফাঁস হওয়া বিশ্বের নামিদামি নেতাদের অর্থ পাচারের তালিকায় বাংলাদেশের প্রায় ৩৫ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নাম রয়েছে। যাদের বিপরীতে মোট ৪৫টি অ্যাকাউন্ট রয়েছে। এদের মধ্যে ২৩ জনের বাড়ির ঠিকানাও উল্লেখ আছে। প্রাপ্ত নথিপত্রে দেখা যায়, চার ব্যক্তির নামে দুটি করে অ্যাকাউন্ট রয়েছে। যৌথ অ্যাকাউন্ট রয়েছে দুটি। এসব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন অফসোর কোম্পানির নামে বিদেশে টাকা পাচার করেছেন।
বিএফআইইউ সূত্রে জানা গেছে, পানামা কেলেঙ্কারিতে বাংলাদেশের যেসব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নাম এসেছে তাদের সবার বিষয়ে খোঁজ-খবর নিচ্ছে বিএফআইইউ। বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিএফআইইউ পানামা কেলেঙ্কারি নিয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করছে। এসব তথ্য সংগ্রহ করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একজন শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
কাজী ‘পানামা পেপারস’ নামে ওসব নথি সম্প্রতি প্রকাশ করেছে ওয়াশিংটনভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল কনসোর্টিয়াম অব ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিস্টস (আইসিআইজে)। যদিও এরই মধ্যে ‘পানামা পেপারসে’ ফাঁস হওয়া দলিলের তথ্যের ফৌজদারি তদন্তে সহায়তা করার ঘোষণা দিয়েছে পানামা সরকার।
সূত্র মতে, জার্মান দৈনিক জিটডয়েচ সাইতংয়ের অনুসন্ধানী সাংবাদিক বাস্তিয়ান ওবারমেয়ারের হাতে এসব নথি আসে। তারা এটাকে তুলে দেন আন্তর্জাতিক অনুসন্ধানী সাংবাদিক সংস্থা আইসিআইজের কাছে। পরবর্তীকালে যুক্তরাজ্যের গার্ডিয়ান, ভারতের ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস, বাংলাদেশের নিউএইজসহ ৭৮টি দেশের ১০৭টি সংবাদমাধ্যম এসব তথ্য যাচাই-বাছাই করে। গত সোমবার ১ কোটি ১৫ লাখ নথি প্রকাশ করা হয়।
আইসিআইজের ওয়েবসাইটে অর্থপাচারের তালিকায় থাকা ৪৫ বাংলাদেশি ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানের জড়িত থাকার কথা জানানো হয়। যাদের অনেকেই বিদেশে নামে-বেনামে কোম্পানি খুলে কর ফাঁকি দিয়ে সম্পদের পাহাড় গড়ছেন। আইসিআইজের হস্তগত গোপন নথি অনুযায়ী বাংলাদেশের প্রভাবশালী কিছু ব্যবসায়ী বিদেশে কোম্পানি স্থাপন করে কর ফাঁকি দিচ্ছেন।

