প্রিয় পাঠিকাগণ,
পহেলা বৈশাখের আগে কিছু কাজের জিনিস শিখিয়ে দিই। বাংলাদেশের সমাজ যদি চিনে থাকেন, জেনে নিন, ভীড়ের মধ্যে আপনার শ্লীলতাহানী করতে ইতোমধ্যেই তৈরি হচ্ছে বখাটের দল। যখন এধরণের কিছুর শিকার হবেন, কেউ আপনাকে সহায়তা করবেনা বলেই ধরে রাখুন। কাউকে এগুলো বললে সে বরং মনে মনে সুখ নেবে বিষয়টা কল্পনা করে, এটাই বাস্তবতা।সুখের বিষয় হচ্ছে, আপনার কাউকে দরকারও নেই।
বাংলাদেশে মেয়ে হয়ে জন্মানো মোটামুটি আজন্ম পাপ, আমি এমন কোন মেয়েকে চিনিনা যে জীবনের কোন এক পর্যায়ে যৌন হয়রানির শিকার হয়নি। বড় ধরণের কিছু না হলে কেউ ঝামেলার ভয়ে থানাপুলিশ করতেও চায়না. উপায় একটাই, নিজের ব্যবস্থা নিজের করে নেয়া। শরীরে অপ্রীতিকর স্পর্শ পাওয়ামাত্র বিনা দ্বিধায় স্পর্শকারীকে কিভাবে পিটিয়ে হালুয়া বানাবেন এই নিয়ে আজকের পোস্ট
মানব শরীরে তিনটা দুর্বল জায়গা যেখানে সামান্য আঘাতেই অতি বড় পালোয়ানও কুপোকাৎ হয়ে যেতে বাধ্য। এই তিনটা জায়গা হচ্ছে চোখ, অণ্ডকোষ এবং কণ্ঠনালীর নীচের নরম জায়গাটি। কয়েকটা ছবি দিচ্ছি গুগল করে, এগুলো দেখুন এবং আগামী দুই সপ্তাহ বন্ধুবান্ধব/ভাইবোন মিলে অনুশীলন করুন (অনুশীলনের সময় সতর্ক থাকবেন যাতে দুর্ঘটনা না ঘটে)।হাত মুঠ করে অণ্ডকোষে আঘাত করতে, আঙুল দিয়ে চোখে গুঁতো দিতে বা কনুই দিয়ে পেছনে কারো তলপেটে আঘাত করতে ব্রুস লী হওয়া লাগেনা, লাগে বাসার বালিশ নিয়ে কাজিনের হাতে ধরিয়ে দিয়ে ওটার উপর পাঁচবার অনুশীলন।
বাসায় ভাই/বোন/বাবা/মা আছেন না? তাঁদের বলুন শক্ত করে বালিশ ধরে দাঁড়াতে। যে জায়গায় আঘাত করা অনুশীলন করবেন, সে জায়গায় বালিশ ধরতে বলুন যাতে আপনার করা আঘাত বালিশে গিয়ে লাগে। পুরো শক্তিতে মারবেন না প্রথমে, আগে শিখুন কিভাবে মারবেন। পাঁচবার অনুশীলন করুন আস্তে, তারপর যিনি বালিশ ধরে আছেন তাঁকে বলুন বালিশ যেন শরীর থেকে দূরে ধরে( চাইলে কোলবালিশ নিয়ে দেয়ালে ঠেস দিয়েও অনুশীলন করতে পারেন, তবে ভুলে আবার দেয়ালে মেরে বসবেন না!)সর্বশক্তিতে আঘাত করা প্রাকটিস করুন।অতি অবশ্যই সতর্কতা অবলম্বন করবেন।
আমি রেকমেন্ড করছি নীচের পাঁচটি মুভ
এক) কনুই দিয়ে পেছনের বদমায়েশের পেটে প্রচন্ড জোরে আঘাত।
দুই) হাত দিয়ে পেছনে দাঁড়ানো বদমায়েশের অণ্ডকোষে আঘাত।
তিন) হাতের থাবা দিয়ে চোখ/নাকে আঘাত।
চার) অণ্ডকোষ/তলপেট বরাবর হাঁটু দিয়ে আঘাত (শাড়ি পরে লাত্থি মারাটা কঠিন। জিন্স/পাজামা হলে লাত্থি দিতে সুবিধা )
পাঁচ) হাঁটু বরাবর সজোরে লাত্থি (হাঁটু উচ্চতায় বালিশ রেখে প্রাকটিস করুন)
এই মুভগুলো অথবা আপনার পছন্দ হয় এরকম যে কোন মুভ গুগল/ইউটিউব থেকে দেখে বাসায় এই দুই সপ্তাহ অন্তত প্রতিদিন দশ মিনিট করে প্রাকটিস করে নিন।মনে রাখবেন, একজন সত্যিকারের পুরুষ কখনোই আপনার বিনা অনুমতিতে মরে গেলেও আপনাকে বাজেভাবে স্পর্শ করবেনা। যারা এটা করে, তারা তেলাপোকারও অধম, তার শরীরের সাইজ যাই হোক না কেন। আপনার সামান্য প্রতিরোধ, একটুখানি সাহস এই নর্দমার কীটগুলোর হাত থেকে আপনাকে এবং সমাজকে বাঁচাতে পারে।নিজেকে রক্ষা করতে যতটা দরকার, সেটুকু শক্তি প্রয়োগ করতে এক বিন্দু দ্বিধা করবেন না। বাংলাদেশের( বা ভারতের) পেনাল কোডের ধারা ১০০ গুগল করুন, দেখবেন আইন আপনার সাথেই আছে।
ভীড়ে কেউ গায়ে হাত দিলে দয়া করে চেপে যাবেন না। Be Brave. Shout. Create a Scene. Fight Back.মনে রাখবেন, চুপ থাকতে থাকতেই আজ এই অবস্থা।Its time to fight back!!!
“একসাথে অনেকে আসলে কি করব? তখন কি এইটা কাজে আসবে?”
– জ্বি, আসবে। হাতের কাছে যেইটারে পাবেন ওইটারে দিয়ে শুরু করবেন। তেলাপোকার দল একা আসলেই কি একশ আসলেই কি, একটারে মাইর খেতে দেখলে বাকিগুলা পলায়ে কুল পাবেনা। এদের মাইন্ডসেট বুঝতে চেষ্টা করেন, এরা আপনার কাছ থেকে কোন প্রতিরোধ আশা করবেনা। সারপ্রাইজ দেম। আরো ভাল হয় যদি তিন চার জন একসাথে থাকেন। ওরা দল বেঁধে আসলে আপনিও দল বেঁধে প্রতিরোধ করবেন।
“এত ঝামেলা না করে পহেলা বৈশাখে বের না হলেই তো হয়”
– না, হয়না। হায়েনার দল প্রতিটা জায়গায় আছে, কয় জায়গাতে যাওয়া বন্ধ করবেন? ঈদের সময়, বাংলাদেশের খেলার সময়, নববর্ষের দিন, মার্কেটের ভীড় এমনকি রাস্তার জ্যামে- সব জায়গায় এরা লোল ফেলে শিকার খুঁজে বেড়ায়। বদমায়েশদের ভয়ে রাস্তায় বের হওয়া যাবেনা এই ধারণার সাথে নীতিগতভাবে আমি তীব্র দ্বিমত পোষণ করি। আজকে আপনি এদের ভয়ে ঘরে থাকবেন, কালকে এরা ঘরে ঢুকে আপনাকে ছিঁড়ে খাবে। ইট হ্যাজ টু স্টপ ইন দা বিগিনিং.গত পহেলা বৈশাখে যৌন হয়রানির যে ন্যাক্কারজনক ঘটনাগুলো ঘটেছে, সেগুলো প্রতিহত করে সগর্বে কিভাবে মাথা তুলে দাঁড়াবেন, এই নিয়ে এ লেখাটি।
পুলিশ একাডেমিতে আলফা কোম্পানির ড্রিল প্রশিক্ষক আকবর ওস্তাদ একটা জিনিস শিখিয়েছিলেন- “স্যার, আপনি এসপি হন আর আইজি হন, মনে রাখবেন, আপনার বডিগার্ড সবার আগে আপনি নিজে” এই কথাটা শুধু পুলিশ না, প্রত্যেকের জন্যে প্রযোজ্য। বাংলাদেশের মেয়েদের মূল সমস্যা তাদের সক্ষমতায় নয়, মাইন্ডসেটে। বছরের পর বছর সমাজের ভুল কন্ডিশনিং এর ফলে একটা মেয়ে নিজেকে দুর্বল ভাবতে শেখে, আর এর সুযোগ নেয় হায়েনার দল। আমাদের মেয়েরা খুব ভালোভাবেই সক্ষম নিজেকে রক্ষা করতে, শুধু প্রয়োজন মাইন্ডসেট পাল্টানো।
আমি worst case scenario এর কথা লিখছি, ধরুন আপনি একা আর ওরা বিশ জন।জেনারেল আইজেনহাওয়ারের একটা কথা আছে: Its not the size of the dog, its the size of the fight in the dog that matters most.বিপদের মুখে আপনি কতটা এ্যাগ্রেসিভ এটাই আপনার পরিণতি ঠিক করে দেবে। আমি বার বার একটা জিনিস বলি, আপনারা criminal mindset মিস করছেন। ভীড়ের মধ্যে একটা মেয়ের গায়ে হাত দিয়ে যৌনসুখ পায় কোন ধরণের পুরুষ? যে পুরুষের সাহস নেই সুস্থ্য, ভদ্রোচিত উপায়ে একটা মেয়েকে প্রপোজ করার। এই কুকর্মটি করতে যার আবার দল বেঁধে যেতে হয়, এরা রাস্তার নেড়ি কুকুরের চাইতেও ভীতু, কুকুর তো তবু দূরে গিয়ে হলেও হাঁকডাক দেয়। এদের একটাই অস্ত্র- আপনি প্রতিবাদ না করে চেপে যাবেন এই বিশ্বাসটুকু।
Dear Sister, don’t give the bastard the pleasure.যে মুহুর্তে বুঝলেন কেউ আপনাকে বাজেভাবে স্পর্শ করছে, raise hell around you. Scream at the top of your voice.আগে থেকেই সতর্ক থাকুন কে করতে পারে আশেপাশে, তারপর আপনার গায়ে হাত দেয়ামাত্র ধরে ফেলুন। যদি দশ পনের জন একসাথে আসে, সবচেয়ে কাছে যেটাকে পাবেন ওটাকে দিয়ে শুরু করুন। Go completely insane
কোথায় কোথায় আঘাত করবেন বলে দেই:
চোখ: হাতের পাঁচ আঙুল দিয়ে থাবা বানিয়ে সর্বশক্তিতে গুঁতো দিন
নাক: হাতের তালু এবং কবজির সংযোগস্থল দিয়ে প্রচন্ড জোরে ধাক্কা দিন
অন্ডকোষ: লাত্থি মারুন, হাত দিয়ে সজোরে বাড়ি দিন।
হাঁটু: লাত্থি দিন যে কোন দিক দিয়ে
গলা: হাতটাকে ছুরির মত বানিয়ে প্রচন্ড জোরে আঘাত করুন।
ছবিতে বিস্তারিত দেখানো আছে, দেখুন।
মনে রাখবেন, নিজেকে রক্ষা করার পূর্ণ আইনগত অধিকার আপনার আছে( পেনাল কোড ধারা একশ দেখুন)। যে মুহূর্তে আক্রান্ত হচ্ছেন, মানবতা সভ্যতা ইত্যাদি ভুলে যান। এমন ধোলাই দিন যেন আর এ জীবনে কোন মেয়ের গায়ে হাত দেবার কথা দু:স্বপ্নেও না ভাবে।
আমার প্রশিক্ষক তমাল ভাই একটা মজার ঘটনা শেয়ার করেছেন। তাঁর এক ছাত্রী এরকম একসাথে দশ বারোজনের আক্রমনের শিকার হল। একটুও ভয় না পেয়ে সে রাস্তা থেকে একটা থান ইঁট তুলে নিয়ে চিৎকার করে বলল, “আয়, কে আগে মরতে চাস আয়”। মেয়েটির আক্রমণাত্মক মনোভাব দেখে সব কয়টা সুড়সুড় করে দৌড়!
আড়ালে আবডালে হাত দিয়ে স্পর্শসুখ নিতে চাওয়া কাপুরুষ থান ইঁটের বাড়ি খেতে চাইবেনা- এই সহজ সরল সত্যটা মনে রাখতে পারলেই আপনি নিজেই বুঝবেন কি করতে হবে।
চুলের কাঁটা, সেফটিপিন, আলপিন, চোখা পেনসিল- এগুলো দারুণ অস্ত্র বদমায়েশদের সাইজ দেবার। এগুলো কিছুই যদি না থাকে, দাঁত আর নখ তো আছে, তাইনা? কামড় দিয়ে গায়ের মাংসসুদ্ধো তুলে নিন, নখ দিয়ে আঁচড়ে ছিন্নভিন্ন করে দিন মুখমন্ডলের চামড়া।
When you’re attacked, DO NOT be civil. Be wild. Make the bastard realize that he messed with the wrong girl.
এবার নীচের বিষয়গুলো মাথায় রাখুন:
এক) মানসিক প্রস্তুতি নিন যে আপনার উপর আক্রমণ হতে পারে। ভীড়ে অসতর্ক থাকবেন না, চারপাশে ঘন ঘন নজর রাখুন। আপনার ঘন ঘন নজর রাখা অনেক পটেনশিয়াল বদমাশকে দূরে রাখবে
দুই) একসাথে চার পাঁচজন দল বেঁধে চলুন। যখন আক্রান্ত হবেন, অন্তত: একজন যেন দৌড়ে গিয়ে আশেপাশের লোক জড়ো করতে পারেন এটা মাথায় রাখবেন। নিজেরা নিজেরা আলোচনা করুন কে কি করবেন। ইটস অল এবাউট টিমওয়ার্ক।
তিন) হ্যারাসমেন্টের ভয়ে ঘরে বসে থাকাটা কোন সমাধান না। দুদিন পর এরা আপনার ঘরে ঢুকে আক্রমণ করবে যদি আজ আপনি এদের প্রশ্রয় দেন।
চার) আপনার “ইজ্জত” এত সস্তা না যে কেউ গায়ে হাত দিলে তা চলে যাবে। বরং এই অন্যায়ের প্রতিবাদ না করলে মানুষ হিসেবে আপনি নিজেই নিজের সম্মান বিকিয়ে দিলেন।
পাঁচ) “সমাজের” কথায় পাত্তা দেবেন না। যেই সমাজ সেক্সুয়াল হ্যারাসমেন্টের শিকার মেয়েটাকেই উল্টো বলে যে তার চলন বলন ঠিক নেই, সেই সমাজ একটা অপরাধী, হারামীমার্কা সমাজ। এর না আছে আপনাকে রক্ষা করার ক্ষমতা, না আছে আপনার দিকে আঙুল তোলার অধিকার।
আমি চাই এই পহেলা বৈশাখে বাংলার বাঘিনীরা জেগে উঠুক, আমার ইনবক্স ভরে যাক এই জেগে ওঠা বাঘিনীদের প্রতিবাদ গর্জনের গল্পে।
শেষ করছি রুডিয়ার্ড কীপলিং এর কবিতার প্রথম চার লাইন দিয়ে:
WHEN the Himalayan peasant meets the he-bear in his pride,
He shouts to scare the monster, who will often turn aside.
But the she-bear thus accosted rends the peasant tooth and nail.
For the female of the species is more deadly than the male.
প্রিয় পাঠিকা, জেনে রাখুন, যে কোন প্রজাতিতেই নারীটি পুরুষের চাইতে অনেক বেশি ভয়ংকর। শেষ হোক আপনাকে দমিয়ে রাখার দিন, আজই, এ মুহুর্ত থেকে
লেখক: জেনিফার আলম
ব্যুরো চীফ ঢাকা বিভাগ
www.ctgbarta24.com
সিটিজিবার্তা২৪ডটকম/জেনিফার/ এমকে
