শুক্রবার, ৮ জানুয়ারি, ২০১৬
নিজস্ব প্রতিবেদক, সিটিজিবার্তা২৪ডটকম
পটুয়াখালী : পটুয়াখালী জেলার অধিকাংশ ইটভাটায় অবৈধভাবে পোড়ানো হয় জ্বালানি কাঠ। ফলে ধ্বংস হচ্ছে উপকূলের সবুজ বেষ্টনী।
একটি ইটভাটায় প্রতি বছর গড়ে অন্তত আড়াই হাজার টন জ্বালানি কাঠ পোড়ানো হয়ে থাকে। ভাটাগুলোর এ জ্বালানি চাহিদা পূরণ করতে উজাড় হচ্ছে বনজ সম্পদ। কমে যাচ্ছে বনভূমি। ফলে পরিবেশ দুর্যোগঝুঁকির মধ্যে পড়ছে।
পরিবেশকে দুর্যোগ ঝুঁকিমুক্ত রাখতে মোট বনভূমির কমপক্ষে ২৫ শতাংশ বনভূমি থাকা প্রয়োজন, কিন্তু পটুয়াখালী জেলার মোট আয়তনের ১৪.০৬ শতাংশ বনভূমি রয়েছে যা খুবই অপর্যাপ্ত, বন বিভাগের একটি সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
পটুয়াখালী জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, জেলার আট উপজেলায় অনুমোদিত ইটভাটা রয়েছে ১২টি আর জেলা প্রশাসনের হিসাব অনুযায়ী ইটভাটা রয়েছে ৩২টি। কিন্তু জেলায় কমপক্ষে ৮০টি ভাটায় ইট পোড়ানো হচ্ছে। অর্থাৎ অননুমোদিত ৭৮টি ভাটায় ইটপোড়ানো হচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি ইটভাটার ফায়ারম্যান জানিয়েছেন, একটি ইটভাটায় প্রতি রাউন্ড ইট পোড়াতে গড়ে ৩০০ টন জ্বালানি কাঠ দরকার আর ডিসেম্বর থেকে এপ্রিল পর্যন্ত ইটপোড়ানো মৌসুমে প্রতিটি ইটভাটায় কমপক্ষে আট রাউন্ড ইটপোড়ানো হয়। এভাবে একটি ভাটায় বছরে গড়ে ২ হাজার ৪০০ টন জ্বালানি কাঠ পোড়ানো হয়। এ হিসাবে পটুয়াখালীর ৮০টি ভাটায় বছরে প্রায় ২ লাখ টন জ্বালানি কাঠ পোড়ানো হয়।
ইটভাটাগুলোর এ চাহিদা পূরণ করতে সংরক্ষিত বনাঞ্চল, ব্যক্তিগত বনজ সম্পদের ওপর প্রচ- চাপ পড়ছে। অথচ প্রচলিত আইন অনুসারে ইটভাটায় জ্বালানি কাঠ ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
পটুয়াখালী সদর উপজেলার একটি ইটভাটার মালিক জানান, কয়লা সংকটের কারণে তারা ইটভাটায় জ্বালানি কাঠ পোড়াতে বাধ্য হচ্ছেন।
জেলার গলাচিপা উপজেলার ইছাদী গ্রামের একটি ইটভাটা সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, ইটপোড়ানোর জন্য গাছ স্তূপ করে রাখা হয়েছে।
গলাচিপা উপজেলার বাদুরা এলাকার জনৈক ব্যক্তি জানান, তার কৃষিজমি ও বসতবাড়ির পাশে একটি ইটভাটা তৈরি করায় কৃষি উৎপাদন ও ফলজ উৎপাদন কমে যাচ্ছে। আগে প্রতি একর জমিতে ৩০-৩৫ মণ ধান উৎপন্ন হলেও এবারে সেখানে ২০-২৫ মণ ধান পাওয়া গেছে। আর বসতবাড়ির বিভিন্ন ফলদ গাছ যেমন আম, কাঁঠাল, নারিকেল গাছের ফলনও ক্রমশ কমে যাচ্ছে।
পরিবেশ অধিদপ্তরের বরিশাল বিভাগীয় পরিচালক সুকুমার বিশ্বাস জানান, অবৈধ ইটভাটাগুলোর বিরুদ্ধে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে এবং কোনো অনিয়ম পরিলক্ষিত হলে তা ধ্বংস করা হচ্ছে।
পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের ডিন আ ক ম মোস্তফা জামান জানান, ‘দেদারছে বনজ সম্পদ ধ্বংসের ফলে দেশে বনভূমির পরিমাণ কমে যাচ্ছে, যা দুর্যোগঝুঁকি বাড়াচ্ছে। পরিবেশকে বাসযোগ্য, ঝুঁকিমুক্ত রাখতে বনজ সম্পদ সংরক্ষণে সরকারের কঠোর নজরদারির পাশাপাশি সামাজিক ও নাগরিক সচেতনতা বৃদ্ধি প্রয়োজন বলে মনে করেন এ পরিবেশ বিশেষজ্ঞ।
