‘নো টু ড্রাগ, ইয়েস টু ক্রিকেট’ স্লোগানে ইকবাল মেমোরিয়াল ক্রিকেট টুর্নামেন্ট
বৃহস্পতিবার, ৭ জানুয়ারি, ২০১৬
মাহাবুবুল করিম , সিটিজিবার্তা২৪ডটকম

সংবাদ সম্মেলন শেষে চাচা আকরাম খান ও বড় ভাই নাফিস ইকবাল এবং পরিবারের সদস্যদের সাথে তামিম ইকবাল| ছবি : সিটিজিবার্তা২৪ডটকম
চট্টগ্রাম ঃ ‘নো টু ড্রাগ, ইয়েস টু ক্রিকেট’ এমন স্লোগানকে সামনে রেখেই শুরু হচ্ছে ইকবাল মেমোরিয়াল ক্রিকেট টুর্নামেন্ট। আপাতত চট্টগ্রামের একাডেমিগুলোর সমন্বয়েই হবে প্রথম আসরটি। চট্টগ্রাম একাডেমিরগুলোর অনূর্ধ্ব-১৩, অনূর্ধ্ব-১৫ ও অনূর্ধ্ব-১৮ ক্রিকেটারদের নিয়ে আগামী ফেব্রুয়ারির ২য় সপ্তাহ থেকে শুরু হতে পারে ইকবাল মেমোরিয়াল ক্রিকেট টুর্নামেন্টটি।
বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে ‘নির্মাণ স্কুল ক্রিকেট’-এর অবদান অশেষ। এক সময় নির্মাণ স্কুল ক্রিকেট খেলেই ক্রিকেটের পথে স্বপ্ন দেখা শুরু করতেন উদীয়মান ক্রিকেটাররা। সেই নির্মাণ স্কুল ক্রিকেট এখন নেই। তামিমের স্বপ্ন ওই নির্মাণ স্কুল ক্রিকেটের মতোই কিছু করার। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমার পরিকল্পনা অনেকটা নির্মাণ ক্রিকেটের মতো। ওখান থেকে খেলে যারা নতুন পথ পেতো সেভাবেই সবকিছু করতে চাই। এটা মাত্র শুরু, পরিকল্পনা অনেক থাকবে।’
যার নামে এই ক্রিকেট টুর্নামেন্ট শুরু হচ্ছে তিনি তামিম ইকবালের বাবা ইকবাল খান। তিনি একসময় ছিলেন বাংলাদেশের নামী একজন ফুটবলার। নিজে খেলেছেন, আবার কোচ হিসেবে তার হাতেই গড়ে উঠেছেন অনেক নামী ফুটবলার। নিজে ফুটবল খেললেও তিনি চাইতেন পরিবারের অন্যরা ক্রিকেটে মনোযোগ দিক। তার চাওয়া যে পূর্ণ হয়েছিল, তার প্রমাণ তো ছোট ভাই আকরাম খান আর ছেলে নাফিস ইকবাল ও তামিম ইকবাল।
একসময় জাতীয় দলে চট্টগ্রামের ক্রিকেটার প্রতিনিধিত্ব করতো বেশ কয়েকজন। আর বর্তমানে শুধু একজনই। তিনি তামিম ইকবাল। তামিমের পর বন্দর নগরী থেকে আর কেউ ব্যাট-বলের দ্যুতি ছড়িয়ে আগামী দিনের তারকা হওয়ার সম্ভাবনা জাগাতে পারেননি। এ কারণেই চট্টগ্রামের ক্রিকেটের উন্নয়নের দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছেন তামিম ইকবাল খান।

চট্টগ্রাম বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক মো: আলমগীরের সাথে টুর্ণামেন্ট নিয়ে আলাপ আলোচনা করছেন তামিমের দুই চাচা এবং একাডেমীর কোচবৃন্ধরা উপস্থিত ছিলেন| ছবি : সিটিজিবার্তা২৪ডটকম
সর্বশেষ জাতীয় লিগে চট্টগ্রামের হয়ে খেলতে গিয়েই তার এমন উপলব্ধির কথা সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন। যা দ্রুত বাস্তবায়ন করতে চলেছেন| স্বপ্নটা অনেক বড় দেখছেন তামিম। তাইতো আস্তে ধীরে করে সেই পথে এগিয়ে যেতে চান তিনি।
নিজের উদ্দেশ্য সম্পর্কে তামিম বলেন, ‘চট্টগ্রামের ক্রিকেটের উন্নতির জন্য আমি এই ধরনের টুর্নামেন্ট আয়োজন করতে চাচ্ছি। তবে অনেক ধরনের টুর্নামেন্টই হয় এবং হচ্ছে। তবে আমি চাচ্ছি, আমার এই টুর্নামেন্টের একটা মান থাকবে। যেমন বিপিএলে একটি মান আছে। সবাই জানে এখানে ভালো খেললে সামনে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পাওয়া যাবে। ঠিক তেমন ভাবেই আমি এই টুর্নামেন্টেও মান বাড়াতে চাচ্ছি। যাতে করে সবার ফোকাস এখানে থাকে। এই কারণে এই টুর্নামেন্টে আন্তর্জাতিক কিছু নিয়ম অন্তর্ভূক্ত করা হবে। আরও কিভাবে মান বাড়ানো যায় সে বিষয়েও চিন্তা ভাবনা করছি আমরা।’
চট্টগ্রামের একাডেমিগুলোর তরুণ ক্রিকেটারদের নিয়ে ৩টি টুর্নামেন্ট আয়োজন করার আপাতত পরিকল্পনা জাতীয় দলের এই ওপেনারের। অনূর্ধ্ব-১৩ দলের টুর্নামেন্টটি হবে ৩০ ওভার এবং অনূর্ধ্ব-১৫ দলের টুর্নামেন্টটি হবে ৪০ ওভারের। এছাড়া অনূর্ধ্ব-১৮ দলের টুর্নামেন্টটি হবে ২ দিনের ম্যাচ। শুধুমাত্র ফাইনাল ম্যাচটি হবে ৩ দিনের।
এ প্রসঙ্গে তামিম বলেন, ‘আমাদের ঘরোয়া টুর্নামেন্টে তরুণরা এ ধরনের ম্যাচ খুবই কম খেলার সুযোগ পায়। আশা করি এখান থেকে তারা অনেক ভালো কিছু শিখতে পারবে।’
তামিম ইকবাল গতো ৩০ ডিসেম্বর বুধবার সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছিলেন ইতোমধ্যেই টুর্নামেন্টের প্রাথমিক কাজগুলো শেষ হয়েছে। সব কিছু পরিকল্পনা মাফিক হলে আগামী ২৫ জানুয়ারি সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে সব কিছু জানানো সম্ভব হবে। তবে চট্টগ্রামের একাডেমিগুলোর সঙ্গে নিজেদের কথাবার্তা চূড়ান্ত হয়েছে বলে জানান তামিম।

বড় ভাই নাফিস ইকবালের রেস্টুরেন্ট ডামপুকে চট্টগ্রাম কোচেস এসোসিয়েশন এর কর্মকর্তাদের সাথে টুর্ণামেন্টের সফলতা ও নানান বিষয়াদি নিয়ে মিটিং শেষে তামিম ইকবাল| ছবি সিটিজিবার্তা২৪ডটকম
কোন বিভাগে কতগুলো দল খেলবে তাও চূড়ান্ত। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমাদের লোগোর কাজ ইতোমধ্যে হয়ে গেছে। চট্টগ্রামের একাডেমিগুলোর সঙ্গে আমাদের কথা বার্তা হয়ে গেছে। অনূর্ধ্ব-১৩ বিভাগে ৮টি দল, অনূর্ধ্ব-১৫ বিভাগে ৮টি দল এবং অনূর্ধ্ব-১৮ বিভাগে ৬টি দল প্রথম বার অংশ নেবে।’
নিজের দায়িত্ববোধ থেকেই এমন একটি উদ্যোগ নিচ্ছেন তামিম ইকবাল। বলেন, ‘আমি আমার দায়িত্ববোধ থেকেই কিছু করতে চাই। আমি যেহেতু চট্টগ্রাম থেকে এসেছি, এই চট্টগ্রামের জন্য কিছু করা আমার দায়িত্ব। আমার আব্বাকে যারাই চিনেন তারা জানেন সে খেলার প্রতি কতটা অনুরাগী ছিলেন। আমি জাতীয় লিগে খেলার সময় চট্টগ্রামের ক্রিকেটারদের অভাব বুঝতে পারি। আমাদের ত্রুটিগুলো অনেক বড়। কিছু একটা করাই লাগতো চট্টগ্রামের ক্রিকেটকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য।’

সিজেকেএস কার্যালয়ে খেলোয়াড়দের ডাক্তারি পরিক্ষা করে বাছাই করা হচ্ছে| সেসময় উপস্থিত ছিলেন বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার সহ-সভাপতি আলী আব্বাস, তামিমের চাচা সাবেক ক্রিকেটার আকবর খান ও ইকবাল মেমোরিয়াল ক্রিকেট টুর্ণামেন্টের আহবায়ক বিভাগীয় কোচ মোমিনুল হক| ছবি : সিটিজিবার্তা২৪ডটকম
প্রথমবারের মতো চট্টগ্রামে আয়োজন করলেও এখানেই থেমে থাকতে চান না তামিম ইকবাল। সামনে পুরো বাংলাদেশের ক্রিকেট একাডেমিগুলো নিয়ে কাজ করতে চান তিনি। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এটি শুধু প্রথম একটি ধাপ। আমার ইচ্ছে দ্বিতীয় কিংবা তৃতীয় বছর পুরো বাংলাদেশের একাডেমি নিয়ে এমন আয়োজন করতে চাই। আমি মান বাড়িয়ে টুর্নামেন্ট করতে চাই। একটা টুর্নামেন্ট করলাম হয়ে গেলো এমন চাই না। আমি এমন একটা টুর্নামেন্ট করতে চাই যেখানে ভালো খেললে পরবর্তীতে আরও ভালোর সুযোগ থাকবে। অনেক কিছুই আসলে পরিকল্পনায় আছে। সময়মতো সব কিছুই জানানো হবে।’
টুর্নামেন্ট কমিঠির আহবায়ক বিভাগীয় কোচ মোমিনুল হক সিটিজিবার্তা২৪ডটকম কে বলেন, আমরা অনূর্ধ্ব ১৩ এবং ১৫ ক্যাটাগরির দলগুলোর নিবন্ধন এবং খেলোয়াড় বাছাই কার্যক্রম সম্পন্ন করেছি। টুর্নামেন্ট শুরু করার সকল প্রাথমিক কার্যক্রম ইতোমধ্যেই আমরা শেষ করেছি। ফেব্রুয়ারিতে আমরা সবকিছু ঠিকভাবে থাকলে ইনশাল্লাহ খেলা শুরু করতে পারবো। অলরেডি আমরা গতোকাল অংশগ্রহণকারী সকল দলগুলোর খেলোয়াড়দের অভিজ্ঞ ডাক্তারদ্বারা মেডিকেল চেকআপ সম্পন্ন করেফেলেছি|

অংশগ্রহনকারী দলগুলোর খেলোয়াড়দের ডাক্তারি পরীক্ষার আগে এভাবে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন| ছবি : সিটিজিবার্তা২৪ডটকম
অনূর্ধ্ব ১৩ বিভাগে অংশগ্রহণকারী ৮ টি দলসমূহ হচ্ছে ব্রাদার্স ক্রিকেট একাডেমী , ব্রাইট একাডেমী , ইস্পাহানি, জেসিটিএ, উদীয়মান, চট্টগ্রাম ক্রিকেট একাডেমি, এস এস ক্রিকেট এবং আফতাব আহম্মেদ ক্রিকেট একাডেমি।
অনূর্ধ্ব ১৫ বিভাগে অংশগ্রহণকারী দলগুলো হচ্ছে পোর্ট সিটি, রাইজিং স্টার , নিও ক্রিকেট একাডেমী , মিলেনিয়াম একাডেমী , ব্রাদার্স, ব্রাইট, ইস্পাহানি, জেসিটিএ ক্রিকেট একাডেমি।

